বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

গড়তে চাই নতুন ও নিরাপদ বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
সবাইকে নিয়ে আগামী দিনের নতুন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত গণমানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি এবং ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষের জন্য শান্তির নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াই আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এসময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাতটি রাজনৈতিক দলের নেতারা সাক্ষাৎ করেন। বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে বিজেপির আন্দালিভ রহমান (পার্থ), গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, আমজনতার মিয়া মসিউজ্জামান, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জন অধিকার পার্টির ইসমাইল হোসেন, নেজামে ইসলাম পার্টির এ কে এম আশরাফুল হক ও গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের হারুন চৌধুরী নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দেন। পরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন।

মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, ‘আমরা চিন্তার জায়গা থেকে মনে করি আগামী দিনের নিরাপদ উদার ও নতুন বাংলাদেশ গড়তে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মাধ্যমেই কেবল সম্ভব।

তাই ২০২০ সাল থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে ছিল বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশে সৃষ্ট নতুন উত্তেজনা ও সংকটে অনেক ইসলামি দল যখন ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছে, এমন নতুন সমস্যায়ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ও নেতা হিসেবে তারেক রহমানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে।’ 

ডিআরইউ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় : গতকাল দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এসময় তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের রাজনীতি হতে হবে পলিসিনির্ভর।

রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ির পরিবর্তে উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে কার কী নীতি থাকবে এবং তা কিভাবে বাস্তবায়নে করা হবে সেসব বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া উচিত।তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।’ 

আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যানজটসহ সব নাগরিক সমস্যার সমাধানে দেশিবিদেশি পেশাদার বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বিএনপি।’ পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদন এবং দেশকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান ঢাকার চারপাশে স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এসব স্যাটেলাইট সিটির সঙ্গে ঢাকার ট্রেন যোগাযোগ থাকবে, যেখানে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে যাতায়াত সম্ভব হবে।

এতে রাজধানীর ওপর চাপ অনেকাংশে কমে আসবে।’ তিনি পুরান ঢাকাকে আরো বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান। 

এ ছাড়া বুড়িগঙ্গাকে লন্ডনের টেমস নদীর আদলে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বুড়িগঙ্গার তলদেশে জমে থাকা পলিথিন উত্তোলন করে প্রায় ২ ফুট খনন করা গেলে নদী তার আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের সুযোগ পেলে কৃষির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করবে বিএনপি।’ তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করার সময় এখনই। সব নাগরিকের তার যথাযোগ্য মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কেন্দ্র করে কোনো কোনো দলের সদস্যরা গ্রামের নারীদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। আমরা চাই সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে। জনগণ যাকে ভোট দেবে সে ক্ষমতায় আসবে। আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশ গঠনে দায়িত্ব পেলে সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।’ তবে তিনি আশা করেন, ফ্যামিলি কার্ডটি মূলত দরিদ্র পরিবারের সদস্যরাই ব্যবহার করবেন। যার দরকার হবে না বা যিনি সচ্ছল তিনি এ কার্ড নিজেই ব্যবহার করবেন না। স্বাধীন গণমাধ্যমের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারলে গণমাধ্যম পুরো স্বাধীনতা ভোগ করবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করবে বিএনপি সরকার।’

সাক্ষাৎ শেষে ডিআরইউর পক্ষ থেকে আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত থাকার জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এসময় ডিআরইউর শুভেচ্ছা স্মারক ও প্রকাশনা সামগ্রী তাঁর হাতে তুলে দেন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস : রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানান, আহতদের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তারেক রহমান। গাড়ি থেকে নেমে তিনি সরাসরি স্বজনদের কাছে যান এবং তাদের দুর্দশার কথা শোনেন। সাক্ষাৎকালে হতাহত শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের হাতে বিভিন্ন দাবিদাওয়া সংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।

তারেক রহমান গভীর মনোযোগ দিয়ে প্রত্যেকের কথা শোনেন এবং শোকার্ত পরিবারগুলোকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন। এমনকি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবিদাওয়া পূরণে কাজ করবে, এমন অঙ্গীকারও করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ৩৫ জন নিহত এবং বহু শিক্ষার্থী আহত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102