রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের সহ-অর্থ সম্পাদক হলেন বদরুল আলম মজুমদার শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ড সংস্কারের চুক্তি বাতিল, নিষ্ক্রিয় হতে পারে ৪টি কূপ দিনাজপুরে হঠাৎ ঘন কুয়াশা, জনজীবন ব্যাহত উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে পুতিনের সাক্ষাৎ খুব বিপদে আছি : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বাঞ্ছারামপুরে গণসংযোগে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানালেন জোনায়েদ সাকি ‘বাংলাদেশে ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণে উচ্চমানের রিইনফোর্সমেন্ট বারের ভূমিকা’ বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরধারী গ্রিন ফ্যাক্টরি ‘হ্যামস গার্মেন্টস’কে বিজিএমইএ এর বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান ২৪ বছর পর খুলনায় আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্বাবলম্বীর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক নির্বাহী পরিচালক বেগম রোকেয়া ইন্তেকাল করেছেন

রাত হলেই মাটিখেকোদের থাবা পড়ে লাল টিলায়

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা, তরফপুর, লতিফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বেশ কয়েকটি লাল মাটির টিলা। এসব টিলায় পড়েছে মাটিখেকোদের থাবা। সেখানকার লাল মাটি কেটে বিক্রি, আবাসস্থল গড়ে তোলাসহ নানা স্বার্থে নির্বিচারে কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে এসব টিলা।স্থানীয়রা জানায়, রাত হলেই টিলা কাটার ধুম পড়ে যায়।বেশির ভাগ টিলা বনাঞ্চলে ঢাকা থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা টেরও পায় না। গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি টিলা কেটে সমতল করা হয়েছে। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ থাকলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও পারছে না। প্রভাবশালী মহলটি ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে টিলার লাল মাটি কেটে সাবাড় করছে।এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ সড়ক ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকিতে পড়ছে।গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সরেজমিনে উপজেলার লতিফপুর, তরফপুর ও ফতেপুর ইউনিয়নে গিয়ে জানা যায়, দুই সপ্তাহ ধরে দিনরাত সমানতালে ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন দিয়ে কাটা হচ্ছে পাহাড়ি টিলার লালমাটি ও নদীপাড়ের বালি মাটি। এসব মাটি বড় বড় ড্রাম ট্রাকে করে পরিবহন করায় গ্রামীণ পাকা সড়ক নষ্ট হচ্ছে। জমির মালিক ও মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল অফিস একাধিক মামলা করে।আইনকে পরোয়া না করে মামলার আসামি হয়েও থামেনি তাদের মাটি কাটা।লতিফপুর ইউনিয়নের কদমা রাধারচালা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রায় দুই একর জমির টিলার লাল মাটি কেটে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে তরফপুর ইউনিয়নের তরফপুর পূর্বপাড়া রাখেরচালায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৪০ ফুট উচ্চতার একটি টিলা কাটা হচ্ছে। ছয় একর জমির টিলাটি কেটে এর লাল মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয়রা। এছাড়া মাটি কাটার জন্য টিলার ওপর রোপণ করা আম, কাঁঠাল ও দুই শতাধিক আকাশমনি গাছের চারা কেটে ফেলা হচ্ছে।এসব টিলার মাটি ভারী ড্রামট্রাকে পরিবহন করায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে ইট সোলিং এবং প্রায় ছয় কিলোমিটার পাকা সড়ক ভেঙে কাঁচা সড়কে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। মাটিভর্তি ড্রাম ট্রাক চলাচল করায় সড়কের পাশের বাড়িঘর, সবজি ও ফসলি জমি ধুলায় ঢেকে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ছে।উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এভাবে টিলা ও নদীর পার ধ্বংস করা হলেও প্রশাসনের তেমন কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে বেশি। ফলে পাহাড় ধসের ঘটনা বাড়ছে। অন্যদিকে, পাহাড়ের শক্ত ভীত দুর্বল হচ্ছে। উজাড় হচ্ছে গাছপালা, ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে টিলা কাটা বন্ধের নির্দেশনাও রয়েছে।
তিন বছরে ধ্বংস হয়েছে অন্তত ২০ টিলা
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে আজগানা, গোড়াই, বাঁশতৈল, তরফপুর ও লতিফপুর ইউনিয়ন টিলাবেষ্টিত। এক সময় এসব এলাকায় বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চলের মধ্যে ছিল শতশত উঁচু টিলা।এছাড়া এই বনাঞ্চল শাল ও গজারিসহ নানা জাতের ফলজ এবং ঔষধি গাছে ভরপুর ছিল। প্রতিবছর এ অঞ্চলে মাটি কারবারিরা অবৈধভাবে টিলা কেটে ইটভাটায় মাটি  বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গত তিন বছরে উপজেলার আজগানা, বাঁশতৈল, তরফপুর ও লতিফপুর ইউনিয়নে অন্তত ২০টি টিলা কেটে সমতল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা আরো জানায়, চলতি বছর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকায় সুজন শহিদুল, তরফপুর ইউনিয়নের তরফপুর পূর্বপাড়া এলাকায় রাখের চালায় ইলিয়াসের নামে রোকন, বাঁশতৈল ইউনিয়নে বাঁশতৈল এলাকায় শহিদুল দেওয়ান, অভিরাম এলাকায় সাহাদত হোসেন সাদাত, লতিফপুর ইউনিয়নের বান্দাচালা গ্রামে নোয়াব আলী লাল মাটি কেটে বিক্রি করছেন।

মাটি কারবারি শহিদুল দেওয়ান স্বীকার করে জানান, বাঁশতৈল এলাকায় মাটি কাটছেন তিনি। এছাড়া অভিরাম এলাকায় শাহাদত হোসেন সাদাত, তরফপুর রাখের চালা এলাকায় রোকন তার চাচা ইলিয়াসের নামে টিলার মাটি কাটছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রোকন দাবি করেন, তিনি এ বছর মাটির কারবারি  করছেন না। ইলিয়াস নামের একজনের কাছে তার ভেকু মেশিন ও দুটি ড্রাম ট্রাক ভাড়া দিয়েছেন। এছাড়া তেলিনা এলাকায় সুজন ও শহিদুলের কাছেও ড্রামট্রাক ভাড়া দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় তরফপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ রেজা বলেন, গ্রামীণ পাকা সড়ক ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। জনগণ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। টিলা কাটা ও গ্রামীণ সড়কে মাটি পরিবহন বন্ধ করা প্রয়োজন।

পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সূত্রধর বলেন, মির্জাপুরে টিলার লাল মাটি কাটায় ২০২৪ সালে অভিযান চালিয়ে জমির মালিক ও লাল মাটি বিক্রেতাদের আসামি করে কয়েকটি মামলা করেছি। বর্তমানে মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তারেক আজিজ বলেন, ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে ভেকু মেশিন ও কয়েকটি ড্রামট্রাক আটক করে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত মাটি কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102