বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। গতকাল বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রেসসচিব সালেহ শিবলী এবং ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকার কানাডিয়ান হাইকমিশনার অজিত সিং।
ইইউ রাষ্ট্রদূতদের সাক্ষাৎ : তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতরা। গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্ব ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত জার্মান, ফ্রান্স, সুইডেন, ডেনমার্ক, স্পেন ও ইতালির রাষ্ট্রদূতরা বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ড. মাহদী আমিন ও প্রেসসচিব সালেহ শিবলী।
মানুষকে ভালো রাখার রাজনীতি করতে চাই : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দোষারোপের রাজনীতি করলে মানুষের পেট ভরবে না। রাজনীতিকে শুধু স্লোগান, মিছিল, মিটিংয়ে সীমাবদ্ধ করতে চাই না। মানুষের উপকারের জন্য রাজনীতি করতে হবে।
যে কাজ করলে মানুষ ভালো থাকবে, সেই কাজগুলো আমরা করতে চাই। যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সাদা গায়ের রং (অ্যালবিনিজম রোগে আক্রান্ত) নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু আফিয়া ও তার মা মনিরা খাতুনকে প্রতিশ্রুত নতুন ঘর (সেমিপাকা) হস্তান্তর উপলক্ষে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল আফিয়াদের নতুন বাড়িতে বেলা ২টার দিকে এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিশু আফিয়ার অতিরিক্ত ফরসা রং নিয়ে জন্ম নেওয়ার পরপরই তার বাবা সন্দেহবশত আফিয়ার মাকে তালাক দিয়ে বিদেশে চলে যান। এরপর শিশু আফিয়াকে নিয়ে তার মা চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে থাকেন।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তা লন্ডনে থাকা অবস্থায় তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি সেখান থেকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে আফিয়ার পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন ও তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে বলেন। সে অনুযায়ী আফিয়াদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামে এক টুকরা জমিতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। সেই ঘরটিই গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ঢাকা থেকে সরাসরি যুক্ত হন তারেক রহমান। এ সময় আফিয়াদের বাড়িতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর জেলা ও মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তারেক রহমান বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে কিছু কাজ করেছে। এগুলোও প্রয়োজনীয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কাজই হয়তো করতে পারেনি। আফিয়ার মতো যত সন্তান আছে, আফিয়ার মায়ের মতো যত অসহায় মানুষ আছে, তারাও এ দেশেরই সন্তান। তাদের নিয়েও আমাদের চিন্তা করতে হবে।
জনগণের ভোটে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি দেশ ও দেশের মানুষকে কিভাবে এগিয়ে নেবে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন তারেক রহমান। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানি ভাতা প্রদানের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে আফিয়ার মায়ের মতো গ্রামের দুস্থ পরিবারগুলোর পাশে আমরা দাঁড়াতে চাই। সে জন্যই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করেন। বেশির ভাগই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। কৃষক ভালো থাকলে, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পেলে দেশ ভালো থাকবে। তাই উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষককে ভালো রাখতে আমরা কৃষক কার্ড দেওয়ার প্রকল্প নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় খাল কাটা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানো সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানিসংকটে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি খাল কাটা কর্মসূচি আবারও শুরু করা হবে বলে জানান। তারেক রহমান বলেন, গ্রামের কোটি কোটি মানুষ ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। এ জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দেশে নারী শিক্ষার বিস্তার ঘটানো হয়েছিল। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে আমাদের। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে না পারলে দেশকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যাবে না। তারেক রহমান বলেন, মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানি ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। তারা যেন আত্মসম্মান নিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে বসবাস করতে পারেন।