বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক একটি জটিল সন্ধিক্ষণে রয়েছে। বিশ্ববাজারের মন্দা ভাব, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের মধ্যে যখন শিল্পকে কোণঠাসা করা হচ্ছে, ঠিক তখনই সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের মতো এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশে প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পোশাক শিল্পকে চরম সংকটে ফেলবে বলে সতর্ক করেছেন বিজিএমইএ-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, সুতা আমদানিতে একতরফা শুল্ক আরোপ রপ্তানি ও কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য মারাত্মক বিপর্যয়কর। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিশীলতা, কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতি, সবকিছুই মূলত পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।
আয়োজনে সেলিম রহমান অভিযোগ করে বলেন, ট্যারিফ কমিশন পোশাক শিল্পের স্বার্থকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি সরাসরি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ‘সেফগার্ড চুক্তি’এর লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো রক্ষণশীল শুল্ক আরোপের আগে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পে সিরিয়াস ইনজুরি প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু এখানে তা হয়নি।
সেলিম রহমান আরও বলেন, স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো যথাযথ পরিমাণ ও সময়মতো উচ্চমানের সুতা সরবরাহ করতে সক্ষম নয়। যদি আমদানির বিকল্প রুদ্ধ থাকে, তাহলে স্থানীয় সরবরাহকারীরা দাম ও সরবরাহ নির্ধারণে একচেটিয়া ক্ষমতা পাবে, যা রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিপজ্জনক। বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ে ২.৬৩% হ্রাস পেয়েছে এবং শুধু ডিসেম্বর মাসে তা ১৪.২৩% কমেছে।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়। এছাড়াও বস্ত্রখাতকে সুরক্ষা দিতে হলে সরাসরি নগদ সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা, জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা, কর ছাড় ও সহজ ঋণের ব্যবস্থার ওপর বক্তব্য রাখেন নেতারা।