তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপসহীন নেত্রী এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তিনি ছিলেন আমাদের পোশাক শিল্পের সত্যিকারের বন্ধু। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন এই শিল্প শৈশবকাল পার করছিল, তখন তিনি বড় বড় সুযোগ–সুবিধা ও নগদ প্রণোদনা দিয়ে আমাদের পথচলা সহজ করে দিয়েছিলেন। তাঁর সরকারের সময়কালে পোশাক রপ্তানি প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে।
এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।
আজ (সোমবার) বিকাল ৪টায় উত্তরার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদান রয়েছে জানিয়ে সেলিম রহমান বলেন, ২০০৪ সালে কোটা প্রথা বিলুপ্তির সংকটময় সময়ে বেগম খালেদা জিয়া ‘জাতীয় কো–অর্ডিনেশন কমিটি‘ গঠন করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যার ফলে আমাদের শিল্প আজ বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, বিজিএমইএ এর ওপর আস্থা রেখে বেগম খালেদা জিয়া ইউডি ও ইউপি দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। যা ব্যবসার গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রবর্তন, ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় কমানো, ব্যবসা সহজীকরণ, এবং নারী শিক্ষায় উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে বেগম জিয়া এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন।

ছবি: বেগম খালেদা জিয়ার শোকসভায় বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।
আয়োজনে বক্তব্য রাখা বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দীর্ঘ পথচলায় বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য ও আপসহীন অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বিজিএমইএ এর পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনীর সঞ্চালনায় আয়োজনটিতে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত বিশেষ ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওতে দেশের অর্থনীতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বিশেষ করে পোশাক শিল্পের প্রসারে তাঁর গৃহীত যুগান্তকারী পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরা হয়।
আলোচনা সভা শেষে বেগম জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
শোকসভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সিনিয়র সহ–সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ–সভাপতি মোঃ রেজোয়ান সেলিম, সহ–সভাপতি (অর্থ)মিজানুর রহমান, সহ–সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক মোঃ হাসিব উদ্দিন, সুমাইয়া রোজালিন ইসলাম, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, নাফিস– উদ– দৌলা, ফাহিমা আক্তার, মজুমদার আরিফুর রহমান, শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, এ.বি.এম. সামছুদ্দিন, মোহাম্মদ সোহেল, সামিহা আজিম, সাধারণ সদস্যবৃন্দ এবং পোশাক খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।