ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি ‘ফোর্ট তিউনা’র বেডরুম থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে মার্কিন বিশেষ বাহিনী। খবর সিএনএন’র।
অভিযান সম্পর্কে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মাদুরো একটি দুর্গের ভেতরে ছিলেন। কোনো মার্কিন সেনা নিহত না হওয়াকে আশ্চর্যজনক উল্লেখ করে তিনি জানান, কয়েকজন সেনাসদস্য সামান্য আহত হলেও তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আটককৃত মাদুরো ও ফ্লোরেসকে মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
কারাকাসের বাসিন্দারা অভিযানের সময় অন্তত সাতটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এই হামলায় দেশটির বেশ কয়েকজন সামরিক সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি উল্লেখ করেননি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেছেন যে ভেনেজুয়েলা পরিচালনার দায়িত্ব এখন থেকে মার্কিন প্রশাসন গ্রহণ করবে এবং ইতিমধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং মাদুরোর দৈনন্দিন রুটিনের ওপর কয়েক সপ্তাহের নিবিড় নজরদারির পরই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হলো। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, অভিযানের আগে মাদুরোকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। বিশেষ করে মাদক পাচার বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাওনা তেল ফেরত দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকেই মার্কিন প্রসিকিউটররা মাদুরোর বিরুদ্ধে একটি অপরাধী চক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার এবং কোকেন পাচারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে আসছিল।