রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে কারাবরণকারীদের বীর সম্মাননা স্মারক প্রদান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে অতীতের গ্লানি ভুলে নতুন উদ্যমে পর্যটন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে হবে – এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত খেলাধুলার চর্চায় ঐক্যবদ্ধ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাজ গড়ার আহ্বান: শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশকে প্রযুক্তির উৎপাদক-রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করতে হবে সকল কর্মকর্তাদের নিজ বাসভবনে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের উৎসাহ দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী উৎসবমুখর কালীগঙ্গায় নৌকা বাইচ, যৌথ চ্যাম্পিয়ন একতা-২ ও কালাম এক্সপ্রেস শিশুদের শিক্ষা ও কল্যাণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে— ত্রাণ মন্ত্রী ​বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক অবস্থা —আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী টঙ্গীতে গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট টঙ্গীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার বাড়ির সামনে ১০টি ককটেল, নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ

চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, ৪ লাখ টাকায় আপস

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬

ভৈরবে বেসরকারি ট্রমা হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় ঝুমা বেগম (২০) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ঝুমা বেগম ভৈরব উপজেলার কালিপুর দক্ষিণ পাড়ার কুদ্দুস মিয়ার মেয়ে এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকার মো. তৌফিক মিয়ার স্ত্রী।  মাত্র দেড় বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির এটিই ছিল প্রথম সন্তান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকালে প্রসব বেদনা শুরু হলে ঝুমাকে স্থানীয় ভৈরব ট্রমা এন্ড জেনারেল হাসপাতাল (প্রা:) ভর্তি করা হয়।  ভর্তির পর রোগীকে কোন প্রকার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রাত ৮টার দিকে তড়িঘড়ি করে অস্ত্রোপচার (সিজার) করেন ডা. হরিপদ দেবনাথ।  ঝুমা একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেও অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণ পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

নিহতের স্বজনরা জানান, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের ভুলে রোগীর জরায়ু কেটে ফেলায় অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়।  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাতভর ৮ ব্যাগ রক্ত দিলেও রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা ও চরম অবহেলার কারণেই আমার ভাতিজির মৃত্যু হয়েছে। অবস্থা খারাপ হওয়ার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে ঢাকায় রের্ফাড করেন। তখন আর করার কিছু ছিল না।

এই দিকে নিহতের স্বজনরা ঢাকা থেকে লাশটি নিয়ে বিকাল ৫টায় ভৈরব থানার সামনে উপস্থিত হন। এ সময় ২ ঘন্টার বেশি সময় থানার গেইটে সামনে লাশটির এম্বোলেন্স দাড়াঁনো থাকে। এক পর্যায়ে থানার গেটে লাশ রেখে হাসপাতাল মালিকদের পক্ষে একটি প্রভাবশালী মহলের মধ্যস্থতায় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিহতের স্বজনদের মধ্যে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে রফাদফা হয়।

বিষয়টির ব্যাপারে নিহত ঝুমার চাচা রাশেদ যুগান্তর প্রতিনিধির নিকট স্বীকার করেন ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি আপস মীমাংসা হয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রফাদফার কথা অস্বীকার করেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. হরিপদ দেবনাথ বলেন, অপারেশন করার পর রোগীর অবস্থা ভাল ছিল।  কিন্তু পরবর্তীতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (ডিআইসি) শুরু হলে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে যায়। সাধারনত প্রসূতির অপারেশনে এমন হয়না। তবে তার অপারেশনের প্রেসার উঠানামা করেছে। পরে তাকে আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠিয়ে দেই। সেখানে আজ শনিবার মারা গেছে জানতে পারলাম।

হাসপাতাল মালিক মোশারফ হোসেন বলেন, চিকিৎসায় যেকোন সময় রোগী মারা যেতে পারে। ডাক্তার কখনও ইচ্ছা করে রোগীকে ভুল চিকিৎসা করেনা। তিনি ৪ লাখ টাকায় রোগীর পরিবারের সাথে আপস করার কথা অস্বীকার করেন।ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকদ জানান, আমি জেলার মিটিংয়ে ছিলাম। ওই সময় থানায় কী হয়েছে তা আমার জানা নেই।  তবে জানতে পেরেছি, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এসে হাসপাতাল ও ডাক্তারের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই মর্মে একটি লিখিত দিয়ে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102