নাইজেরিয়ায় অপহৃত ২৫ ছাত্রীর মধ্যে ২ জন পালিয়ে এসেছে
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
-
আপডেট টাইম:
বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
নাইজেরিয়ার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষককে হত্যা করে ২৫ নারী শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। দেশটির কেব্বি অঙ্গরাজ্যের ওই সরকারি বালিকা আবাসিক বিদ্যালয়ে সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভোরের দিকে ওই হামলা হয়।অপহৃত ২৫ জনের মধ্যে দুইজন ছাত্রী অপহরকারীদের কাছ থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে বলে স্কুলের অধ্যক্ষ মঙ্গলবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন। স্কুলের কাছের জঙ্গলে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধানে অতিরিক্ত ট্যাকটিক্যাল ইউনিট, সেনা সদস্য এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীকে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ জানায়, সমন্বিত কৌশল ব্যবহার করে ভোর ৪টার দিকে মাগা শহরের গভর্নমেন্ট গার্লস কমপ্রিহেনসিভ সেকেন্ডারি স্কুলে ঢোকে হামলাকারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। এরপর বন্দুকধারীরা বেড়া টপকে স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং মেয়েদের তুলে নিয়ে যায়। এ সময় উপ-অধ্যক্ষ হাসান ইয়াকুব মাকুকু হামলাকারীদের ঠেকাতে গেলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।হামলাকারীদের গুলিতে বিদ্যালয়ের আরেক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।হামলাকারীদের কাছে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ছিল।পুলিশ জানায়, হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে আশপাশের জঙ্গল এবং সম্ভাব্য পালানোর পথে তল্লাশি চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী মেয়েদের অপহরণের দায় স্বীকার করেনি।তবে বিশ্লেষক এবং স্থানীয়রা বলছেন, দস্যুদের দল প্রায়ই মুক্তিপণের জন্য অপহরণের ঘটনা ঘটায়। এর জন্য তারা স্কুল, ভ্রমণকারী এবং প্রত্যন্ত গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দস্যুরা বেশিরভাগই প্রাক্তন পশুপালক। উত্তর নাইজেরিয়ায় বিদ্যালয়ে অপহরণের ঘটনা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেব্বি স্কুলটি জামফারা এবং সোকোটো রাজ্যের মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত।যেখানে বেশ কয়েকটি গ্যাং কাজ করে এবং লুকিয়ে থাকে বলে জানা গেছে।স্কুলের অধ্যক্ষ মুসা রাবি মাগাজির মতে, অপহরণের কয়েক ঘন্টা পরে এক ছাত্রী অপহরণকারীদের কাজ থেকে পালিয়ে সোমবার বাড়ি ফিরে আসে। অভিযানের কয়েক মিনিটের মধ্যেই বন্দুকধারীদের হাত থেকে পালাতে সক্ষম হয় আরো এক ছাত্রী।অধ্যক্ষ মাগাজি এপিকে বলেন, ‘তারা নিরাপদ এবং সুস্থ আছে।’ এপি দ্বারা যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই স্কুলছাত্রীকে তাদের পরিবার এবং অন্যান্য গ্রামবাসীরা ঘিরে রেখেছে। তারা মাথায় হিজাব পরে আছে। নাইজেরিয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা সাধারণত ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বয়সী।এদিকে নিরাপত্তা বাহিনী বাকিদের খুঁজে বের করার জন্য উদ্ধার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নিরাপত্তা দলগুলো কাছাকাছি বনে অভিযান চালিয়েছে যেখানে গ্যাংগুলো প্রায়ই লুকিয়ে থাকে।সোমবার কেব্বির গভর্নর নাসির ইদ্রিস স্কুল পরিদর্শন করেন এবং মেয়েদের উদ্ধারের জন্য প্রচেষ্টার আশ্বাস দেন। নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াইদি শাইবু হামলার পরপরই সেনাদের সঙ্গে দেখা করেন। সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাদের এই শিশুদের খুঁজে বের করতে হবে। সমস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দৃঢ় এবং পেশাদারভাবে কাজ করুন।’মঙ্গলবার সকাল নাগাদ ডর্ম এবং শ্রেণীকক্ষ জনশূন্য ছিল। সন্তানদের মুক্তির খবরের জন্য অপেক্ষা করা পরিবারগুলো ক্ষোভ এবং হতাশা প্রকাশ করে। বাসিন্দা আব্দুল করিম আবদুল্লাহির মেয়ে এবং নাতনি অপহৃত শিশুদের মধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন, তিনি তার বাড়ি থেকে আওয়াজ শুনতে পান।তিনি বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম যখন হঠাৎ স্কুল থেকে গুলির শব্দ শুনতে পাই। আমাদের বলা হয়েছিল, আক্রমণকারীরা অনেক মোটরসাইকেল নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করেছে।’স্কুলের উপাধ্যক্ষ হাসান ইয়াকুবু মাকুকুর স্ত্রী আমিনা হাসান বলেন, হামলাকারীরা স্কুল প্রাঙ্গণে অবস্থিত তাদের বাড়িতে ঢুকে তার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি স্কুলের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তাও ছিলেন। তিনি বলেন, ‘বন্দুকধারীদের মধ্যে তিনজন ভেতরে ঢুকে আমার স্বামীকে জিজ্ঞাসা করে, ‘তুমি কি মালাম হাসান? এবং তিনি উত্তর দেন, হ্যাঁ, আমি। তখন তারা তাকে বলেছিল, আমরা তোমাকে হত্যা করতে এসেছি।’২০১৪ সালে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বের চিবোকে ইসলামপন্থি জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারাম ২৭৬ জন ছাত্রীকে অপহরণ করেছিল। এরপর থেকে এই অঞ্চলে কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে এই অঞ্চলে ডাকাতরাও সক্রিয় রয়েছে।তাদের অনেকেই পালাতে সক্ষম হলে বা পরবর্তীতে মুক্তি পেলেও, অনেক ছাত্রীকে আর কখনও ফিরে পাওয়া যায়নি।বিশ্লেষকরা বলছেন, দলগুলো প্রায়ই মনোযোগ আকর্ষণের জন্য স্কুলগুলোকে লক্ষ্য করে।
নিউজটি শেয়ার করুন..
-
-
-
- Print
- উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..