বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অমর প্রতীক, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৪তম প্রয়াণ দিবস আজ। বাংলা ১৩৪৮ সনের ২২ শ্রাবণ (৭ আগস্ট ১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন এই মহাপুরুষ। কিন্তু তাঁর প্রয়াণে থেমে থাকেনি সৃষ্টি—আজও তিনি বেঁচে আছেন প্রজন্মের চিন্তা, চর্চা ও শিল্পসৃষ্টিতে।
সাহিত্যের প্রতিটি ধারায় অসামান্য অবদান রাখা রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, শিল্পী ও শিক্ষাবিদ। তাঁর লেখায় মানবতা, প্রেম, প্রকৃতি, সমাজচেতনা ও জাতীয়তা পেয়েছে গভীর প্রকাশ। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের ইংরেজি অনুবাদের জন্য ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন—যা তাঁকে প্রথম বাঙালি হিসেবে বিশ্বসাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত করে।
তাঁর লেখা ‘আমার সোনার বাংলা’ আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। স্বাধীনতা সংগ্রামসহ জাতির নানা বাঁকে তাঁর গান-কবিতা যুগিয়েছে প্রেরণা ও শক্তি।
বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সারা দেশে চলছে নানা শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান। আজ সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার ছায়ানটে আয়োজিত হয়েছে গীতি-আলেখ্য ও সংগীতানুষ্ঠান। ছায়ানটের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী জানান, এ আয়োজনে রবীন্দ্রসংগীত ও আবৃত্তির মাধ্যমে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
এছাড়া বাংলা একাডেমি বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) আয়োজন করেছে বিশেষ সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া আলোচনায় থাকবেন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল, ড. মাহবুব হাসান, ড. রহমান হাবিব প্রমুখ। পরবর্তীতে থাকছে আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন সাহিত্যিক নন, তিনি এক জীবনদর্শন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মানেই নিজ শিকড়কে গভীরভাবে উপলব্ধি করা।