torture-1

এতটাও কেউ নৃশংস হতে পারে? এতটাও কেউ বিকৃতমনস্ক হতে পারে? হতে পারে৷ আর হতে পারে বলেই নুসরত, দুলি, নিশার মতো অনেকেই অন্ধকার জগতে ক্রমশ ঢলে পড়ে৷একদিকে যেখানে লক্ষ্মী দেবীর আরাধনায় মেতে ওঠে সকলে, দেবী দুর্গাকেই ত্রাতা হিসেবে পুজো করা হয়, মা কালির বন্দনায় মেতে ওঠে সকলে, সেখানেই, অনার কিলিং-র নামে একের পর এক প্রাণ হারান মেয়েরা৷ চার দেওয়ালের মধ্যে নিঃশব্দে অত্যাচারের মধ্যে দিন কাটাতে থাকে অভাগীরা৷ শিক্ষার আলো যেখানে পৌঁছয়নি সেখানে যে এই অত্যাচারের মাত্রা বেশি তা বলাই বাহুল্য৷

torture-2

এমনই এক ভয়াল অত্যাচারের মুখোমুখি হয়েছিল একরত্তি মেয়েটি৷ সেই একটা রাতে যেন জীবনের কঠিন রূপ দেখে নিয়েছিল সে৷ আফসানার(নাম পরিবর্তিত) ঘটনা এমনই৷ “প্রত্যেকের মতোই আমিও স্কুলে যেতাম৷ কিন্তু যেদিন আমার ভাই এই পৃথিবীতে এল, সেদিন এক নিমেষে অনেক কিছু বদলে গেল আমার জীবনে৷ এই খুশির খবর যেন তছনছ করে দিল আমার ভবিষ্যৎকে৷ ছেলে হওয়ার আনন্দে আমার বাবা-মা-আত্মীয়রা আনন্দের মধ্যে থাকলেও, আমার ক্রমশই দমবন্ধ হয়ে আসছিল৷ কারণ বাড়ির দায়িত্ব-খরচ সব বাড়ছিল, আর তা সামলানোর জন্য আমার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ বাবার যৎসামান্য আয়ে আমাদের কোনওরকমে খেয়ে পরে চলে যাচ্ছিল৷ একদিন রাতে, খেতে বসার সময়, রুটি শেষ হয়ে যাওয়ায়, মা আমাকে পাশের বাড়ির চাচির বাড়িতে খেতে চলে যেতে বললে, আমি সেইমতো ওই বাড়ি যাই৷ চাচির বাড়িতে কেন জানি না আলো জ্বলছিল না৷ আমি কোনওমতে বাড়িতে ঢুকে ডাকাডাকি করতেই চাচা বেরিয়ে এলেন৷ তিনি ভেতরে এসে বসতে বললেন৷ পাড়ার চাচা হওয়াতে আমার কোনওরকম খারাপ কিছু মনে হয়নি৷ তিনি চাচির জন্য অপেক্ষা করতে বলে পাশের ঘরে চলে যান৷ হঠাৎই আবছা আলো-আঁধারির মাঝে আমার চোখ-মুখ যেন কে পেছন থেকে চেপে ধরে, কাপড় বেঁধে দেয়৷ কিছুই দেখতে বা বলতে পারছিলাম না৷ হঠাৎই এক অদ্ভুত অনুভূতিতে শিউরে উঠলাম৷ সারা গায়ে কে যেন ইচ্ছেমতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে৷ এক ঝড় বয়ে যাচ্ছে৷ আর এই জঘন্য অবস্থা চলল প্রায় ঘন্টাখানেক৷ আমি অসহায়৷ যখন জ্ঞান ফিরল, তখন দেখি ভোরের আলো, নিজের বাড়িতে শুয়ে আমি৷ সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা৷ কি হয়েছিল সে রাতে আমার সঙ্গে? এই প্রশ্নের উত্তর অনেক পরে পেয়েছিলাম আমি৷ সকলের অলক্ষ্যে ঘটে যাওয়া, সেই ঘটনা, সেই রাত, সেই যন্ত্রণা, প্রশ্ন-উত্তর-শেষ হয়ে যাওয়া শৈশব আজও আমি বয়ে বেড়াচ্ছি…এ সত্যি আমার সঙ্গেই একদিন মুছে যাবে এ পৃথিবী থেকে” ৷

আফসানা সেদিন পারেনি৷ কিন্তু আফসানার মতো আরও অনেকেই সত্যের অনুসন্ধান করে লড়ে সঠিক বিচার ছিনিয়ে নিয়েছেন৷ পাল্টে দিয়েছেন চিরাচরিত ধারাবাহিকতাকে৷ প্রয়োজন শুধু একটু সাহসের৷


উত্তরানিউজ২৪ডটকম / আ/ম

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা