uttara news sector 3

উত্তরায় মডেলদের ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক মিউজিক ভিডিওর পরিচালককে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে উত্তরার তুরাগ থানার দিয়াবাড়ি ৩ নম্বর ব্রিজের পাশে এ ঘটনা ঘটে।


এই ঘটনায় শিব শঙ্কর দেবনাথ (এসডি প্রিন্স) নামে ওই পরিচালককে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার সহকারীও। তার নাম মামুন পাঠান তিব্র। শিব শঙ্কর স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত কাউকেই আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এসডি প্রিন্স গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, তরুণ গায়ক অমর সানীর ‘বাংলাদেশের নারী’ শিরোনামে একটি মিউজিক ভিডিও তৈরির জন্য আজ বিকেল ৪টার দিকে দিয়াবাড়ি ৩ নম্বর ব্রিজের পাশের কাশবনে ভিডিও ধারণ করছিলেন তারা। একসঙ্গে নারী-পুরুষ ১১ জন মডেলের একটি ভিডিও ধারণকালে নম্বরবিহীন একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবক আসে। এ সময় তারা মডেলদের উদ্দেশ্য করে নানা ধরনের মন্তব্য করে।


এসডি প্রিন্স জানান, একপর্যায়ে নারী মডেলদের শরীরে বাদাম ও ইট ছুঁড়ে মারে এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করার জন্য উদ্যত হয় তারা। একপর্যায়ে নারী মডেলদের ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করেন তিনি। পরে পুরো ইউনিটের চাপের মুখে বখাটেরা ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়। এর আধা ঘণ্টা পর নম্বরবিহীন কয়েকটি মোটরসাইকেলে অন্তত ২০ জন যুবক হাতে রাবারের চাবুক (টায়ার কাটা) নিয়ে তাদের পুরো ইউনিটের ওপর হামলা চালায়। এসময় পুরুষ মডেলসহ অন্যরা নারী মডেলদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে পারলেও আটকা পড়েন তিনি।


পরিচালক জানান, তাকে মাটিতে শুইয়ে রাবারের সেই চাবুক দিয়ে বেধরক পেটায় বখাটেরা। এতে তার পুরো শরীর জখম হয়। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ওই পরিচালক। তাকে মৃত ভেবে ইউনিটের মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।


এসডি প্রিন্স জানান, জ্ঞান ফিরলে তিনি তুরাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শহিদুর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দেখতে পান। ঘটনার বর্ণনা শুনে পুলিশ অভিযানে গেলেও কাউকেই আটক করতে পারেনি। উল্টো পুলিশের ভাষ্য ছিল- ‘এখানে এ রকমই হয়, সবাই জানে, আমরা আপনাদের আগেই সর্তক করেছিলাম। ছেলে-পেলেগুলো এখানকার না। তারা হয়ত গাজীপুর থেকে এসেছে।’ কিন্তু স্থানীয়রা প্রিন্সদের জানিয়েছেন, ওই বখাটেরা দিয়াবাড়ির এলাকারই বাসিন্দা। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও এসডি প্রিন্স জানান।
এ বিষয়ে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসআই) মো. শহিদুর রহমান গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘ওই স্যুাটিং ইউনিটে মডেলসহ ৩০ থেকে ৪০ জন জন ছিলেন। এই স্থানটা নিরাপদ না জানিয়ে তাদের আমি একাধিকবার নোটিশও করেছিলাম। আমি আছরের নামজে গেলে আক্রমণের শিকার হন ওই পরিচালকসহ অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের কিছু ছবি মিলেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / ইয়াছিন আরাফাত:

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা