Serena_&&

ভেনাসের রিটার্ন বাইরে পড়তেই বসে পড়লেন কোর্টে। মাথার ওপরে র‌্যাকেট। বুঝতে পারছিলেন না উদ্যাপন করবেন কিভাবে? র‌্যাকেট ছুড়ে ফেলে নাকি কোর্টে শুয়ে। অপার্থিব অনুভূতির প্রকাশটা কিভাবে করবেন বুঝতে না পেরে কিছুই করলেন না সেরেনা উইলিয়ামস!

শুধু কোর্ট থেকে ওঠে দুহাতে দুই আর তিন দেখিয়ে বোঝালেন, পৌঁছেছেন ২৩তম গ্র্যান্ড স্লামের নতুন পৃথিবীতে। ততক্ষণে তাঁকে জড়িয়ে ধরেছেন বড় বোন ভেনাস উইলিয়ামস। আলিঙ্গনে আবদ্ধ দুজনই তখন আবেগী। এই আবেগ আনন্দের, গর্বের আর ইতিহাস গড়ার। স্টেফি গ্রাফকে পেছনে ফেলে উন্মুক্ত যুগে সবচেয়ে বেশি ২৩ গ্র্যান্ড স্লাম এখন সেরেনারই। ‘গৃহযুদ্ধে’ ভেনাসকে ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়ে ফিরে পেয়েছেন র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানও। তাতে যেমন গর্ব সেরেনার, এর চেয়ে কম নয় হয়তো ভেনাসেরও! ম্যাচ হারার কোনো আক্ষেপই ছিল না তাঁর। বরং যেভাবে বোনের ইতিহাস গড়াটা উদ্যাপন করেছিলেন তাতেই স্পষ্ট, গণমাধ্যম দুদিন ধরে কেন লিখছে এই ফাইনালে হারবে না কেউ!

২৪ গ্র্যান্ড স্লাম নিয়ে সেরেনার সামনে কেবল মার্গারেট কোর্ট। গতকাল ভিআইপি গ্যালারিতে ছিলেন এই কিংবদন্তিও। ভেনাসকে হারিয়ে সেরেনার ঐতিহাসিক ২৩তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়টা দেখেছেন নিজের চোখে। ম্যাচ শেষে মার্গারেট কোর্ট করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন সেরেনাকে। তিনিও জানেন এই বছর এমনকি আগামী ফ্রেঞ্চ ওপেনেই সেরেনা ছুঁয়ে ফেলতে পারেন তাঁকে। ১৯৯৯ সালের ইউএস ওপেনে মার্টিনা হিঙ্গিসকে হারিয়ে প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছিলেন সেরেনা। ১৮ বছরের ব্যবধানে জিতলেন ২৩তম শিরোপা। এখন বয়স ছাড়িয়েছে ৩৫ বছর। এত বেশি বয়সে গ্র্যান্ড স্লাম জিততে পারেননি আর কেউই। যেভাবে খেলছেন তাতে হতে পারে ২৫-২৭টি গ্র্যান্ড স্লামও। সেটা না হলেও সর্বকালের সেরা সেরেনা কি না—এ নিয়ে অনলাইন জরিপ শুরু করেছে বিবিসি, সিএনএন। এই বিতর্কে না গিয়ে নিজেকে আরো উঁচুতে তুলে ধরাই লক্ষ্য সেরেনার, ‘২৩, ২৪, ২৫-ই যথেষ্ট নয়। এই বছর নিজের খেলার আরো উন্নতি করেছি আমি। ’

ফ্লোরিডার পিছিয়ে পড়া জনপদ পাম বিচ গার্ডেনসে টেনিসে হাতেখড়ি সেরেনার। এমন জায়গায় বেড়ে উঠেছেন যেখানে মানুষ খুন, দাঙ্গা, রাহজানি একেবারে স্বাভাবিক। তাঁর এক বোনও প্রাণ হারিয়েছেন এমন দাঙ্গায়। তা ছাড়া ’৯০-এর দশকে টেনিস শুরুর সময় ভাবা হতো ‘সাদা চামড়ার মানুষদের খেলা টেনিস’। কোর্টে নামার সময় কালো বলে বিরক্তও করত অনেক দর্শক। সেসব প্রতিকূলতা জয় করেই তিনি আজকের সেরেনা উইলিয়ামস। ভেনাস যেখানে থেমেছেন সাত গ্র্যান্ড স্লাম জিতে সেখানে সেরেনার ২৩টি। প্রতিদিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারটাই ছিল গতকালের ফাইনালে। দর্শকরা সমর্থন করছিলেন ৩৬ বছর বয়সী ভেনাসকেই। তাতেই কিনা প্রথম চার গেমে একে অন্যের সার্ভ ব্রেক করেন দুই বোন! তৃতীয় গেমে তো মেজাজ হারিয়ে র‌্যাকেটই আছড়ে ফেলেন সেরেনা। ৩-৩ সমতার পর আরো একবার ভেনাসের সার্ভ ব্রেক করে ৪-৩-এ এগিয়ে যান ছোট বোন। শেষ পর্যন্ত সেটটা জেতেন ৬-৪ গেমে। দ্বিতীয় সেটে সেরেনা ৫-৪-এ এগিয়ে সার্ভ করছিলেন ম্যাচের জন্য। ২৩ শটের র‌্যালি জিতে ভেনাস ১৫-৩০ করার পর মনে হচ্ছিল ম্যাচটি তৃতীয় সেটে যাবে। কিন্তু ভেনাসেরই ভুলে এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের ফাইনালটা সেরেনা জেতেন ৬-৪, ৬-৪ গেমে। দাপটে জিতলেও সবার আগে ভেনাসকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সেরেনা, ‘ভেনাসকে ছাড়া কোনোভাবে ২৩তম গ্র্যান্ড স্লাম জিততে পারতাম না। ভেনাসই আমার প্রেরণা। এখানে দাঁড়িয়ে আছি কেবল তাঁর জন্য। ’ ছোট বোনকে অভিনন্দন জানাতে ভুললেন না ভেনাসও, ‘অভিনন্দন সেরেনা। তুমিই আমার পৃথিবী। আমাদের সবাইকে গর্বিত করেছ তুমি। ট্রফির ওপরে উইলিয়ামস লেখাটা থাকছে, এটাই সুন্দর ব্যাপার। ’

বোনের কাছে ৯ গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালের ৭টি হারলেও ইতিহাস গড়ায় এমন গর্ব করতেই পারেন ভেনাস। কিংবদন্তি বিলি জিন কিংও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সেরেনাকে, ‘অভিনন্দন সেরেনা। নতুন ইতিহাস গড়েছ, তুমিই পথপ্রদর্শক। ’ ১৮ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার মুগ্ধতা, ‘অবিশ্বাস্য। আবারও করে দেখাল সেরেনা। কী অসাধারণ রেকর্ড। ’ ১৯৯৮ সালের উইম্বলডন জয়ী প্যাট ক্যাশ তো টেনিসের গণ্ডি ছাড়িয়ে সর্বকালের অন্যতম সেরাই ভাবছেন সেরেনাকে, ‘এক কথায় অসাধারণ। সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদদের তালিকায় নাম লেখাল ও। ’ ২৩তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের পথে ১৪ জনকে হারিয়েছেন সেরেনা। এর অন্যতম অ্যাঞ্জেলিক কেরবার। গতকাল শীর্ষস্থান হারালেও সেরেনার প্রতি তাঁর মুগ্ধতা, ‘ঐতিহাসিক ফাইনাল। সেরেনা, ভেনাস দুজনই সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন। ’ এএফপি

 



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / আ/ম

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা