মাশরাফি

পুরস্কার বিতরণী পর্ব শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে মাথার টুপিটা খুলে ছুড়ে দিলেন দর্শকদের উদ্দেশ্যে।

সংবাদ সম্মেলনে এসে বারবার হেসে উঠলেন বিভিন্ন প্রশ্ন শুনে। বিশেষ করে নিজের ব্যাটিংয়ের প্রশ্ন এলেই মুচকি হাসলেন। মাশরাফি বিন মুর্তজার খুশিটা লুকানো ছিল না। লুকানোর কারণও নেই। সেই অধিনায়ক হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে, ২০১৪ সালের নভেম্বরে শেষ ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। তারপর থেকে দলের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে পারফরম করেছেন, উইকেটও পেয়েছেন নিয়মিত। কিন্তু খেলোয়াড় মাশরাফি শিরোনামে আসছিলেন। অবশেষে আবার এলেন—ব্যাটে ও বলে সেরা মাশরাফি।

তবে ম্যাচ জয়ের পর পরিষ্কার করে বললেন, এই জয় মোটেও তার একার কোনো কৃতিত্ব নয়, ‘আমি দলের সবাইকে কৃতিত্ব দিতে চাই। তাসকিন যে স্পেলটা করেছে। অবিশ্বাস্য, ম্যাচের গতি বদলে দেওয়া একটা স্পেল বোলিং করেছে। রিয়াদ দারুণ ব্যাট করেছে। সাকিব বল হাতে দারুণ ছিল। নাসিরও আউটস্ট্যান্ডিং পারফরম্যান্স করেছে। এক বছর পরে দলে এসে এমন করা খুবই কঠিন। এটা সবার সম্মিলিত চেষ্টার ফল ছিল।’

এই ফলটাকে মাশরাফি অন্য অনেক জয়ের চেয়ে একটু এগিয়ে রাখছেন অন্য একটা কারণে।

মাত্র একটা দিন আগেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশাল স্কোর তাড়া করে সহজে জিতে যাচ্ছিলো বাংলাদেশ। সেখান থেকে পা ফসকে পরাজয় সঙ্গী হওয়ার পর দলকে অনুপ্রাণিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ ছিল। গতকাল বললেন, ‘সেদিন রাত তিনটা পর্যন্ত আমরা ঘুমাতে পারিনি। আমার রুমে সিনিয়র ক্রিকেটাররা সবাই বসেছিল। আমরা চাচ্ছিলাম, এই ম্যাচ নিয়ে আর কথা না বলতে। কিন্তু সেই কথাই আসছিল। কাউকে মোটিভেটেড করতে পারছিলাম না। আজ ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপেও কাউকে কাউকে একটু বিষণ্ন মনে হয়েছে। এখান থেকে এরকম একটা টিম এফোর্ট পাওয়াটা দারুণ একটা ব্যাপার ছিল।’

এখন চ্যালেঞ্জটা পরিষ্কার। হতে পারতো যে, গতকালই বাংলাদেশ সিরিজ জিতে গেছে। সেটা হয়নি। ফলে এখন চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচটা হয়ে উঠলো ‘ফাইনাল’। এখন পর্যন্ত সিরিজে পরিষ্কার এগিয়ে থাকা দল হিসেবে বাংলাদেশ সিরিজটা আশা করতে পারে। মাশরাফিও সেই আশাই করছেন, ‘ম্যাচ না জেতা পর্যন্ত তো আশা করতে হবে। তবে দারুণ সুযোগ আছে। আমরা জিতে যাইনি এখনও। তবে সিরিজটা আমাদের হাতে আছে। আশা করি সেটা আমরা ধরে রাখতে পারবো।’



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / সারোয়ার সোহাগ

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা