Sujon

রবিবার শেষ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম টেস্ট। এখনো পর্যন্ত চলছে পাঁচ দিনের ম্যাচটির কাঁটাছেড়া। মুমিনুল হক আর লিটন দাসের বীরোচিত ব্যাটিংয়ে প্রায় হারতে বসা ম্যাচটি ড্র করে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান হিসেবে এক টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি হাঁকান। প্রথম ইনিংসে ১৭৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫ রান তার। লিটন দাস খেলেন ৯৪ রানের ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস। এই টেস্টে বাংলাদেশের প্রাপ্তি বা অপ্রাপ্তি কী ছিল?

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরার মতে, মূল প্রাপ্তি হল মুমিনুল হকের ফর্মে ফেরা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুমিনুল হক বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানদেরই একজন। তিনি যেভাবে ফর্মে ফিরেছেন সেটা দারুণ। মুমিনুলের টেকনিক ও দক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল সেটার জবাব দিয়েছেন বলেই মনে করেন তিনি।

মুমিনুল হক বাংলাদেশের দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯৬ বলে করা সেঞ্চুরিটি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরি। এর আগে তামিম ইকবাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৪ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান।

শফিকুল হক হীরা বলেন, 'বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ক্লিক করার বেশ প্রয়োজন ছিল। সময়মতই ভালো করেছে। টেস্টের একটা পর্যায়ে মনেই হচ্ছিল এই ৭১৩ রানের পর বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না কিন্তু শেষমেশ বেশ সন্তোষজনক একটা ড্র হয়েছে।'

লিটন দাস প্রথম ইনিংসে কোনও রান না করে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৪ রান করেন। শফিকুল হক হীরার মতে, লিটন দাস আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছিলেন। এমন একটা ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস নিঃসন্দেহে তাকে প্রেরণা দেবে। মুমিনুল-লিটনের জুটিটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।

বাংলাদেশ এই টেস্টে ৩ জন বিশেষজ্ঞ স্পিনার ও ১ জন পেস বোলার নিয়ে খেলতে নামে। হীরার মতে, দুই দলের বোলিংয়ের শক্তিমত্তার পার্থক্য খুব বেশি নয়। শুধু শ্রীলঙ্কায় একজন লেগ স্পিনার আছে। তবে বাংলাদেশের বোলারদের এমন ডেড উইকেটে আরও লাইন লেন্থে মনোযোগী হতে হবে। এখানে আদায় করে নেয়ার খেলা।

তিনি মূলত বাংলাদেশের ঘাটতি দেখেছেন ফিল্ডিংয়ে, 'এমন কিছু ক্যাচ মিস হয়েছে সেগুলো ধরলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেই পারত। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ একজন স্লিপ ফিল্ডার প্রয়োজন। টেস্ট ম্যাচে স্লিপ জায়গাটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।'

পাঁচ দিনের এই টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা মোট ১৫৩৩ রান তোলে। বিপরীতে দুই দলের উইকেট পড়েছে মাত্র ২৪ টি। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট কেবল ব্যাটসম্যানদেরই সহায়ক ছিল।

ক্রিকেটার মুমিনুল হকের টেকনিক ও দক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল চট্টগ্রাম টেস্টে তার জবাব দিয়েছেন বলে মনে করেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। শফিকুল হক হীরা বলেন, 'উইকেট আরও স্পোর্টিং হওয়া উচিৎ। এমন রান-বন্যার ম্যাচে বোলারদের ভূমিকা কমই থাকে। এখানে পাঁচদিন কেন, সাতদিনও ব্যাট করা যায় অনায়াসে।'



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা