cityxs

বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি শহর জেরুজালেম। বিশ্বের তিনটি ধর্মের মানুষের কাছেই একটি মহাপবিত্র নগরী এই জেরুজালেম। ইসলাম ধর্মের পবিত্র স্থানগুলো যেমন আল-আকসা মসজিদ, কুব্বাত আস-সাখরা এই শহরেই অবস্থিত। সেই সঙ্গে ইহুদিদের প্রাচীন মন্দিরের দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ এই জায়গাটিতেই রয়েছে। খ্রিষ্টানদের পবিত্র চার্চ অব দ্য হোলি সেপালক্রেও এই জেরুজালেমেই অবস্থিত।  

এখন পর্যন্ত জেরুজালেম শহরটি কমপক্ষে দুইবার ধ্বংস হয়েছে, ২৩ বার অবরোধ হয়েছে, ৫২ বার আক্রমণ হয়েছে এবং সেই সঙ্গে ৪৪বার দখল এবং পুনর্দখল হয়েছে। ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা চায় তাদের ভবিষ্যত স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে পূর্ব জেরুসালেম। আর ইসরায়েলের দাবি, পূর্ব ও পশ্চিম জেরুজালেম মিলিয়ে পুরো শহরটিই হবে তাদের রাজধানী। এই নিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের ভেতর সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।  

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের অনেক সদস্য রাষ্ট্রই জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকার করে না। অধিকৃত পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ এবং বসতি নির্মাণও আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত নয়। সে কারণে সাবেক রাজধানী তেল আবিবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস কাজ করছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিতে পারেন।  

প্যারিসে শুরু হওয়া ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনায় ফরাসী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবার পর তিনি যদি ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাসটি তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যান, তাহলে তা হবে এক উস্কানিমূলক কাজ এবং যার পরিণাম হবে গুরুতর। ’

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, তুরস্কসহ বেশ কিছু দেশের কূটনৈতিক মিশন জেরুজালেমে রয়েছে। তবে সেটাকে 'ইসরায়েলের দূতাবাস' বলা হয় না। বলা হয় 'জেরুজালেম বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য কূটনৈতিক মিশন'। এখন যদি মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়া হয়, তার প্রতীকী অর্থ হবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের 'আইনসঙ্গত রজধানী' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া।  

 



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / আ/ম

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা