ayub bachhu- asif akbar comments

‘বাচ্চু ভাইয়ের এবি কিচেন ছিল তরুণ আর অখ্যাত শিল্পীদের দরগাহ্। স্টুডিওতে একটা কনফারেন্স টেবিলের মতো ছিল। উনাকে ঘিরে কোনাকাঞ্চিতেও অবস্থান নিয়ে বসত মজমা। তিনি সবার খবর নিতেন, সবাইকে উৎসাহ দিতেন আর রসিকতা করে পরিবেশটা জমিয়ে রাখতেন। আমি, রূপম আরিফ, স্টিলার ব্যান্ডের জিয়া লিটনসহ প্রচুর পোলাপান বসে থাকতাম উনার সামনে, উনি সবাইকে নিয়ে ভাবতেন।’ কথাগুলো ফেসবুকে গত সোমবার লিখেছেন সংগীতশিল্পী আসিফ।

অতীত স্মৃতির ঝোলা খুলে আসিফ বলেন, ‘১৯৯৯ সালে বাচ্চু ভাইয়ের ছোট ভাই ছোট্টু ভাইয়ের গায়ে হলুদে আমরা সবাই গাইলাম পল্টন আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারে। তিনি ভিড়ের মধ্যে আমাকে খুঁজে বের করে ধরে নিয়ে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড় করিয়ে দেন। গান গেয়ে পাস মার্ক পাই, তারপর আমরা হয়ে যাই এলআরবির ওয়ার্ম আপ ব্যান্ড, উনাদের শোর আগে আমি গাইতাম। আমার সঙ্গে বাজাতেন পল্লব সান্যাল ইবরার টিপু, তানিম, সোহেল (ইফতি) আর মানিক।’

আসিফ আরো বলেন, ‘বাচ্চু ভাই আমাকে প্রথম শো দিলেন ঢাবির রোকেয়া হলে। এলআরবি পারফর্ম করার আগে ছয়টা গান গেয়ে আবারও পাস মার্ক পাই। তারপর সুযোগ দিলেন বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের একটি শোতে। সেখানে তিনি আমাদের সাথে ড্রামস এবং গিটার বাজিয়েছেন সেশন মিউজিশিয়ানের মতোই, এসব কর্মকাণ্ড উনাকে দিয়েই সম্ভব। আইয়ুব বাচ্চু কিচেনে শুধু রান্নাই হয়েছে, সেই রান্না থেকে আমাদের মতো কিছু বেকার স্বপ্নবিলাসী তরুণের মধ্যে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাসা বেঁধেছে। উনার মতো এনারজেটিক হওয়া অসম্ভব। এজন্যই তিনি লিজেন্ড, তিনি গ্রেট আইয়ুব বাচ্চু। সশ্রদ্ধ সালাম। ভালোবাসা অবিরাম।’

আইয়ুব বাচ্চু গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি। হৃদরোগের কারণে আইয়ুব বাচ্চু গত কয়েক বছর বার বারই হাসপাতালে এসেছেন চিকিৎসার জন্য। ২০০৯ সালে তাঁর হার্টে রিং পরানো হয়। মৃত্যুর দুই সপ্তাহ আগে শেষ তিনি স্কয়ার হাসপাতালে এসেছিলেন।

জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। ১৯৭৮ সালে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে। এরপর ১০ বছর সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। আশির দশকে একাধিক একক অ্যালবাম বেরুলেও নব্বইয়ের দশকে ‘ডাবল অ্যালবাম’ দিয়ে এলআরবির যাত্রা শুরু হয়। তখন ব্যান্ডটির নাম ছিল ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। পরে ব্যান্ডের নাম পাল্টে রাখা হয় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ‘চলো বদলে যাই’, ‘ফেরারি মন’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘হকার’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’, ‘বাংলাদেশ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। সংগীতজগতে তিনি এবি নামে পরিচিত হলেও তাঁর ডাকনাম ছিল রবিন। এ নামেও তিনি নব্বইয়ের দশকে একক অ্যালবাম বের করেন।

সূত্র: এনটিভিবিডি.কম



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / গাজী/24

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা