a-muslim-duty

ইসলামের দৃষ্টিতে অপরিহার্য কিছু কাজ রয়েছে যেগুলো করার মাধ্যমে একজন মুসলিমের আমল পূর্ণতা পায় এবং তার মাধ্যমে সমাজে ইসলামের সৌন্দার্য্য ছড়িয়ে পরে। কিন্তু ঐ গুনগুলো না থাকলে কোন মানুষই পরিপূর্ণ মুসলিম হতে পারে না। এখানে এমন কিছু অপরিহার্য্য গুনের কথা সংক্ষেপে তুলে ধরা হচ্ছে।


১. সঠিক নিয়্যাত থাকাঃ
একজন মুসলিমের সকল কাজই ইবাদত হতে পারে, যদি তার নিয়্যাত সহীহ হয়। যে সব কাজের নিয়্যাত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, সেসব কাজ দিয়ে আখিরাতের এবং দুণিয়ার ও সাফল্য পাওয়া যায়। সঠিক নিয়্যাত ছাড়া প্রত্যেকটি আমলই অর্পূণ থেকে যায়। আমল করে ও যদি আমলের ভাল ফলাফল না পাওয়া যায় তাহলে এটা হবে চরম ব্যার্থতা। যেমন আমরা কোরবানী করি। টাকা খরচ করে পশু কিনি। কিন্তু মনে যদি লোক দেখানো চিন্তা থাকে তাহলে কোরবানী ও হবে না, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অর্জিত হবে না।
এজন্যই প্রিয়নবী (সাঃ) নিয়্যাত সর্ম্পকে বলেছেনঃ ”আমলের ফলাফল নিয়্যাতের উপর নির্ভরশীল”। (বুখরী শরীফ)

২. মাতা-পিতার প্রতি সদয় হওয়া:-
মাতা-পিতার প্রতি সদয় হওয়া একজন মুসলিমের অপরিহার্য্য গুণ। কেউ কেউ হয়ত বলতে পারেন, আমি কি মাতা-পিতার প্রতি নির্দয়? হয়ত নির্দয় নন, কিন্তু সদয় হওয়ার জন্য তাদেরকে যতখানি ভলবাসা এবং যতœ নেয় উচিৎ তা নিচ্ছেন কিনা একটু ভেবে দেখুন। আপনার কাজের মাধ্যমে তাদের প্রতি ভালবাসার প্রমাণ দিন। আপনার জীবনের লক্ষ্য যদি হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত অর্জন। তাহলে মা-বাবার প্রতি আরও যতœবান হউন, তাদেরকে খুশি রাখুন।
রাসূল (সাঃ) মায়েদের মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন:- “মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত”।
রাসূল (সাঃ) পিতার মর্যাদা সর্ম্পকে ও বলেছেন:- ““পিতার সন্তষ্টিতে আল্লাহর সতুষ্ট, পিতার অসন্তষ্টিতে আল্লাহর অসতুষ্ট”।
সুতরাং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বেহেস্ত লাভে মা-বাবার সন্তুষ্টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।


৩. অনর্থক কথা এড়িয়ে চলুন:-
ভেবে চিন্তে কথা না বলা বা অনর্থক কথা বলার করণে আমাদের জীবনে নানবিধি জটিলতার সৃষ্টি হয়। অন্যের সমালোচনা করা, নেতিবাচক কথা বলা আর অনর্থক কথা বলার চেয়ে চুপ করে থাকা অনেক ভাল।
তাই আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেনঃ “যে চুপ থাকে সে মুক্তি পায়”।


৪. গুজবে কান না দেওয়া :-
মানুষের একটি চারিত্রিক দুবর্লতা হল, অন্যোর কাছে যা শোনে তাই বলে বেড়ায়। সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের চিন্তা না করেই যে কোন কথা সমাজে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দেয়। একারণে সমাজে হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রæতা ও হানাহানি ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি জঘন্য কাজ।


তাই প্রিয় নবী (সাঃ) আমাদেরকে কঠোরভাবে সর্তক করে বলেছেন:- “যা শোনে তাই বলতে থাকা, কারো মিথ্যাবাদী হয়ার জন্য যথেষ্ট”।
আসুন আমরা সকল কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করি, পিতামাতার প্রতি সদয় হই, অনর্থক কথা এড়িয়ে চলি এবং কোন কথা শুনেই তা প্রচার করা বা গুজব ছড়ানো বন্ধ করি। তাহলেই আমাদের পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র শান্তিময় হবে।

মহতারিমা কারিশমা কায়েনাত্
(শিক্ষিকা ও তরুন লেখিকা)



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / মহতারিমা কারিশমা কায়েনাত্

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা