prarthi

হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী। গতকাল হবিগঞ্জ সহ ৬১ জেলায় আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। ওবায়দুল কাদের জানান, তৃণমূলের কাছে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাবের উপর যাচাই-বাছাই করে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২৮ ডিসেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় যারা মনোনয়ন পাবেন তারাই যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হচ্ছেন সেটা অনেকটা নিশ্চিত। ৩ পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে এই নির্বাচন হবে।
জেলা পরিষদের বর্তমান পপ্রশাসক ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দুই বারের সাধারণ সম্পাদক ও সফলতার সাথে গত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই দলীয় কাউন্সিলে ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী ও এনামুল হক মোস্তফা শহীদ এমপি সভাপতি পদে কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। নির্বাচনে ডাঃ মুশফিক চৌধুরী বিজয়ী হন। এছাড়াও তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে হবিগঞ্জ জেলা বিএমএ ও স্বাচিপের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি ইতিপূর্বে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ভিপি ও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের ৫জন নারী সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠন হবে। এজন্য প্রতিটি জেলাকে ১৫টি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ভোটকেন্দ্র রাখা হবে।
২৫ বছর বয়সী যেকোনো ভোটার জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন, তবে ভোট দিতে পারবেন না। ভোটাধিকার থাকবে কেবল জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি/পৌর মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের। আর প্রার্থীর প্রস্তাবক-সমর্থক হতে হবে তাদেরই।
এদিকে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ডাঃ মুশফিক হুসেন চৌধুরী ভোটারদের দৃষ্টি কাড়তে বিভিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার প্রচারণা। চেয়ারম্যান প্রার্থী আর কাউকে তেমন একটা মাঠে দেখা যাচ্ছেনা। ডাঃ মুশফিক চৌধুরী অনেকটা ফাঁকা মাঠেই ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছেন তারাও। তবে প্রচারণায় চেয়ারম্যানের তুলনায় সদস্য প্রার্থীরা অনেক এগিয়ে। কয়েকজন অনেকটা আঁটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমে পড়েছেন। তারা লিফলেট, কার্ড বিতরণও করছেন। ঘনিষ্টজনদের নিকট দোয়া, সহযোগিতা চাইছেন। কিন্তু বেশির ভাগ প্রার্থীই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আর চেয়ারম্যান পদে এখনও পর্যন্ত একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ-১ আসনে রাখা হয়েছে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভাসহ এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন এবং বানিয়াচং উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-২ আসনে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১, ২, ৩ ও ৪নং ইউনিয়ন এবং ৬,৭ ও ৮নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৩ আসনে একই উপজেলার ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৪ আসনে নবীগঞ্জ উপজেলার ১, ২, ৩, ৪ ও ৫নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৫ আসনে নবীগঞ্জ পৌরসভার সাথে রাখা হয়েছে ৬, ৭, ৮ ও ৯নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৬ আসনে একই উপজেলার ১০, ১১, ১২, ১৩নং ইউনিয়ন এবং বাহুবল উপজেলার ১নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৭ আসনে বাহুবল উপজেলার ২, ৩, ৪, ৫ ও ৭নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৮ আসনে আছে হবিগঞ্জ পৌরসভাসহ সদর উপজেলার ৩, ৪, ৫ ও ১০নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৯ আসনে সদর উপজেলার ১, ২, ৬, ৯ ও লাখাই উপজেলার ৫নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-১০ আসনে সদর উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভাসহ ৭ ও ৮নং ইউনিয়ন এবং বাহুবল উপজেলার ৬নং ও চুনারুঘাট উপজেলার ৭নং ইউনিয়ন রাখা হয়েছে। হবিগঞ্জ-১১ আসনে লাখাই উপজেলার ১, ২, ৩, ৪ ও ৬নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-১২ আসনে চুনারুঘাট উপজেলার ১, ২, ৩, ৪ ও ১০নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-১৩ আসনে চুনারুঘাট পৌরসভাসহ এ উপজেলার ৫, ৬, ৮ ও ৯নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-১৪ আসনে রাখা হয়েছে মাধবপুর উপজেলার ৬, ৭, ৮, ৯, ১০ ও ১১নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-১৫ আসনে রয়েছে মাধবপুর পৌরসভাসহ এ উপজেলার ১, ২, ৩, ৪ ও ৫নং ইউনিয়ন। আর সংরক্ষিত আসন করা হয়েছে হবিগঞ্জ-১, ২ ও ৩ নিয়ে হবিগঞ্জ সংরক্ষিত-১, হবিগঞ্জ-৪, ৫ ও ৬ নিয়ে হবিগঞ্জ সংরক্ষিত-২, হবিগঞ্জ-৭, ৮ ও ১০ নিয়ে হবিগঞ্জ সংরক্ষিত-৩, হবিগঞ্জ-৯, ১১ ও ১২ নিয়ে হবিগঞ্জ সংরক্ষিত-৪ এবং হবিগঞ্জ-১৩, ১৪ ও ১৫ নিয়ে হবিগঞ্জ সংরক্ষিত-৫ আসন গঠন করা হয়েছে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / আ/ম

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা