jamat

মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীকে ২০ দলীয় জোটে রাখায় তীব্র সমালোচনার মুখে এবার ‘শর্তসাপেক্ষে’ দলটিকে জোটে রাখতে বললেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে জামায়াতকে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে বলতে হবে, একাত্তরে ভুলের জন্য তাদের পিতা-কাকারা শাস্তি পেয়েছেন। কিন্তু তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের কবর জিয়ারত করবে।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর সেরিনা হোটেলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন জাফরুল্লাহ। মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে এতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতকে ২০ দলীয় জোটে রাখা প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘একাত্তর সালে জামায়াতের বাপ-দাদারা অপরাধ করেছে। তবে জামায়াত যদি আপনাদের সাথে থাকতে চায়, তাহলে তাদেরকে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। বলতে হবে, তাদের পিতা-কাকারা ভুল করেছিল। তাদের সে ভুলের জন্য তারা শাস্তি পেয়েছেন। কিন্তু আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি। সুতরাং আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের কবর জিয়ারত করবো। তারা যদি এই ঘোষণা দেয়, তাহলে তাদেরকে সঙ্গে রাখুন।’

তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো ঘোষণা দেয়া না হলে সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার কী করণীয় হবে, সে বিষয়ে কোনো কথা বলেননি এই বুদ্ধিজীবী।

উল্লেখ্য, একাত্তর সালে স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য জামায়াত আজ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ভুল স্বীকার কিংবা দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।

গত ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে কমিটি গঠনের সর্বময় ক্ষমতা চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর ন্যস্ত করেন কাউন্সিলররা। তবে কমিটি গঠনে বিএনপি চেয়ারপারসনের ওপর কাউন্সিলরদের ন্যস্তকৃত এই ক্ষমতা হ্রাস করার পক্ষে ডা. জাফরুল্লাহ।

এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পদ (কাউন্সিলরদের ন্যস্তকৃত ক্ষমতা) ছেড়ে দেন। আপনার দিকে সবাই তাকিয়ে আছে। তাই আপনার পার্টিতে গণতন্ত্র প্রয়োজন। সেজন্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কমিটি গঠন করুন। সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ২০ জন করুন। এর মধ্য থেকে ১৫ জন নির্বাচিত হবেন। আর পছন্দমতো ৫ জনকে আপনি মনোনয়ন দেবেন। সারা দেশের ৬৫টি জেলা থেকে জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ৬০০ জনকে নির্বাচিত করুন। তবে অবশ্যই নির্বাচনের মাধ্যমে সেটা করতে হবে। এক্ষেত্রে পার্টির প্রধান হিসেবে আপনার হাতে ২০ থেকে ২৫টি পদ থাকবে।’ 

এ সময় দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার লক্ষ্যে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর (বীরউত্তম) কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগকে জোটভুক্ত করে খালেদা জিয়াকে ২০ দলীয় জোটের পরিধি বৃদ্ধির পরামর্শ দেন বিএনপির রাজনীতির পরামর্শক ও সমালোচক এই বুদ্ধিজীবী।

খালেদা জিয়াকে সবাইকে নিয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষকে মারার মতো বুলেট আওয়ামী লীগ কিংবা ভারতের কাছে নেই। তাই আপনার সাথে রাস্তায় থাকার প্রত্যাশায় রইলাম।’

ইফতারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশ রক্ষায় জনগণকে টাইগারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে সবসময় আছি, থাকবো। রাস্তায় যেতে হলে সেখানেও যাবো। এখনও রাস্তায় নামার মতো সাহস ও ক্ষমতা রাখি।’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে মূলমঞ্চে একই টেবিলে বসে ইফতার করেন-ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ২০ দলীয় জোট শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতিক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / আ/ম

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা