low-back-pain

শরীরের যেকোন ব্যথাই আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমাদের ভাল থাকাটা কতটা জরুরি। শরীরের যে কোন ব্যথাই জীবনে চলার ও কাজের গতি কমিয়ে দেয় অনেকাংশে।জীবনে কখনো কোমর ব্যথায় কষ্ট করেনি এমন মানুষের সংখ্যা অনেক কম। কারো অল্প সময়ের জন্য কারো দীর্ঘ সময়ের জন্য  কোমর ব্যথা হয়। কোমর ব্যথা অনেক কারনে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ কোমর ব্যথা প্রাথমিক কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললে ভাল হয়ে যায়।কোমর ব্যথার জন্য আমরা নিজেরাই অনেক অংশে দায়ী। যেমন আমরা জানি না দেহের সঠিক অংগভংগি কোনটি এবং ভুল কোনটি। তবে যদি সঠিক নিয়মে উঠা, বসা এবং কাজ করা যায় তবে ৭০% কোমর ব্যথা ভাল হয়ে যায়।
 
মেরুদন্ডের নিচের দিকে অবস্থিত কোমরের যে অংশটি থাকে তাকে আমরা লাম্বার রিজন বলে থাকি। এই রিজনে ৫টি হাড় থাকে যাদেরকে আমরা  L1,L2,L3,L4,L5 দ্বারা চিহ্নিত করে থাকি দেহের গঠন অনু্যায়ী L3,L4,L5 এর মাঝে বেশি আঘাত পেয়ে থাকি এবং ব্যথা বেশি অনুভূত হয় এবং মেরুদন্ডের প্রতিটা হাড়ের মাঝে একটি নরম অংশ থাকে যাকে আমরা ডিস্ক বা নরম যেন অংশ (ইন্টার ভারটিবরাল ডিস্ক) বলে থাকি। এই ডিস্ক (নিউক্লিয়াস পালপোসাস এবং এনোলাস ফাইবার দ্বারা গঠিত। যা কোন কারনে L4,L5 এর উপর চাপের ফলে ফেটে যায় এবং স্পাইনাল কর্ডের উপর প্রেসার করে।

ফলে ব্যথা অনুভব হয়। একে আমরা  ডিস্ক প্রলাপ্স বা  PLID বলে থাকি।এছাড়া আঘাত জনিত কারনে ব্যথা হয়ে থাকে।যাদেএ বয়স ৪০ বছর এর উপর তাদের মেরুদন্ডের হাড়ের   ক্ষয় এর কারনে ব্যথা হয়ে থাকে। তবে আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে কিডনির সমস্যার কারনে কোমরে ব্যথা হয়, তা পুরোপুরি সত্য নয়।তাই কোমর ব্যথা হলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর পরামর্শ অনু্যায়ী চিকিৎসা করলে ব্যথা থেকে তাড়াতাড়ি মুক্তি মিলবে।তবে বেশিরভাগ কোমর ব্যথা এত গুরুতর নয়। প্রাথমিক চিকিৎসা যেমন বিশ্রাম, চিকিৎসক এর পরামর্শ অনু্যায়ী কিছু  NSAID ঔষধ এবং নিয়মিত ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে ভাল হয়ে যায়। তাদেরকে এতটা ব্যয়বহুল MRI এর মত পরিক্ষা নিরিক্ষার দরকার হয় না।সাধারনত ফিজিক্যালি পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা করলে কোমর ব্যথা সেরে যায়।
 
কোমর ব্যথার কারন:
কোমর ব্যথার অনেক কারন আছে।তার মাঝে কিছু কমন কারন গুলো তুলে  ধরলাম।
১.উপুড় হয়ে কোন প্রকার ভারী বস্তু উঠাতে গেলে।
২.দীর্ঘক্ষন বসে অথবা দাড়িয়ে অনেকদিন কাজ করলে।
৩.কোমরের মাংশপেশী দূর্বল হয়ে গেলে।
৪.কোন প্রকার আঘাতের ফলে যেমন (এক্সিডেন্ট অথবা উপর থেকে পড়ে গিয়ে কোমরে কোন প্রকার আঘাত পেলে)।
৫.কোমরের হাড়ের ক্ষয়জনিত কারনে, বয়সের কারনে ক্ষয় হয়ে যাওয়া।
৬.PLID বা ডিস্ক প্রলাপ্স এর কারনে হতে পারে।
৭.অতিরিক্ত ওজনের জন্য।
৮.মেরুদন্ডের হাড়ের গঠনগত কারনে।
৯.আর্থাইটিস এর কারনে।
১০.মেরুদন্ডের টিউমার অথবা ব্রোন টিউমার এর কারনে।
১১.মেরুদন্ডের ডিফরমিটির কারনে।
১২. নরম ফোমের বিছানায় দীর্ঘক্ষন শুয়ে থাকলে।
১৩.দীর্ঘক্ষণ উপুর হয়ে শুয়ে বই পড়লে অথবা সোফায় শুয়ে থেকে টিভি দেখলে।
 
প্রতিরোধ :
১.উপুড় হয়ে কোন প্রকার ভারী বস্তু উঠানো যাবে না।
২.নরম ফোমের বিছানায় দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকা যাবে না।
৩.শরীরে অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে। 
৪.বসার সময় সোজা হয়ে বসতে হবে।
৫.একজন দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্ট এর পরামর্শ অনু্যায়ী নিয়মিত ব্যয়াম করতে হবে।
৬.সঠিক অংগভংগি বজায় রাখা যেমন কিভাবে বসবেন, কেমন করে নিচ থেকে কোন বস্তু উঠাবেন ইত্যাদি। 
৭. কোন পজিশনে বসে দীর্ঘক্ষণ অফিস অথবা বাসায় কম্পিউটার, ল্যাপটপ চালাবেন তা জানা।
৮.দীর্ঘ ভ্রমন করার সময় গাড়ির মাঝামাঝি বসতে হবে।
 
চিকিৎসা :
১.কোমর ব্যথার চিকিৎসার জন্য এই বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন তাদের সাথে পরামর্শ করে কিছু NSAID জাতীয় ঔষধ সেবন এবং মাসল রিলাক্সিন, ভিটামিন B1,B6, B12 জাতীয় ঔষধ সেবন করা যেতে পারে।
২.একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক এর পরামর্শ অনু্যায়ী সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে পারেন এবং ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক এর দেখানো ব্যয়াম নিয়মিত করলে কোমর ব্যথার উপসম পাওয়া সম্ভব। 
৩.বিশ্রাম নিতে হবে ৩-৪ সপ্তাহ।
ব্যথার ধরন ভেদে বিশ্রাম এর সময় নির্ভর করবে।
৪.গরম পানির সেক নিলে ভাল উপকার পাওয়া যাবে।
৫.ভ্রমন করার সময় (Lumber Corset)কোমরের সাপোর্ট বেল্ট ব্যবহার করলে অনেক উপকার হবে। 
৬.ভিটামিন ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে।
৭.শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৮.কোন কোন সময় কোমর ব্যথার জন্য অপারেশন এর দরকার হতে পারে।
     
ডা:মো:সাইদুর রহমান সোহেল(পিটি)
কনসালটেন্ট,
উত্তরা মর্ডান ফিজিওথেরাপি সেন্টার।
 


উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/তা

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা