BNP Leader Toriqul_Islam

তরিকুল ইসলাম। ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোর শহরে জন্মগ্রহণ করেন তরিকুল ইসলাম। পিতা মৃত আলহাজ্জ্ব আব্দুল আজিজ একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। মাতা মৃত মোসাম্মৎ নূরজাহান বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী।

তরিকুল ইসলাম দুই পুত্র সন্তানের জনক।

তরিকুল যশোর সরকারি সিটি কলেজে বাংলা বিভাগের উপাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৯৫৩ সালে তিনি যশোর জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৬১ সালে তিনি এই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

১৯৬৩ সালে তিনি যশোর মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় থেকে আই এ এবং ১৯৬৮ সালে একই কলেজ থেকে তিনি অর্থনীতিতে বি এ (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অর্থনীতিতে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন।

জীবনে নানা চড়াই উতরাই পার করা বর্ষীয়ান এই নেতা রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ সুপরিচিত ছিলেন। যশোর সদর আসন থেকে তিনি চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতেগড়া দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের মধ্যে তরিকুল ইসলাম ছিলেন অন্যতম। বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগে রোববার বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। মৃত্যুকালে তরিকুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন।

 

তরিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। গত কয়েক বছরে একাধিকবার তিনি সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা নেন।

প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘জাতি এক বরেণ্য রাজনীতিককে হারালো। তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে রাজনীতিতে একটা শূন্যতা তৈরি হলো যা পূরণ হওয়ার নয়।’

ফখরুল আরো বলেন, ‘জাতির সংকটকালে তরিকুল ইসলামের মতো একজন নেতা বড়ই প্রয়োজন ছিল। যিনি নেতাকর্মীদের মাতৃছায়ায় আগলে রাখতেন। দেশ ও জাতির জন্য যিনি সব সময় ছিলেন উৎসর্গকৃত প্রাণ।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘তরিকুল ইসলাম একজন নিবেদিত প্রাণ রাজনীতিবিদ ছিলেন। জিয়াউর রহমানের আর্দশের একজন কর্মী মনে করতে তিনি নিজেকে। যে কারণে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমৃত্যু কাজ করে গেছেন’।

তিনি আরো বলেন, ‘তরিকুল ইসলামের মতো এক রাজনীতিবিদের বিদায়ে আমরা অত্যন্ত শোকহত। তার শুন্যতা পূরণ হবে না’।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আসলে কী বলব, তরিকুল ইসলাম আমাদের মাঝে নেই এটা বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়। জাতীয়তাবাদী আদর্শের সাদা মনের একজন মানুষের বিদায় সত্যিই আমাদের বেদনার্ত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘কর্মী-বান্ধব নেতা ছিলেন তরিকুল ইসলাম। যিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের অসাধারণ নেতা। কখন অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করতেন না। যা তিনি আমাদের শিখিয়ে গেছেন। তার মৃত্যু আজকে এক মহানায়কের বিদায় হলো’।

তরিকুল ইসলাম চার দলীয় জোট সরকারের তথ্য ও পরিবেশ মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারেরও তিনি প্রথমে সমাজকল্যাণ এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন।

যশোর পৌর সভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তরিকুল ইসলাম। তিনি ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত ছিলেন। মাওলানা ভাসানীর অনুসারী হিসেবে তিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন তরিকুল।

দলের যুগ্ম মহাসচিব, সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তরিকুল ইসলাম। ২০০৯ সালে পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তরিকুল ইসলাম দলের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

রাজনৈতিক এই ব্যক্তিত্ব যশোর থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক লোকসমাজ’ পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন।

বিএনপিতে শোকের ছায়া

তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই নেতা-কর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বসুন্ধরা অ্যাপেলো হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে তিনি প্রয়াত নেতার স্ত্রী অধ্যাপিকা নার্গিস ইসলাম ও তার ছেলে সুমিত ও অমিতের সাথে কথা বলেন।

হাসপাতালের সামনে নেতা-কর্মীদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।

এই সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ অনেকই উপস্থিত ছিলেন।

 



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/টি

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা