Farakka_un

ভারত সরকার বিহার রাজ্যের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সামলাতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত ফারাক্কা বাঁধের প্রায় সবকটি গেট খুলে দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে পদ্মা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে টানা বর্ষণের কারণে ভারতের মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খন্ডে কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। ফলে রাজ্যগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। বিহারের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করে ফারাক্কা বাঁধ পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় ভারতের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তারা ফারাক্কার প্রায় সবকটি গেটই খুলে দিতে যাচ্ছেন।

ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব শশী শেখর বলেছেন, ‘আমি বিহারের মুখ্য সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা ফারাক্কার সবগুলো গেট খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এর ফলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।’

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সমীর সিনহা জানিয়েছেন, ফারাক্কায় ১০৪টি গেটের মধ্যে এখন প্রায় ১০০ গেট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ গেটগুলো খুলে দিলে ১১ লাখ কিউসেক পানি সরে যাবে। এতে বিহারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ফারাক্কার গেটগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশকে আগেই নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, ‘ফারাক্কা খুলে দেওয়ার প্রভাবে পদ্মা নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে এর প্রধান শাখা গড়াই নদেরও পানি বাড়ছে। এর প্রভাবে রাজশাহী অঞ্চল থেকে শুরু করে পাবনা অঞ্চল পর্যন্ত নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হচ্ছে। ফলে স্থানীয়দের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেয়ার কারণে সেই পানি চলে আসছে বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে। পদ্মা নদীতে পানি এখন বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। প্রতি তিন ঘণ্টায় দুই সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। যে গতিতে পানি বাড়ছে, তা অব্যাহত থাকলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীতে পানির বিপদসীমা হচ্ছে ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। সেখানে শুক্রবার দুপুর ১২ টায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে ১৪ দশমিক ০৬ সেন্টিমিটার। বিপদসীমা থেকে মাত্র পয়েন্ট ১৯ সেন্টিমিটার দূরে।

গত ১৮ আগস্ট এ পানির মাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার। ১৯ আগস্ট ছিল ১৩ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। ২৫ আগস্ট ছিল ১৩ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার। প্রতি তিন ঘন্টায় ২ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রধান শাখা গড়াই নদেও অব্যাহতভাবে পানি বাড়ছে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমূল হক জানান, বিহারে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া ভারত তাদের ফারাক্কা বাধের দরজা খুলে দিয়েছে। তাতে পদ্মায় পানি বেড়ে যাচ্ছে। যে গতিতে পানি বাড়ছে তাতে শনিবারের মধ্যে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে। আমাদের টিমের সদস্যরা সর্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।

সময়ের কণ্ঠস্বরের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরে পদ্মা নদীতে পানি বিপৎসীমা থেকে মাত্র পয়েন্ট ১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রধান শাখা গড়াই নদীর পানিও বাড়ছে।

এদিকে হঠাৎ করে পদ্মায় পানি বাড়ায় জেলার দৌলতপুর উপজেলা চিলমারি ও রামকৃঞ্চপুর ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রতিটি ঘরেই পানি ঢুকে পড়েছে। ঘরের মধ্যে মজুদ রাখা পাট, ধান মরিচসহ সব কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। এসব এলাকায় তীব্র খাবার পানি সংকট দেখা দিয়েছে।

বাজুমারা গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, নলকুপ ডুবে যাওয়ায় পান করার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। নৌকায় করে গ্রামবাসীকে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

দৌলতদিয়া উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ জানান, গত কয়েক দিন ধরে অব্যাহতভাবে পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় চিলমারির ১৮ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ। তিনি দাবি করেন সাম্প্রতিক সময়ে বন্যায় এতো ক্ষতি আর কখনও হয়নি।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / সারোয়ার জাহান

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা