শ্রমিক আন্দোলন

জাতীয় নির্বাচন এবং কোরবানীর ঈদের আগে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ৪০ লক্ষ শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধির ইস্যু নিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর জাল পাতানো হচ্ছে।

১৯৮৪ সাল থেকে এই গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ২০১২ সাল পর্যন্ত ১৬৬২টাকা নুন্যতম মজুরি অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু শ্রমবান্ধব প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের ভেতরের দায়িত্ব পালনরত কিছু শ্রমিক নেতৃবৃন্দের কারণে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি ৫৩০০টাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট করা করা হয়েছিল। তার সাথে বার্ষিক ৫% ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়েছিল। চুক্তি হয়েছিল ৫ বছর পরে ৫৩০০টাকা নুন্যতম মজুরি পুননির্ধান করা হবে। বাজারদর, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম, দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য, অর্থনীতি, সামাজিক পরিস্থিতি এবং অন্যান্যবিষয়সমূহ বিবেচনা করে বেতন পূণনির্ধারন করা হবে। পাঁচ বছরের সেই মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে।

এই বেতন পুননির্ধান করার জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও তারা পর পর ছয়টি বৈঠক করে এ সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে না পারায় সরকারের কাছে আরো তিন মাস সময় প্রার্থনা জানিয়েছে।

সেইমতে ৩ মাস পর যদি এই মজুরি বোর্ড রিপোর্ট প্রদান করে সেই রিপোর্ট সরকার গ্রহন করলে তা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব অর্পিত হবে নির্বাচন কালীন সরাকারের উপর যা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি অবশ্যম্ভাবী।

আগামী কোরবানী ঈদের আগে এবং বর্তমান সরকারের মজুরির অঙ্গীকার পূরন করা অনির্শ্চয়তার মধ্যে হাবু ডুবু খাচ্ছে। এব্যাপারে খোজ নিয়ে জানা গেছে মালিকেরা ৬২৬০ টাকার বেশী দিতে রাজি নন, অন্য দিকে শ্রমিকেরা ১৬০০০টাকার নিচে মজুরি গ্রহন করতে রাজি নন।

এমতাবস্থায় শ্রমিক নেতা ইসরাফিল আলম সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনায় তিনি জানান, মজুরি বোর্ড গঠন ও পরামর্শক কমিটির কাজটি আলোচনা ও সুপারিশ মালিক শ্রমিকের দাবী এ গুলো আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হলেও তা মূলতঃ আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কারণ গার্মেন্টস শ্রমিক মালিকরা দল মত নির্বিশেষ এতই ঐক্যবদ্ধ তারা কারও ধার ধরে না। সেই কারণে প্রতিবারই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এগিয়ে আসতে হয়েছে। দায়িত্বশীল হস্তক্ষেপের মাধ্যেম মজুরি নির্ধারনে নিরসন করতে। এবারো এই কঠিন দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত তাকেই পালন করতে হবে।

এ সেক্টরে ৮০% মহিলা শ্রমিক যারা গ্রামের দরিদ্র, হত দরিদ্র পরিবার থেকে আগত। এই সেক্টর নারীর ক্ষমতায়ন দিয়েছে, রপ্তানি আয় প্রবৃদ্ধি করেছে সবই সত্য। কিন্তু নারীত্বের ভাগ্যের উন্নতি যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সেই অনুপাতে গার্মেটস শ্রমিকদের উন্নতি হয়নি। এখনো বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি, পেনশন, গ্রুপ বীমা, ডরমেটোরি করার অঙ্গীকার মালিকপক্ষ বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে আসেনি। তবে শ্রমিকদের এই মৌলিক দাবীগুলি পূরণ করতে নীতি সহায়তা প্রদান করছে।  আমার ব্যক্তিগত ভরসা এবং আশাবাদের জায়গা হলো বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশ রত্ন শেখ হাসিনা তাকেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের এই দুরবস্থা ও যন্ত্রণা নিরসনের জন্য স্থায়ী সমাধানের সিদ্ধান্ত বা দিকনির্দেশনা দিতে হবে। অন্যথায় আইন নীতি মানবাধিকার শ্রম অধিকার শ্রম নিরাপত্তা ইত্যাদি যতই নীতিবাক্য আবৃতি করি না কেন গার্মেন্টস মালিকদের তাতে কিছুই যায় আসে না। আমরা আশাকরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী ঈদের পূর্বেই নূন্যতম মজুরি বোর্ড ও সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডেকে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণ যোগ্য সমাধান উপহার দিবে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / পিকেবি প্রকাশ

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা