ain_un

রংপুর সদর উপজেলায় চাউল বোঝাই ট্রাকে ডাকাতি এবং চালকসহ দুইজনকে হত্যার দায়ে ১০ জনকে আমৃত্যুকারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডসহ উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করেছে আদালত।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক আবু জাফর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ রায় প্রদান করেন। আসামিদের মধ্যে তিনজন কারাগারে উপস্থিত ছিলেন। বাকি সাত আসামি পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতারের পর দণ্ড কার্যকর করা হবে বলে বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন।
 
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, পটুয়াখালির গলাচিপা এলাকার আবুল বাশার (৪০), একই এলকার চান্দু মৃধা (৩০), সোবহান শিকদার (২৭), পটুয়াখালির শহীদ, অহিদ, নজরুল ইসলাম সুমন, বরগুনার জসীম, খাগড়াছড়ির মানিক, রংপুরের শাহিন ও বাবুল হোসেন।
 
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৮ মার্চ দিনাজপুরের রুহিয়া থেকে দুই শ বস্তা চাউল নিয়ে ট্রাকে করে সিরাজগঞ্জে আসার সময় রাত সাড়ে নয়টার দিকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বারাতি নামক স্থানে একদল ডাকাত একটি খালি ট্রাক নিয়ে চাউল বোঝাই ট্রাকটিতে পেছন দিকে থেকে ধাক্কা দেয়।
 
এতে চালবোঝাই ট্রাকটি থেমে যায়। এ সময় খালি ট্রাকে থাকা একদল ডাকাত অস্ত্রের মুখে চাউল বোঝাই ট্রাকের চালক পরেশ চন্দ্র, হেলপার সন্তোষ কুমার ও চাউলের মালিক হারান চন্দ্রের হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ডাকাতদল তাদের খালি ট্রাকে দুই শ বস্তা চাউল এবং ট্রাকের চালক, হেলপার ও চাউলের মালিককে তুলে নেয়।
 
পরে রংপুরের বদরগঞ্জ সড়কে হাসনানগর এলাকায় চলন্ত ট্রাক থেকে তাদের ফেলে দেয় ডাকাতদল। পরে ডাকাতদল দ্রুত ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই সড়কে একটি ভ্যানকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই ভ্যান চালক মনোরঞ্জনের মৃত্যু হয়।
 
এদিকে ট্রাক থেকে ফেলে দেয়া ট্রাক চালক, হেলপার ও চাউলের মালিককে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ট্রাক চালক পরেশ চন্দ্রকে মৃত ঘোষণা করেন।
 
এ ঘটনায় তারাগঞ্জ থানায় চাউল বোঝাই ট্রাকের হেলপার সন্তোষ কুমার ও চাউলের মালিক হারান চন্দ্র বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলায় মোট ৪৬ জন সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।


উত্তরানিউজ২৪ডটকম / সারোয়ার জাহান

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা