yaba-rule-uttaranews24

সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ এর খসড়া আজ সোমবার (৮ অক্টোবর) মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভা বৈঠকের আলোচ্য সূচিতে আইনটির খসড়া রয়েছে বলে  জানা গেছে। একই বৈঠকে ‘বাংলাদেশ শ্রম সংশোধন আইন ২০১৮’ এর খসড়াও উপস্থাপন করা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়ায় বহুল প্রচলিত ইয়াবা বা এ্যামফিটামিনের ব্যবসা সংক্রান্ত অপরাধের দণ্ড হিসেবে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। খসড়া আইন কার্যকর করা হলে মাদকাসক্ত সনাক্তের জন্য ‘ডোপ টেষ্ট’ কার্যকর করা সম্ভব হবে। নতুন করে যেকোন মাদক এলেই তাকে মাদক দ্রব্যের তালিকায় ফেলা যাবে। খসড়াটিতে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি করার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। মাদক বিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এই অবস্থায় সরকার দীর্ঘ দিন থেকেই বলে আসছে তাঁরা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করছেন। সংশোধনের জন্য যে খসড়া করা হয়েছে তাই আগামীকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

দেশে বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবহার হচ্ছে।  মাদকের অনেক উপজাত, মিশ্রনও ব্যবহৃত হচ্ছে।  এসব মাদকদ্রব্যের কোনটি জীবননাশক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরুপ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। 

বর্তমান মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে ইয়াবা বা এ্যামফিটামিন জাতীয় ট্যাবলেট নেই। অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এগুলোর  নিয়ন্ত্রণ ও মামলা পরিচালনায় আইনগত বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন আইনে ইয়াবাকে মাদকের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক কালে ইয়াবার আগ্রাসন ভয়াবহভাবে বেড়েছে। কর্মক্ষম যুব সমাজের একটা বড় অংশ ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। ‘শিশা বার’ এর আগ্রাসনে  নৈতিক অবক্ষয়সহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া মাদক সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে ভ্রাম্যমান আদালতের এখতিয়ার বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়া আইনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে ‘নিয়ন্ত্রিত বিলি’ এর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রিত বিলির অর্থ হবে অপরাধ সংগঠনে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করিবার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিশেষ তদন্ত কৌশল। এর ফলে কোনো মাদক দ্রব্য, এর উৎস, উৎপাদন বা মিশ্রণের বেআইনী অথবা সন্দেহজনক চালানকে তদন্তের ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো আইন প্রণয়নকারী সংস্থা সরকারের জ্ঞাতসারে ও তত্ত্বাবধানে শেষ গন্তব্য পর্যন্ত অনুসরণ করা এবং এ কার্যক্রমের সহিত জড়িত সব অপরাধীকে গ্রেপ্তর করা। সরকার সর্বোচ্চ তিন মাস সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রিত বিলির অনুমোদন দিতে পারবে।  

খসড়া আইনে বর্তমান আইনের বোর্ড গঠনের বিধান বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে বোর্ডের অনেক ক্ষমতা। নির্বাহী ক্ষমতার মতো। এতে দ্বৈত ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। এজন্য প্রয়োজনে উপদেষ্টা কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। মাদক বিরোধী সামাজিক আন্দোলন তৈরি করার জন্য প্রস্তাবিত আইনে জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

বর্তমান আইনে মহাপরিচালকের লিখিত অনুমোদন ছাড়া কোনো চিকিৎসক কোনো মাদকদ্রব্য ওষধ হিসেবে ব্যবস্থাপত্র দিতে পরতেন না। খসড়া আইনে মহাপরিচালককে এই জায়গা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকই ক্ষমতাবান। তাই মহাপরিচালকের পরিবর্তে বিএমডিসির সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসককেই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

খসড়া আইনে বিভিন্ন অপরাধের বিভন্ন দণ্ডের কথা বলা হয়েছে। অপিয়াম পপি গাছ সম্পর্কে বলা হয়েছে গাছের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টি হলে কমপক্ষে এক বছর এবং সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থ দণ্ড হবে।  গাছের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০০টি হলে কমপক্ষে ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থ দণ্ড দেওয়া হবে। গাছের সংখ্যা ১০০টির বেশি হলে কমপক্ষে ১০ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থ দণ্ড দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। এসব কনভেনশন বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারাবদ্ধ। বর্তমান মাদকদ্রব্য আইন ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অনেক মাদকদ্রব্য ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক মাদক ওষুধ হিসেবে দেশে উৎপাদনও হচ্ছে। এসব ওষুধকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের তফসিলভুক্ত করা প্রয়োজন।

মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনটি সংশোধন করা হলে বিভিন্ন সুফল পাওয়া যাবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মাদক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হবে। বিচার কাজ ত্বরান্বিত হবে যার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া যাবে। মাদকের করাল গ্রাস থেকে দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করা যাবে। দণ্ড প্রদানের পাশাপাশি যুব সমাজকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন দিয়ে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা যাবে। নতুন ধারা সংযোজনের মাধ্যমে গডফাদার ও মাদক ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগকারীদের শান্তির আওতায় আনা যাবে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত শাস্তি দেওয়া যাবে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/তা

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা