uttara rab picture

রাষ্ট্রবিরোধী গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ইউটিউব চ্যানেল এসকেটিভি (SK-Tv) এ্যাডমিনও শিবিরকর্মী আসামি খালিদ বিন আহম্মেদ তার সহযোগী মো. হিজবুল্লাহকে (২১) সহ দুইজনকে আটক করে র‌্যাব-১-এর একটি দল। এ সময় আসামীদের নিকট হতে ২টি মনিটর, ১টি সিপিইউ, ১টি ট্যাব, ২টি ভয়েজ রেকর্ডার, ১টি সিপিইউ এর পাওয়ার ক্যাবল, ১টি মাউস, ২টি কী বোর্ড, ২টি পাওয়ার এ্যাডাপ্টার ক্যাবল, ১টি হেড ফোন, ১টি সাউন্ড বক্স ও ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।


শুক্রবার রাতে রাজধানীর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এদের দুইজনকে আটক করে র‌্যাব-১-এর একটি দল।
গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।


র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাবের আইনও গনমাধ্যম শাখার মেজর রইসুল আযম মনি,র‌্যাব-১ এর অপস অফিসার (এএসপি) সামিরা সুলতানা সহ অন্যান্য র‌্যাব কর্মকর্তারা এসময় সাথে ছিলেন।


র‌্যাব-১-এর কমান্ডিং অফিসার (অধিনায়ক) সারওয়ার বিন কাশেম প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদেরকে বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত খালিদ ইউটিউব চ্যানেল এসকেটিভির অ্যাডমিন। গত দুই বছরে রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক বিভিন্ন ভিডিও আপলোড করে আসছিল সে।


তিনি আরো বলেন, খালিদ বিভিন্ন ভিডিওতে ভয়েস দিতো এবং হিজবুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিতর্কিত বিভিন্ন ছবি সংগ্রহ করে এডিট করে আপলোড করতো। তারা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর ও ভিডিও সংগ্রহ করে ইচ্ছেমতো তথ্য সংযোজন করে ভিডিও আকারেও প্রকাশ করতো। এর সঙ্গে সে তার মতো করে মিথ্যা মনগড়া তথ্য ভয়েসের মাধ্যমে যুক্ত করতো। এভাবে এই ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে উসকানিমূলক গুজব ছড়ানো হতো।


সম্প্রতি সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে নিয়ে বিতর্কিত ভিডিও আপলোড করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, কোটা ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনেও তারা মনগড়া বক্তব্যযুক্ত ভিডিও প্রকাশ করে। অনেক সময় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করলেও তার মধ্যে ভয়েসটা থাকে তাদের মনগড়া। এ ধরনের মিথ্যা দিয়ে তারা উসকানি ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। এসকেটিভিতে বিপুলসংখ্যক সাবস্ক্রাইবার ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এই চ্যানেলে রাষ্ট্রবিরোধী বিরূপ সমালোচনা, গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানহানিকর গুজব প্রচার করে দেশে-বিদেশে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।


প্রেসব্রিফিংয়ে সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, আটক আসামি মো. খালিদ বিন আহম্মেদ ২০০৬ সালে মধ্য বাড্ডা আরাতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে হাজীগঞ্জ দেশগাঁও ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। এরপর ২০১৪ সালে হাজীগঞ্জ আইডিয়াল কলেজ অব এডুকেশনে বিবিএ-তে ভর্তি হয়। বিবিএ পড়ার সময় সে হাজীগঞ্জ ক্যামব্রিয়ান স্কুলে পার্টটাইম চাকরি নেয়। ছয় মাস সেখানে চাকরি করে। ২০১৬ সালে তার ছোট ভাই গোলাম মাওলা নাহিদের মাধ্যমে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড, এডিটিং করার কাজে যুক্ত হয়। সে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং তার বাবা জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে জড়িত।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালিদ জানায়, সে ইউটিউবের ঝকঞঠ নামের অনলাইন চ্যানেলের অ্যাডমিন। সে বিভিন্ন ভিডিওতে ভয়েস দিতো এবং তার সহযোগী হিজবুল্লাহ বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থেকে সংগ্রহ করে এডিট করে সেগুলো আবার ইউটিউবে আপলোড করতো। গত দুই বছর ধরে এই ইউটিউব চ্যানেলটি পরিচালনা করছিল সে।


আর আসামি হিজবুল্লাহ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি সে কিছুদিন শাহজাদপুরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করে। তখন তার এক বন্ধুর মাধ্যমে খালিদের সঙ্গে পরিচয় হয়। খালিদ তাকে এই কাজে যুক্ত হওযার প্রস্তাব দেয়। তারপর থেকে সে প্রায় দেড় বছর এই ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে জড়িত। শিবিরকর্মী মোঃ খালেদ বিন আহম্মেদ (৩০), পিতাঃ মোঃ নূর আহম্মেদ, সং-ডাটরা, শিবপুর, পো- কাশিমপুর, থানা-হাজিগঞ্জ, জেলা-চাঁদপুর এবং মোঃ হিজবুল্লাহ (২১), পিতা- মোঃ নোমান দেওয়ান, সাং-কৃষ্ণপুর, পো- বালিথোবা, থানা-ফরিদগঞ্জ, জেলা-চাঁদপুর।


সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক সাংবাদিকদেরকে জানান, প্রাথমিকভাবে এই চ্যানেলের সঙ্গে দুইজনই জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া, আরও কেউ জড়িত আছে কিনা এবং কোনও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এই চ্যানেলটি পরিচালিত হতো কিনা, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এবিষয়ে ধৃত আসামীদের বিরুদ্বে প্রয়োজনীয় আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / এস.এম. মনির হোসেন জীবন

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা