uttaranews- golden bar সোনার বার

চোরাচালানিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা সোনার বার আত্মসাতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিচার শেষে রামপুরা থানার এক এসআইসহ তিন পুলিশ ও সোর্সকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান পুলিশের ওই তিন সদস্যকে  দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে পাঁচ বছর করে ও সোর্সকে তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
 
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মামলার পর সাময়িক বরখাস্ত এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম, কনস্টেবল আকাশ চৌধুরী ও কনস্টেবল ওয়াহিদুল ইসলাম ও সোর্স মাহফুজ আলম রনি।

প্রত্যেককে দণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে অতিরিক্ত এক বছর কারাভোগ করতে হবে। তবে সোর্স রনিকে জরিমানা অনাদায়ে ছয়মাস কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ের আদেশে বলা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা এসআই মঞ্জুরুলকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় দেওয়ার পর  সাজা পরোয়ানা দিয়ে হাজতে পাঠানো হয়।
 
মঞ্জুরুলের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট জগন্নাথ সাহা। অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট রুহুল ইসলাম খান। মামলার তিন আসামি জামিনে গিয়ে পলাতক হওয়ায় তাদের পক্ষে পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নাই। তাদের গ্রেপ্তারে সাজা পরোয়ানাসহ জরিমানার টাকা আদায়ের লেভি পরোয়ানা ইস্যু করার আদেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘটনার বিবরণে বলা হয়, মামলার বিচার চলাকালে চার্জশিটভুক্ত ৫৪ জনের মধ্যে ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে অভিযোগ গঠন করা হয়। অব্যাহতি দেওয়া হয় চার্জশিটভূক্ত আসামি মাইক্রোবাস চালক সজীব শিকদারকে। এর আগে একই বছরের ১৪ মে চারজনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম।

রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ রামপুরা থানা পুলিশ একটি মাইক্রোবাস থেকে ২৩৫টি সোনার বারসহ গাড়ি আটক করে। ওই সময় মাইক্রোবাস রেখে পালানোর সময় সমীর ও মুহিন নামের দুজন আটক হন। ঘটনার তিন দিন পর ৭০টি বার উদ্ধার দেখিয়ে সমীর ও মুহিনের বিরুদ্ধে রামপুরা থানায় একটি চোরাচালান মামলা দায়ের করা হয়। থানা হেফাজতে নেওয়ার পর ওই দুই আসামি গাড়িতে ২৩৫টি সোনার বার ছিল বলে জানায়।

পরে তৎকালীন ডিএমপির কমিশনার বেনজীর আহমদের নির্দেশে মামলার তদন্ত করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পৃথক তিনটি দল নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে পুলিশের তিন সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে বাকি একশ ৪৯টি সোনার বার উদ্ধার করে যার ওজন সতের কেজি ৩শ ৭৬ গ্রাম ৭শ মিলিগ্রাম। ওই সময়ে সেগুলোর বাজার মূল্য ছিল সাত কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

পরে ৭ এপ্রিল  ওই আসামিদের বিরুদ্ধে  ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে রামপুরা থানায় মামলাটি দায়ের করেন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক ফজলুল হক। একই ঘটনায় সদর দপ্তরে ক্লোজ করা হয় রামপুরা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালাকে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / নিজস্ব প্রতিবেদক

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা