২১ আগষ্ট

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর পক্ষে আইনি বিষয়ে যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর পরই রায়ের তারিখ ধার্য করা হবে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি লুৎফুজ্জামান বাবর। তাঁর পক্ষে গতকাল তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তিতর্ক শুনানি করার পর তা শেষ হওয়ার কথা জানান তাঁর আইনজীবী নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শুনানি শেষ হলেও আগামী ধার্য তারিখে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ল পয়েন্টে বক্তব্য দেবেন।’ এরপর বিচারক পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। 

রাজধানীর নাজিমুদ্দীন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিশেষ এজলাসে ২১ আগস্ট ঘটনায় উদ্ভূত হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলার কার্যক্রম চলছে। বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন শুনানি গ্রহণ করছেন। গতকাল যুক্তিতর্ক শুনানির ১১২তম দিন অতিবাহিত হয়। গত বছর ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানি করে। পরে আসামিপক্ষ শুনানি করে।

গতকাল আসামি বাবরের পক্ষে নজরুল ইসলাম মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল কাহ্হার আকন্দের সাক্ষ্য থেকে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। তিনি আদালতে বলেন, ২১ আগস্ট মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা, এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তবে লুৎফুজ্জামান বাবর ২১ আগস্ট হামলার ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিলেন না। সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণে বাবরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে। বাবরকে বেকসুর খালাস দেওয়ার আরজি জানান নজরুল ইসলাম।

আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, আসামিপক্ষ থেকে মামলার বিচার বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তা শেষ করায় তিনি আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আসামিপক্ষ যেসব যুক্তিতে বাবরের খালাস প্রার্থনা করেছেন তা টেকে না। কেননা আসামি বাবর ২১ আগস্ট ঘটনায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন তা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করেছে। বাবর হাওয়া ভবন ও আবদুস সালাম পিন্টুর সরকারি বাসভবনে ২১ আগস্ট হামলার বিষয়ে ষড়যন্ত্রমূলক সভায় সরাসরি অংশ নেন, তা সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণে উঠে এসেছে।

রেজাউর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলের খুব কাছেই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের অফিস হওয়ার পরও তিনি একবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি। ইতিহাসের বর্বরোচিত এই হামলা নিয়ে তাঁর কোনো মাথব্যথা ছিল না।  তিনি  যে হামলাকারীদের নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে সরে যেতে প্রশাসনিক সহায়তা করেছেন সেটাও প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমান ২১ আগস্ট ঘটনার বিষয়ে তাঁর কার্যালয় হাওয়া ভবনে ষড়যন্ত্রমূলক সভায় মিলিত হন এবং সেই সভার আলোকে হামলাকারীদের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

গতকাল আদালত বলেন, ‘সব আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় মামলার বিচারকার্য পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিচারকার্য পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী রেজাউর রহমান জানান, আইনি বিষয়ের ওপর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হলেই মামলার রায়ের তারিখ ধার্য হবে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা