dudak

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, 'দুর্নীতিবাজদের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হবে। দুর্নীতিবাজ শকুনের উৎপাত অব্যাহত আছে। এরাই ব্যাংক লুট করছে, ঘুষ নিচ্ছে, ব্যবসায় অনৈতিক কাজ করছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে। তারা ঔদ্ধত্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।'  

শনিবার আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

দুদক আয়োজিত রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।  

দুদক চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড.মো. শামসুল আরেফিন, মহারিচালক মো. জাফর ইকবাল প্রমুখ। 

সভায় দুদকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রোভার্স স্কাউট, গার্লস গাইড ও বিএনসিসির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

প্রধান অতিথি মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, 'সেদিন বেশি দূরে নয়- যেদিন এই দেশ থেকে দুর্নীতি দূর হবে। তখন পৃথিবীর অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও দুর্নীতি দমন কমিশন থাকবে না। বাংলাদেশ অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত হবে কারণ কোনো কাগজে স্বাক্ষর দিয়ে দেশটির জন্ম হয়নি। মানুষ যুদ্ধ করে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে এই দেশটি স্বাধীন করেছে।' 

তিনি আরো বলেন, 'দুর্নীতি দমন কমিশনের নামটা পরিবর্তন করে সুনীতি বিকাশ কমিশন করা যেতে পারে।'  

দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, 'সমাজে দুর্নীতিবাজ শকুনের উৎপত্তি ঘটেছে। এইসব শকুনদের উৎখাত করতে চাই। দুর্নীতিবাজরা তাদের ঔদ্ধত্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। সময় হয়েছে সবাই এক হয়ে এই ঔদ্ধত্যের বিষদাত ভেঙে দেওয়ার। ভবিষৎ প্রজন্মের জন্যই দুর্নীতিবাজদের সমূচিত দিতে হবে। এ কাজটি করা দুদকের একার পক্ষে সম্ভব নয়। দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।' 

দেশবাসীকে উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই একটি কথাই বলি- দুর্নীতিবাজদের আমরা ছাড়বো না।’ 

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, 'আগামী প্রজন্মের জন্য কোনভাবেই দুর্নীতিবাজদের অপকর্ম সহ্য করা হবে না। এই হোক আজকের শপথ।' 

‘আসুন দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হই’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এবার দুদক ঢাকাসহ সারাদেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন করেছে। শনিবার সকালে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গনে দুদক চেয়ারম্যান পায়রা, বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। 

এ সময় কমিশনার  এএফএম আমিনুল ইসলামসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যান দুদক মিডিয়া সেন্টারের সামনে দুর্নীতিবিরোধী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচির অনুষ্ঠানিক শুরু করেন। আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাক্ষর গ্রহণ করা হবে। 

উদ্বোধন শেষে ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'এবছর সরকারিভাবে দিবটি পালন করা হচ্ছে। এতে দুর্নীতিবিরোধী সংগ্রামে মানুষ উৎসাহিত হবে।' 

তিনি আরো বলেন, 'অনেক দুর্নীতিপরায়ণরাই ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে স্ত্রী বা নাবালক সন্তানদের নামে অবৈধ অবৈধ সম্পদ রাখেন। এজাতীয় নারী অথবা নাবালক সন্তানদের অবৈধ সম্পদের বিষয়গুলো কমিশনে আসলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ব্যতীত বিকল্প পথ থাকেনা। বিষয়গুলো নিয়ে নারীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।' 

এরপর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুর্নীতিবিরোধী মানবন্ধন করা হয়। এ সময় দুদকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারি, ঢাকা মহানগর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য, গার্ল গাইডস, স্কাউট, বিএনসিসি, ঢাকা জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা অংশ নেয়। 

মানববন্ধন চলাকালে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, 'বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।' 

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জাফর ইকবাল উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, 'টাকা পয়সা বা ক্ষমতার মাধ্যমে জীবনকে উপভোগ করা যায় না। নিঃস্বার্থভাবে সমাজকে কিছু দান করেই জীবনকে উপভোগ করতে হয়। প্রথমত নিজে সৎ থাকা, অন্যায় না করা, অন্যকে করতে না দেওয়ার চর্চা এখন থেকেই করতে হবে। টাকার উপর বসে থাকার জন্য জীবন নয়। নতুন সহস্রাব্ধে পৃথিবীর বিখ্যাত বুদ্ধিজীবীরা বলেছেন, এই সহসাব্ধের সম্পদ হচ্ছে জ্ঞান। আর ঠিক মতো  লেখা-পড়া করেই জ্ঞান অর্জন করতে হয়। যারা জ্ঞান অর্জন করতে পারে ঐশ্বর্য তাদের পেছনেই ছুটে বেড়ায়।'



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা