ডা: সাইফুল

কেউ কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, আপনি জীবনে কোনদিন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নেন নাই, তাতে কি হয়েছে আপনার ! আমি বলব আপনি আসলে ফিজিওথেরাপি পান নাই । সঠিক ফিজিওথেরাপি আপনার জীবনে কোন না কোন সময়ে প্রয়োজন ছিল এবং বেচে থাকার জন্য ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন হবেই । আর কেউ যদি প্রতারিত হন তাহলে দেখে নিন , উনি কি আসলেই ফিজিওথেরাপিস্ট নাকি কোয়াক ! তবে সব মানুষ যেমন সমান না, তাই সব ফিজিওথেরাপিস্টও সমান না । সঠিক ফিজিওথেরাপি পেলে আপনি অবশ্যই উপকৃত হবেন , কারণ ফিজিওথেরাপি একটি গবেষনালদ্ধ চিকিৎসা ব্যবস্থা।এখানে কোন ধরনের সন্দেহের অবকাশ নেই ।

সারাবিশ্বেই ফিজিওথেরাপি স্বাস্থ্যখাতের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ । ফিজিওথেরাপি ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা কখনই সম্পূর্ণ হতে পারে না । যেমন আপনি অনেক সুন্দর করে একটি বাড়ি তৈরি করলেন, কিন্তু বাড়িতে জানালা রাখলেন না, ঠিক তাই আপনি অনেক সুন্দর একটি হাসপাতাল করলেন কিন্তু ফিজিওথেরাপি বিভাগ রাখলেন না কিংবা রাখলেও গ্রাজুয়েট ফিজিওথেরাপিস্ট নাই, আমাদের অবস্থা জানালা ছাড়া বাড়ির মালিকের অবস্থা । আমাদের সরকারি হাসপাতালে কি অবস্থা আপনারা নিশ্চয় জানেন ।সেখানে কোন গ্রাজুয়েট ফিজিওথেরাপিস্ট নাই , কিভাবে চলতেছে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ? হ্যাঁ আপনি বলতে পারেন , বাংলাদেশের এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে কোন ফিজিওথেরাপিস্ট তো দূরের কথা, ফিজিশিয়ানও নেই, তারা কি চলতেছে না। আমি বলব হ্যাঁ চলতেছে, একসময় যখন এই দেশে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা ছিল না, কিংবা এমবিবিএস, বিডিএস কিংবা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছিল না তখন মানুষ কিভাবে কি করত?

আমরা ইতিহাস খুজলে পাই তখনকার স্বাস্থ্যসেবা কেমন ছিল। ঠিক ফিজিওথেরাপি ছাড়াও মানুষ একই অবস্থা হচ্ছে। দিনের পর দিন কোমর ব্যথা, হাটু ব্যথা, বাত-ব্যথা, প্যারালাইসিসস, অপারেশনের পর পঙ্গুত্ব ও প্রতিবন্ধিতা প্রভৃতি নিয়ে মানুষ জীবনযাপন করতেছে। এখন আপনি যদি ভাবেন আপনি স্বাস্থখাতের বস আপনি শুধু ঔষধ দিয়ে কিংবা হিট, তাপ বা অদক্ষ ভুয়া ফিজিওথেরাপিস্ট দিয়ে আর যন্ত্রপাতি থেরাপি দিয়ে এইসব সমস্যা সমাধান করবেন- তাহলে ব্যাপারটা কি হবে? আপনি অন্ধকারে বসে সুন্দরী রমনীর দিকে তাকিয়ে হাসছেন! আর ইতিহাস আপনাকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ।কারণ মানুষ দিন দিন সচেতন হচ্ছে এবং আরও হবে ।

 আপনি যদি সুন্দর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চান, আপনাকে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, থানা পর্যায়ে একাধিক ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ করতে হবে। সেজন্য প্রতিটি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস বা বিডিএস এর সাথে বি.এস.সি ইন ফিজিওথেরাপিতেও (বিপিটি) ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করাতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়- এসব বিষয়ে আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের কোন পরিকল্পনা বা নূন্যতম উদ্যোগও নেই। এর পিছনে কাজ করে স্বাস্থ্য খাতের বিশাল রাজনীতি। এমবিবিএস বা বিপিটি ডিগ্রিধারি এই দুই ধরনের চিকিৎসকদের মধ্যে। অনেক এমবিবিএস চিকিৎসকের ধারণা ফিজিওথেরাপি একটি ছোট কোর্স, তারা ভাবে তাদের অধীনে চলবে। অথচ বিপিটি ( বি এসসি ইন ফিজিওথেরাপি) কোর্সটি ৫ বছরের একটি কোর্স যা এমবিবিএস, বিডিএস এর মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের অধীনে পরিচালিত। এটা অনেকেই জানেনা, জানলেও প্রফেশনাল ঈর্ষার কারণে অবজ্ঞা করে।যার ভুক্তভোগি হচ্ছে এই দেশের সাধারন মানুষ ।

ইউরোপ-আমেরিকা, ভারত-পাকিস্তানে ফিজিওথেরাপিস্টরা সমান মর্যাদা নিয়ে স্বতত্রভাবে প্র্যাকটিস করছে। আমাদের দেশে বর্তমানে প্রায় ২ হাজারের মত ফিজিওথেরাপিস্ট আছে , অথচ ১৬ কোটি মানুষকে ভাল সেবা দেওয়ার জন্য ৩০ হাজার ফিজিও দরকার তাহলে কে দেবে এই সেবা? নিশ্চিত মানুষ ব্যথার ওষুধ খাবে, ভুয়া ফিজিওথেরাপি গ্রহণ করবে কিংবা এভাবে কষ্ট পেতে থাকবে।

 ডা: সাইফুল ইসলাম,পিটি প্রতিষ্টাতা ও কোর্ডিনেটর ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার , উত্তরা , ঢাকা ।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা