সাক্ষাৎকার

দেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নতুন করে প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। পরমতসহিষ্ণুতা যেন আমাদের দেশের রাজনীতি থেকে একেবারেই উঠে গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনের বড় সংকট হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব। যে কারণে অতীতে বহুবারই দেশে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। সেই অচলাবস্থা দূর করতে শেষ পর্যন্ত বিদেশিদের সহায়তা নিতে হচ্ছে। অথচ আজকের দিনের বাস্তবতায় দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সব সংকট দূর করার উদ্যোগ নিলে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না। সব সূচক ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়া নিশ্চিত হবে। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটি এরই মধ্যে মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে দেশের অর্থনীতিও গতিশীল থাকে। অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এরই মধ্যে নানা মেরুকরণ শুরু হয়ে গেছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিশ্লেষকদের পাশাপাশি জনমনেও সংশয় রয়েছে। সব সংশয় দূর করার প্রধান উপায় হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা। একমাত্র সংলাপের মাধ্যমেই এই সমঝোতার পথ তৈরি করা যেতে পারে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজটি হচ্ছে উদ্যোগ গ্রহণ করা। তার আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের বিষয়ে আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। কোনো শর্ত দিয়ে সংলাপে গেলে তা নিতান্তই লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হবে। সম্ভাব্য সমঝোতার পথ খোলা রেখেই আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্থতাকারীরও প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। শুরুতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে, পরে দলীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি পথ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব নয়। আলোচনা হতে হবে বাস্তবতার নিরিখে। আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্যই রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে দেশের নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলও চায়, বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তাতে দেশ ও জনগণ লাভবান হবে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সব দলকেই দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সবার আগে কাজ করতে হবে সরকার ও সরকারি দলকে। আলোচনার জন্য সব পথ খোলা রেখে এক টেবিলে বসতে হবে। সত্যিকারের উদ্যোগ নিলে সংলাপ অনুষ্ঠান সম্ভব বলে আমরা মনে করি।  

 
 


উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা