ইমরান খান

পাকিস্তানের প্রাক্তণ ক্রিকেট তারকা ইমরান খান এখন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী। ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনো বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিলেন তিনি।

 

সম্প্রতি মার্কিন ওয়াশিংটন পোস্টের  ল্যালি ওয়েমাউথের সঙ্গে ইমরানের কথোপকথনে উঠে আসে বহু তথ্য। এর কিছু অংশ এখানে দেয়া হলো—

প্রশ্ন. আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবছেন? রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদীদের অভয়াশ্রম। একই সঙ্গে অনুদানও না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউজ। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে টুইটারে বাকযুদ্ধও হয়েছিল।

উত্তরঃ: টুইটারে বাকযুদ্ধ হয়নি। আমি শুধু বলেছিলাম ট্রাম্প ইতিহাস না জেনে কথা বলছেন। আর তাছাড়া কোনো দেশের সঙ্গেই আমরা এমন কোনো সম্পর্কে যাব না যেখানে আমাদের ভাড়া করা বন্দুক ভাবা হবে। আমরা আমাদের দেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য কারও হয়ে যুদ্ধ লড়ব না।

প্রশ্ন: কিন্তু, ট্রাম্পতো আপনাকে কিছু বলেননি। তার অভিযোগ ছিল, পাকিস্তানের প্রাক্তণ শাসকদের বিরুদ্ধে।

উত্তর: উনি বলেছেন পাকিস্তানই (তালেবানদের নেতাদের) এসব অভয়াশ্রমের কারষ। কিন্তু, পাকিস্তানে এ রকম কিছু নেই।

প্রশ্ন: আমেরিকার কর্মকর্তারা মনে করেন, পাকিস্তানে  তালেবানের জঙ্গিরা থাকে।

উত্তর: আমি ক্ষমতায় আসার পর নিরাপত্তা বাহিনী আমাকে বলেছে, আমেরিকার কাছে বারবার জানতে চাওয়া হয়েছে জঙ্গি ঘাঁটি কোথায় আছে? ওরা বলেনি। আর তাই আমরা  বিশ্বাস করি, পাকিস্তানে তালেবানের জঙ্গি ঘাঁটি নেই।

প্রশ্ন: এই বক্তব্যে আপনার বিশ্বাস আছে?

উত্তর: আমাদের দেশে আফগানিস্তানের প্রায় ২৭ লাখ উদ্বাস্তু এখনও বাস করেন। কিন্তু, তারা সবাই উদ্বাস্তু শিবিরে থাকেন।

প্রশ্ন: কিন্তু, আপনার কী মনে হয় আমেরিকা বোকা?

উত্তর: জঙ্গিদের অবস্থান কোথায়? সেটা আমাদের জানা নেই। প্রথম কথা হচ্ছে, এখানে কোনো আশ্রয়স্থল নেই। যদি দুই-তিন হাজার তালেবান পাকিস্তানে এসেও থাকে, তাহলে তারা খুব সহজেই আফগান শরণার্থী শিবিরে চলে যেতে পারে।

প্রশ্ন: ট্রাম্প তালেবানদের সঙ্গে আলোচনায় আপনার সাহায্য চেয়ে এ সপ্তাহে একটি চিঠি দিয়েছেন। আপনার উত্তর কী?

উত্তর: আফগানিস্তানে শান্তি পাকিস্তানের জন্য ভালো। আমরা এ জন্য সব কিছু করব।

প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের কেমন সম্পর্ক চান সে সম্পর্কে কিছু ভেবেছেন? নাকি চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলার ওপরই নির্ভর করছেন?

উত্তর: পাকিস্তানকে ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে এমন কোনো সম্পর্কই আমি চাই না। আমাদের টাকা দিয়ে অন্যের যুদ্ধ লড়তে বলবে এটা চাই না। আমাদের আর কখনোই এই অবস্থায় যাওয়া উচিৎ হবে না। এতে শুধু মানুষের প্রাণহানি আর উপজাতিগুলোই ধ্বংস হয় না, এতে আমাদের আত্মমর্যাদাও নষ্ট হয়। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যথাযথ সম্পর্ক চাইব।

প্রশ্ন: এর মানে কী?

উত্তর: উদাহরণ হিসেবে বলা যায় চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক একপাক্ষিক নয়। এটা দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও এমন সম্পর্ক চাইব।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/তা

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা