boycot america

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আগস্ট ও নভেম্বরে দুই দফায় ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা বলবত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রথম দফা নিষেধাজ্ঞা ৬ আগস্ট থেকে বাস্তবায়ন করা হয় এবং দ্বিতীয় দফা নিষেধাজ্ঞা আজ ৫ নভেম্বর থেকে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আজ সোমবার থেকে এমন 'কঠোরতম' অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যা আগে কখনো করা হয়নি। তিনি ও তার উপদেষ্টারা একই কথার পুনরাবৃত্তি করে দাবি করেছেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইরানের নীতিতে পরিবর্তন এসেছে।

বর্তমানে আমেরিকার প্রধান টার্গেট নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের তেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি অন্য দেশের সঙ্গে ব্যাংকিং লেনদেন ও ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া যাতে ইরানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বসে পড়ে। অর্থাৎ আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাত করা। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তাদের লক্ষ্য ইরানের আচরণে পরিবর্তন আনা। এ কথার উদ্দেশ্য হচ্ছে তারা চায় ওয়াশিংটনের ইচ্ছা অনুযায়ী তেহরান যাতে তার নীতিতে পরিবর্তন আনে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করা।

এদিকে, ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের আগেই ব্যর্থতার পর্যবসিত হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা দ্বিতীয় দফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইরানের ইসলামি সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাত করাই এর উদ্দেশ্য।

ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছর ধরে ইরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করে আসছে। কিন্তু এবার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমেরিকা প্রায় একা ও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। মার্কিন সরকার এ জন্য চিন্তিত যে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধে যদি তারা সফল না হয় তাহলে নিজ দেশের ভেতরে এমনকি মিত্রদের কাছেও সে তার মর্যাদা হারাবে। মিশরের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোস্তফা আল সাইদ বলেছেন, "আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত যতগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে তার সব কটিতেই ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ইরানের প্রতি চীন রাশিয়াসহ আন্তর্জাতিক সমাজের সমর্থন রয়েছে"

যাইহোক, বর্তমানে মার্কিন নেতৃত্বে একক বিশ্ব ব্যবস্থা অবসানের চেষ্টা চালাচ্ছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বে ইরানকে একঘরে করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমাজ ট্রাম্পকে সমর্থন না করায় ইরানের ব্যাপারে তিনি কখনোই সফল হবেন না বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র: পার্সটুডে



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/টি

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা