lion-indonesia-airlines

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে উড্ডয়নের পরপরই জাভা সাগরে ১৮৯ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে লায়ন এয়ারের প্রায় নতুন বিমানটি। সোমবার সকালের দিকে জাভা সাগরে বিধ্বস্ত এই বিমানের কোনো আরোহীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা একেবারে নেই। দেশটির উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা যাত্রীদের জীবিত উদ্ধার করা গেলে সেটি ‘অলৌকিক’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন।  কিন্তু আলৌকিকতার ধারনা আর সত্যি হলো না। 

বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি একেবারে নতুন ব্র্যান্ডের। নতুন ব্র্যান্ডের একটি বিমানের বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় পুরো বিশ্বের নজর এখন ইন্দোনেশিয়ায়। নতুন ব্র্যান্ডের বড় ধরনের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাও এটি প্রথম। বিমান বিধ্বস্তের ব্যাপারে খুব বেশি তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিমান বিধ্বস্তের কারণও পুরো তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাওয়া যাবে না। তবে যান্ত্রিক ও মানবিক কিছু সমস্যার কারণে মাঝে মাঝেই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে। কিন্তু এই বিমানটি একেবারে নতুন হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটির কোনো একটি অংশ কাজ করেনি। 
২০১৭ সাল থেকে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ এর বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়।

 

লায়ন এয়ার কর্তৃপক্ষ বলছে, ইন্দোনেশিয়ায় গত জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো এই বিমান চলাচল শুরু করতে পারায় তারা খুবই গর্বিত ছিল। আরো অন্তত ২১৮টি ইউনিটের জন্য তারা নতুন করে অর্ডার দিয়েছিল। তবে সোমবার দুর্ঘটনার কবলে পড়া বিমানটির যাত্রা শুরু হয় গত ১৫ আগস্ট।

দেশটির জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান সোয়েরজান্ত জাহজ্যানো বলেছেন, এখন পর্যন্ত মাত্র ৮০০ ঘণ্টা উড়েছে বিমানটি। উড্ডয়নের কিছু সময় পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফিরে আসার অনুমতি চেয়েছিলেন বিমানের পাইলট।

ইন্দোনেশিয়ায় ১৮৯ যাত্রী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত

লায়ন এয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এডওয়ার্ড সিরাইত বলেছেন, এর আগের ফ্লাইটে বিমানটির ‘অজ্ঞাত কারিগরি ত্রুটি’ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সেই সমস্যা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে একই মডেলের ১১টি বিমান পরিচালনা করছে লায়ন এয়ার। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অন্যান্য ফ্লাইট বন্ধ রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন এডওয়ার্ড।

বিমান বিশ্লেষক গ্যারি সোয়েজ্যাতম্যান বলেন, সাধারণত খুব পুরনো বিমানগুলোর দুর্ঘটনার উচ্চঝুঁকি থাকে। তবে একেবারে নতুন বিমানেও একই ঝুঁকি থাকতে পারে। তিনি বলেন, বিমান যদি নতুন হয় তাহলে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটতে পারে, তবে সেগুলো চলাচল শুরুর পর ধরা পড়ে। এগুলো সাধারণত চলাচল শুরুর তিন মাসের মধ্যে দেখা যায়। মাত্র কয়েকদিন আগে তিনমাস পূর্ণ করেছে লায়ন এয়ারের বিধ্বস্ত বিমানটি।

বিমান দূর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে!

ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের একটি বিমান ১৮৯ যাত্রী নিয়ে উড্ডয়নের কিছু সময় পর জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২০ মিনিটে বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি রাজধানী জাকার্তার বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। উড্ডয়নের ১৩ মিনিট পর বিমানটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রীকে উদ্ধার করা যায়নি। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, বিমানের যাত্রীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীণ। তবে অলৌকিক কিছু ঘটলেও ঘটতে পারে।

8-Lion.jpg

 

যাত্রীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কতটুকু তা বলে দিচ্ছে তাদের ব্যবহৃত এই জিনিসগুলো।

8-Lion.jpg

উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনীসহ উদ্ধারকারী দল।

8-Lion.jpg

অথচ কী নির্ভার হয়েই না বিমানে ওঠেছিলেন তারা। তারা জানতো না কয়েক মিনিট পরেই কি ঘটতে যাচ্ছে তাদের সঙ্গে।

8-Lion.jpg

জাভা সাগরের নীল জলে ভাসছে বিধ্বস্ত বিমানটির অংশবিশেষ।

8-Lion.jpg

প্রায় ১২ ঘণ্টা সাগরের জলে ডুবে থাকা বিমানটির কেউ যে বেঁচে নেই সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।

8-Lion.jpg

প্রিয়জন হারিয়ে শোকের ভার বহন করতে পারছেন না স্বজনরা।

8-Lion.jpg

এ কান্না, এ চোখের জল কি দিয়ে মুছবে।

8-Lion.jpg

কোনো মা হয়ত হাত তুলে সৃষ্টিকর্তার কাছে ফরিয়াদ করছেন তার সন্তান যেন বেঁচে থাকে।

8-Lion.jpg

এখনও মরদেহ পাওয়া না গেলেও সাজিয়ে রাখা হচ্ছে লাশ তুলবার ব্যাগ।

8-Lion.jpg

কারো কারো এভাবেই হয়ত প্রিয়জনের হাত ধরে বহুদূর যাওয়ার কথা ছিল।  কিন্তু সব যাত্রাই শেষ করে পরপাড়ে চলে গেছেন বিমানে থাকা পাইলট, ক্রু, যাত্রীসহ সবাই!

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে যেসব কারণ হতে পারে 

লায়ন এয়ারের ফ্লাইট জেটি ৬১০ বিধ্বস্ত হলো সাগরে। জাকার্তা থেকে ১৯০ জন যাত্রী ও ক্রুসহ উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে সাগরে পড়ে।

কিন্তু এ বিমানটির দুর্ঘটনার পর অন্য আরেকটি বিষয়েও দৃষ্টি পড়েছে সবার - সেটি হলো বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ ব্র্যান্ডের এ বিমানটি ছিলো একেবারেই নতুন বা ব্র্যান্ড নিউ।

বিবিসির হাতে থাকা একটি টেকনিক্যাল লগে দেখা যাচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনা হয়েছে যদিও দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এখনো জানা যায়নি এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

 

বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ ব্র্যান্ডের বিমানের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৭ সাল থেকে।

আর যে বিমানটি দুর্ঘটনায় পতিত হলো সেটি কার্যক্রম শুরু করেছে গত পনেরই অগাস্ট থেকে।

বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ সিরিজের বিমান

বাজেট এয়ার হিসেবে পরিচিত লায়ন এয়ার জুলাইয়ে ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিলো যে ইন্দোনেশিয়ায় প্রথম তারা এ ধরণের বিমানের অপারেশন শুরু করতে যাচ্ছে।

ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি কমিশনের প্রধান সোয়েরজানতো টাহজানো বলেছেন বিমানটি মাত্র আটশ ঘণ্টা উড্ডয়ন করেছিলো।

দুর্ঘটনায় পড়ার আগে জাকার্তা থেকে উড্ডয়নের পরপরই পাইলট জাকার্তায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন।

আর সে কারণেই মনে করা হচ্ছে যে টেকনিক্যাল বা প্রযুক্তিগত কারণেই বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়েছে কি-না যা উড্ডয়নের পরপরই পাইলট বুঝতে পেরেছিলেন।

তবে একটি টেকনিক্যাল লগে দেখা যাচ্ছে বাতাসের গতি বোঝার যে যন্ত্র সেটি হয়তো কাজ করছিলোনা।

যদিও লায়ন এয়ার এ ধরণের রিপোর্ট সত্যি কি-না তা এখনো বলেনি।

তবে একজন কর্মকর্তা বলেছেন লায়ন এয়ার একই মডেলের এগারটি এয়ারক্রাফট পরিচালনা করছে।

 

দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা

যদিও এখনই এসব বিমানের কার্যক্রম বন্ধের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

এভিয়েশন বিশ্লেষক গেরি সোয়েজাতম্যান বিবিসিকে বলেছেন সাধারণত পুরনো বিমানে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।

"একেবারেই নতুন হলে কিছু সমস্যা চিহ্নিত হয় নিয়মিত ব্যবহারের মাধ্যমে। সেগুলো প্রথম তিনমাসের মধ্যেই সমাধান করা হয়"।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দুর্ঘটনায় পড়া বিমানটির তিন মাস অতিবাহিত হতো।

মিস্টার সোয়েজাতম্যান বলছেন প্রযুক্তিগত সমস্যাই হয়তো একটা কারণ হবে তবে সেটি নিশ্চিত হতে তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ওদিকে বিমান নিরাপত্তার দিক থেকে ইন্দোনেশিয়ার রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়।

অন্যদিকে বোয়িং কোম্পানি বলছে ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের বিমানগুলোই ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে বিক্রি হয়েছে যার অর্ডারের পরিমাণ প্রায় চার হাজার সাতশ।

একই সিরিজের বিমান বানানোর অর্ডার আছে আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, নরওয়েজিয়ান এবং ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইন্সের।

 

 



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/টি

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা