Rohingya20180721140139__uttaranews24

যতদিন মিয়ানমারে শান্তি ফিরে না আসবে ততদিন রোহিঙ্গারা দেশে ফিরে যেতে চায় না। নয়া দিল্লি সাত রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সোমবার ভারতের বিভিন্ন উদ্বাস্ত শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গারা এ কথা জানিয়েছে। 


গত শনিবার এএনআই’কে এক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু মোহাম্মদ ফারুক বলেন, “আমি ২০১২ সাল থেকে এখানে পড়ে আছি। আমি শুধু সরকারকে বলবো যেন আমাদেরকে এখানে থাকতে দেয়া হয়। আমরা নিজ দেশে অনেক দুর্ভোগের শিকার হয়েছি। আমরা লোভে পড়ে দেশ ছেড়ে আসিনি। আমরা নিজের দেশ ছেড়ে আসতে চাইনি।”


ফারুক আরো বলেন, “যেসব রোহিঙ্গাকে ভারত সরকার ফেরত পাঠিয়েছে তাদেরকে শিগগিরই হত্যা করা হবে। এখানে সরকার ও জাতিসংঘের কাছে আমাদের রেকর্ড রয়েছে। পুলিশ আমাদের কাছে একটি ফরম নিয়ে এসেছিলো পূরণ করার জন্য কিন্তু সেটা বর্মি ভাষায় লেখা তাই আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যে সাতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে তারা বেশিদিন বাঁচবে না। তাদেরকে হত্যা করা হবে।”


আরেক উদ্বাস্তু হারুন একই মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এখানে ২০০৫ সাল থেকে আছি। সরকার আমাদেরকে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা দেয়া ছাড়া আর কোন সাহায্য করেনি। ২০১৭ সাল থেকে ভিসা নবায়নও বন্ধ রেখেছে। এর আগে পাঁচবার নবায়ন করা হয়েছে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করবো যে আমাদের দেশে এখনো শান্তি আসেনি। সেখানে এখনো বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আমরা এখানে কতদিন আছি সেটা বিষয় নয়। বিষয় হলো সরকার আইন না করা পর্যন্ত আমরা সেখানে নাগরিকত্ব পাবো না।” তিনি আরো বলেন, “বার্মা দূতাবাস থেকে পাঠানো কিছু ফরম কেউ কেউ পূরণ করেছে। ভারত সরকার যেকোন নির্দেশ দিক আমরা সেটা মানবো। কিন্তু আমরা ওই ফরম পূরণ করিনি কারণ তার পুরোটাই বর্মি ভাষায় লেখা। এই ফরম পূরণের মানে হলো আমরা স্বেচ্ছায় বার্মা ফেরত যেতে চাই। বার্মা এখন যে অবস্থায় আছে সেখানে আমরা ফিরে যেতে চাই না।”


গত বছর আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী শুদ্ধি অভিযান শুরু করলে সাত লাখের বেশি মুসলিম রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

সূত্র: রয়টার্স।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/তা

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা