frozen_sholder

ফ্রোজেন মানে জমে যাওয়া এবং শোল্ডার মানে কাধ। ফ্রোজেন শোল্ডার মানে জমে যাওয়া কাধ অথবা কাধের স্বাভাবিক নাড়াচাড়া কমে যাওয়া বা জমাট বাধা।
আমাদের কাধের সংযোগ স্থলে হিউমেরাস, স্ক্যাপুলা ও কলার বোন নামক তিনটি হাড়ের সংযোগ ঘটে থাকে।তাকে আমরা শোল্ডার বা বল এন্ড সকেট জয়েন্ট ও বলে থাকি।এই শোল্ডার জয়েন্টকে ঘিরে কিছু কোষ, কলা দিয়ে ক্যাপ্সুল গঠন করে থাকে।এই ক্যাপসুল যখন কোন কারনে শক্ত হয়ে যেতে থাকে অথবা শক্ত হয়ে যায় তখন শোল্ডার জয়েন্টে  স্বাভাবিক কার্যক্রম এর ব্যাঘাত ঘটে এবং প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হয়।তখন তাকে আমরা ফোজেন শোল্ডার অথবা ক্যপ্সুলাইটিস বলে থাকি।
এই রোগ সাধারনত ৪০-৫০ বছর বয়সে বেশি হয়ে থাকে এবং পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।  
লক্ষণঃ-
১। কাধের একপাশে বা উভয় পাশে ব্যথা অনুভব হয়।
২।যেই পাশের কাধে ব্যথা অনুভব হয় সেই পাশে কাত হয়ে ঘুমালে সকালে হাত নাড়াতে খুব কষ্ট হয়।
৩।কাধের জয়েন্ট স্বাভাবিকের চেয়ে একটু শক্ত মনে হয়
৪।শোল্ডারের স্বাভাবিক নড়াচড়া  গুলো করলে প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়।
৫।মাথা আঁচড়াতে, পিছন থেকে মানিব্যাগ বের করতে অথবা পিঠ চুলকাতে প্রচন্ড কষ্ট হয়।
৬। জয়েন্টের কার্যক্ষমতা অনেকটা কমে যায়।
৭। হাড়ের দূর্বলতা ভাব মনে হয়।
৮।কাপড় উপরে নাড়তে অথবা ঝাড়ু দিতে গেলে হঠাৎ করে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হয়। 
কারণঃ-
১।ফোজে  শোল্ডারের অনেক কারন রয়েছে।এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট একটি কারন পাওয়া যায় নি।
২।দীর্ঘদিন একি কাজ একি পজিশনে করলে যেমন:কম্পিউটার, ল্যাপটপ অথবা লেখার কাজ করলে।
৩।ঘুমানোর সময় দীর্ঘদিন একই ভুল পজিশনে ঘুমালে।
৪।যারা দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত থাকে তাদেএ সংখ্যা বেশি।
৫।কোন কারনে শোল্ডারের স্বাভাবিক কার্যক্রম কম হলে।
৬।জয়েন্টের ভিতর ক্যপসুলের ইঞ্জুরির কারনে।
৭।কোন প্রকার আঘাতের ফলে।
৮।কাধের মাসেলের ইঞ্জুরির ফলে।(কোন কারন বশত মাংশপেশীতে টান লাগলে)।
৯।হাতে অতিরিক্ত ওজন বহন করলে।
১০।কোন প্রকার এক্সিডেন্টের ফলে অনেকদিন জয়েন্টের স্বাভাবিক নাড়াচাড়া কম হওয়া।ত ত        চিকিৎসাঃ-
১।হাতে কোন প্রকার ওজন উঠানো থেকে বিরত থাকুন।
২।ব্যথার জায়গায়(জোড়ায়) গরম পানির সেক নিলে উপকার পাবেন।
৩।কোন প্রকার ম্যাসাজ থেকে বিরত থাকুন।
৪।একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর পরামর্শ অনু্যায়ী অল্প সময়ের জন্য কিছু ব্যথানাশক ঔষধ  সেবন করতে পারেন এবং অনেক সময় জয়েন্টের মাঝে (ইন্টার আর্টিকুলার) ইনজেকশন  এর দরকার হতে পারে।
এতে ব্যথার উপশম হতে পারে।
৫।একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক এর পরামর্শ অনু্যায়ী কিছু ব্যয়াম করতে পারেন।তাতে জয়েন্টের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যথা থেকে দ্রুত মুক্তি পাবেন।মনে রাখবেন ফ্রোজেন শোল্ডার এর বেলায় ব্যথার ঔষধ  এর চেয়ে কিছু ব্যয়াম অনেক বেশি উপকারে আসে।
৬।ব্যথার জায়গা টুকু রাতে ঠান্ডা থেকে দূরে রাখুন এবং একটি সুতি কাপড় জড়িয়ে রাখুন তাতে সকালে ব্যথা বেশি অনুভব হবে না।
৭।যে কাধে ব্যথা সেই দিকে কাত হয়ে ঘুমাবেন না। কাধের নিচে একটি কাপড়ের অথবা বালিশের রোল সাপোর্ট হিসেবে ব্যবহার করুন।
৮। একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট এর পরামর্শ অনু্যায়ী ফিজিওথেরাপি নিন।
তারা কিছু ম্যানুপুলেশন করাবে।এতে ব্যথা কমে যাবে এবং হাতের স্বাভাবিক কর্মশক্তি ফিরে পাবেন।
৯। শিখানো ব্যয়াম নিয়মিত করলে জয়েন্ট শক্ত হবে না এবং ব্যথা থেকে মুক্তি মিলবে।
 
 
ডাঃ মোঃ  সাইদুর রহমান সোহেল (পি.টি) কনসালটেন্ট।
উত্তরা মর্ডান ফিজিওথেরাপি সেন্টার এন্ড মনোহরদী ফিজিওথেরাপি রিহেবিলিটেশন


উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/তা

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা