neck1

 
আমাদের প্রত্যেকের একটা কমন অভিযোগ থাকে ঘাড়ে ব্যথা, যদিও অনেকের ঘাড়ের ব্যথা অল্প সময়ের জন্য থাকে।অল্প সময় বিশ্রাম নিলে কমে যায়।কিন্তু যখন ঘাড়ের ব্যথার জন্য মাথা চারদিকে নড়াচড়া করতে সমস্যা হয় তাকে আমরা ঘাড়ে ব্যথা বলে চিহ্নিত করি।
মেডিকেলের ভাষায় স্কাল এর নিচ থেকে মেরুদন্ডের উপরের ৭টি হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত অংশ কে cervical region বলে থাকি। এই সারভাইকেল রিজনগুলোকে (c1,c2,c3,c4,c5,c6,c7) দ্বারা চিহ্নিত করে থাকি।তার সাথে কিছু লিগামেন্ট, মাসল থাকে যা ঘাড় এবং মাথাকে সংযুক্ত করে।ঘাড়ের যে কোন ইঞ্জুরির কারনে অথবা মাংশপেশীর অতিরিক্ত টানের কারনে অথবা ঘাড়ের ক্ষয়জনিত কারনে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। ঘাড়ের ব্যথায় পুরুষের তুলনায় মহিলারা বেশি আক্রান্ত হয়।
কারন 
১/ গাড় অথবা কাধের মাংশপেশী দূর্বল হয়ে যাওয়া।
২/ ভুল পজিশনের কারনে অথবা দীর্ঘক্ষণ একই পজিশনে থাকার ফলে।
৩/ লিগামেন্ট ইনজুরিরর কারনে(যে কোন প্রকার আঘাত জনিত কারনে)।
৪/ ইন্টার ভারটিবরাল ডিস্ক এর সমস্যার কারনে।
৫/ মাথা অথবা কাধে অতিরিক্ত ভারী কিছু বহন করার ফলে
৬/দীর্ঘদিন একই পজিশনে কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহার করার ফলে।
৭/ ভ্রমন করার সময় পেছন থেকে ধাক্কা লাগলে।
৮/উচ্চ ও নিন্ম রক্তচাপের কারনে হতে পারে।
৯/ হাড়ের ক্ষয়জনিত কারনে হতে পারে।যেমন : রিউমেটিয়েড আর্থাইটিস, সারভাইকেল  স্পন্ডাইলসিস,পলিমাইলাইটিস, সারভাইকেল স্পাইনাল মেন্টসিস,সারভাইকেল ডিস্ক প্রল্যাপ্স ইত্যাদি।
 
সাবধানতাঃ
১/ দীর্ঘক্ষন একই পজিশনে ঝুকে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
২/ ঘুমানোর সময় নরম বালিশ ব্যবহার করা
৩/ একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক এর পরামর্শ অনু্যায়ী নিয়মিত কিছু ব্যয়াম করতে হবে।
৪/ মাথায় ও কাধে কোন ভারী কিছু বহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫/ প্রয়োজন অনু্যায়ী বিশ্রাম নিতে হবে।
৬/ ভ্রমন করার সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন কোন প্রকার ধাক্কা না লাগে।
৭/ নরম বিছানায় এবং উঁচু বালিশে দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকা যাবে না।
৮/ঘাড় ফুটানো(ঘোরানো) যাবে না।
 
চিকিৎসাঃ ঘাড় ব্যথার চিকিৎসার জন্য  ঘাড়ে কোন প্রকার ম্যাসেজ অথবা মালিশ করা যাবে না।ঘাড়ে অথবা কাধে ব্যথা হলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর পরামর্শ অনু্যায়ী চিকিৎসা করালে ঘাড় ব্যথা থেকে তাড়াতাড়ি মুক্তি মিলবে।
১/ ব্যথা বেশি হলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা এর পরামর্শ অনু্যায়ী (মেডিকেশন) ঔষধ  গ্রহন করতে হবে।
২/ ঘাড়ে কুসুম গরম পানির সেক নিলে বেশ উপকার পাবেন।
৩/ যাদের কাজের প্রয়োজনে সামনের দিকে ঝুকতে হয় তারা ঘাড়ের সাপোর্ট হিসেবে cervical collar ব্যবহার করতে পারেন।
৪/ ভুল দেহভঙ্গির কারনে ব্যথা হলে তা সংশোধন করে নিলে ব্যথা কমে যাবে।
৫/একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর পরামর্শ অনু্যায়ী নিয়মিত ব্যয়াম করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা কিছু (ম্যানুপুলেশন টেকনিক প্রয়োগ করে থাকে এবং ব্যথা কমাতে খুব সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্যথার ধরন অনু্যায়ী কিছু ফিজিক্যাল এবং রেডিওলোজিক্যাল পরিক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা করা যেতে পারে।
৭/ ব্যথার ধরন অনু্যায়ী রোগীকে কিছু সময়ের জন্য বিশ্রামে থাকতে হতে পারে এবং সাপোর্ট হিসেবে cervical collar,cervical support, cervical pillow জাতীয় একসেসরি ব্যবহার করা লাগতে পারে।
৮/ যদি ইনজুরির কারনে ব্যথা খুব জটিল পর্যায়ে যায়, তাহলে অনেক সময় সার্জারিরর প্রয়োজন হয়।
 
ডাঃ মোঃ  সাইদুর রহমান সোহেল (পি.টি) কনসালটেন্ট।
উত্তরা মর্ডান ফিজিওথেরাপি সেন্টার ঢাকা।
 


উত্তরানিউজ২৪ডটকম / গাজী তারেক

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা