hack-bkash-1450526534

আব্দুল্লাহ মোবাইল কিনেছে সেই সময়।

যখন সিমের দাম ছিল ৩ হাজার টাকা।কিংবা তার চেয়েও বেশি।
 
বাটুন মোবাইল।
অনেক ফানংশনই  সে বুঝে না। সাপ খেলা বুঝে।আর  কল দেয়া, রিসিভ করা বুঝে। তখনকার মোবাইল গুলোতে  ক্যামেরা, ভিডিও, অডিও ছিলো না।
 
এককথায় মোবাইল অভিজ্ঞতা কম আব্দুল্লাহর।
 
আব্দুল্লাহ ডিগ্রির ছাত্র।
মধ্যবিত্ত পরিবার।বাবা শিক্ষকতা করতেন। সেই সুবাদে আব্দুল্লাহর এতটুকু পড়ালেখায় আগানু। আধুনিকতার তেমন কোন ছাপ আব্দুল্লাহর মধ্যে পড়েনি।
 
যারা সে সময় আধুনিক তারা আধুনিকতা এবং নানা আবিষ্কার নিয়ে  নানা গল্প করতো। আব্দুল্লাহ হা করে তা শুধু  গিলতো। তার কাছে আশ্চার্যও লাগতো।
 
বিটিভি চ্যানেলের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন  অনুষ্ঠান ' ইত্যাদি' তে বিভিন্ন সময় নানা বিষয়ে সচেতনামূলক অনুষ্ঠান দেখায়।আব্দুল্লাহ সময় পেলে  সে অনুষ্ঠান দেখে।
অনেক সময় আগাম কি আসতেছে দেশে তা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে অবগত করে।
 
যেমন' ফ্যাক্স' সম্পর্কে অভিনয়ের মাধ্যমে ধারণা দিলো, এক ব্যক্তি মিষ্টি পাঠাবে চট্টগ্রামে এক আত্মীয়ের বাসায়। ফ্যাক্সের দোকানে এসে বললো, আমার এই মিষ্টির মাটির পাতিলটা  চট্টগ্রামে ফ্যাক্স করে দিন। দোকানদার বুঝলো, লোকটি ফ্যাক্স সম্পর্কে অজ্ঞ। চালাক দোকানদার বললো, রেখে যান। দেরী হবে।
 
মিষ্টির পাতিল ভেঙ্গে মিষ্টিসব খেয়ে খালি পাতিল পাশে রেখে দেয়। কিছুক্ষণ পরে লোকটি আসে।
 
--- 'ফ্যাক্স ' হইছে ভাই?
--- দুঃখিত।ফ্যাক্সে আপনার পাতিল যাচ্ছিলো আর একটা পাতিল আসছিলো।
পথে একসিডেন্ট হয়েছে। গন্তব্য পর্যন্ত আপনার মিষ্টি পৌঁছায়নি। এই ধরেন, আপনার মিষ্টির পাতিল।
 
অর্থাৎ আব্দুল্লাহ জানতো না, মিষ্টি ফ্যাক্সে পাঠানো যায় না।কাগজ- পত্র ফ্যাক্স হয়।
 
এভাবে নানা বিষয় সম্পর্কে অবহিত করে 'ইত্যাদি' যাতে মানুষ প্রতারণায় শিকার না
হয়।
 
সর্বশেষ এলো মোবাইল ফোন।
এলো অডিও ভিডিও।পরে টাচ মোবাইল।
ভিডিও কল,  ইমু।
 
 
আব্দুল্লাহর এসম্পর্কে মোটেই ধারণা নেই।
মোবাইলে প্রতারণাও আজকাল  মারাত্মক। নানা বিষয়ে,  নানা প্রতারণা পত্র - পত্রিকার খবরে আসে। তবু আব্দুল্লাহ কোন মোবাইল ফাংশনের নানাদিক জানার আগ্রহ দেখায়নি।
 
অনেকের কাছে শুনে, আজকাল নাকি মোবাইলে দরবেশ বাবা ফোন দেয়। 
---  বলে,এ্যাই  আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোন। তুই তো খুব ভাগ্যবান। শনির ফাড়া আছে তোর। চান্দ্রের ১৫ তারিখ তালপুকুর পাড়ে আসবি। তোকে চাদি টাকার কলস দিব। শনির ফাড়া কাটবার জন্য এই নাম্বারে ৫ হাজার টাকা পাঠা।
টাকা পাঠালেই ওই নাম্বার বন্ধ করে দেয়।
 
আব্দুল্লাহ এও শুনে আসছে, মোবাইল কাস্টমার কেয়ার  অফিস থেকে ফোন আসে-----
- আমি কাস্টমার কেয়ার অফিস থেকে বলছি, আপনি লটারীতে ৩ লক্ষ টাকা পাইছেন।আপনি এই নাম্বারে এখনি যোগাযোগ করুন।একথা কাউকে বলবেন না। প্রতারণায় শিকার হতে পারেন। 
-- ভাই, তাহলে আমার কি করতে হবে?
-- টাকাটা উঠানোর প্রসেস করার জন্য ২০ হাজার টাকা এই নাম্বারে বিকাশ করে দিন। এক সপ্তাহের মধ্যে আপনি ৩ লক্ষ টাকা ঘরে বসে পেয়ে যাবেন।
-- টাকা বিকাশ করার পর ওই মোবাইল নাম্বার বন্ধ করে দেয়।
 
আব্দুল্লাহর ৫ হাজার টাকার খুব দরকার।বেউপায় দেখে তার বন্ধুর কাছে কল দেয়।
--- বন্ধু, চাকুরীর বেতন পেয়েছো?
-- হ্যাঁ বন্ধু। কেন?
--  ৫ হাজার টাকার খুব দরকার ছিলো।বিকাশে পাঠানো যাবে?
-- যাবে। 
-- তো , আমার নাম্বারে বিকাশ করে দাও।
-- আচ্ছা।
আব্দুল্লাহর নাম্বারে  ৫ হাজার টাকা বিকাশ করে দেয়।ওই দিন সন্ধ্যার পর আব্দুল্লাহর মোবাইলে এক অপরিচিত নাম্বারে কল আসে।
--- হ্যালো ভাই, আমার নাম্বার থেকে আপনার মোবাইলে বিকাশে ভুলে ৫ হাজার টাকা ঢুইকা গেছে। প্লিজ একটু দেখেন।
-- আচ্ছা দেখতেছি ভাই।
-- দেখেন।
-- না তো ভাই।আমার ৫ হাজার টাকাই শুধু। অতিরিক্ত কোন টাকা আসে নাই।
 
আব্দুল্লাহ ভাবে, মনে হয় সকালে যে নাম্বার থেকে বন্ধু যে টাকা বিকাশ করেছে ওই লোক কল দিছে।ভুলে অন্য কোথাও ৫ হাজার টাকা চলে গেছে তার।
 
২/ ৩ ঘন্টা পর আরেক নাম্বার থেকে আব্দুল্লাহর  মোবাইলে আবার কল আসে।
- হ্যালো, আমি বিকাশ অফিস থেকে বলছি, একটা নাম্বার থেকে আপনার নামে আমাদের  বিকাশ অফিসে কম্প্লিন করছে ।তার ৫ হাজার টাকা আপনার নাম্বারে ঢুকছে।এ জন্য আপনার বিকাশ নাম্বার অফ করে দিছি।এখন আপনার বিকাশ নাম্বার বন্ধ আছে।
-- কথাটা শুনে আব্দুল্লাহ চমকে ওঠে। কোন কিছু বুঝতে পারে না।হতভম্ব হয়ে যায়।কারণ ৫ হাজার টাকা আছে বিকাশে।এখনো উঠায়নি।বলে, না তো?  আমার মোবাইলে ৫ হাজারের বেশী টাকা আসেনি। কম্প্লিন কেন করবে? ফোন দিয়েছিলো আমি তো বলেই দিয়েছি।আবার অফিসে কেন কম্প্লিন?
--- আপনি কি বিকাশ নাম্বারটি একটিভ করতে চান?
-- জ্বি।
-- তাহলে আমার কথাটি মনোযোগ দিয়ে শুনুন।আমাকে কিছু তথ্য দিবেন। আপনার তথ্য সঠিক হলে বিকাশ নাম্বারটি একটিভ করে দিব।
-- জ্বি বলুন।
-- আপনার আই ডি দিয়ে  বিকাশ খুলছেন?
-- জ্বি।
-- আপনার নাম? 
-- আব্দুল্লাহ।
-- পিতার নাম?
-- রহমতুল্লাহ।
-- আজ আপনার ৫ হাজার টাকা বাদে আরো কোন টাকা বিকাশে ঢুকছে?
-- না।
-- ওই টাকা থেকে কোন টাকা ট্রান্সফার
করছেন ? 
-- না।
-- আচ্ছা, আপনি যে মোবাইল ব্যবহার করেন ওইটা কি টাচ্ নাকি বাটুন?
-- বাটুন।
-- তাহলে মেসেস অবশনে গিয়ে দেখেন একটা মেসেস গেছে।
-- হ, আসছে।
-- মেসেসের নাম্বারটা বলুন?
-- ২৫২৭....।
-- আরে বুঝতেছেন না? আরেকটা নাম্বার আছে?
-- ফাংশন বুঝেন না? 
-- না, তেমন বুঝিনা। পাশে বিকাশের দোকান আছে নিয়ে যাই? 
-- না, যাওয়া লাগবে না।ভালো করে দেখে সংখ্যাটা বলুন?
-- ২৫২৭...।
-- আহা রে বুঝতেছেন না?   আচ্ছা, পিন কোডটা বলেন, ১২৩...।আচ্ছা।
মোবাইল লাইনটা কেটে দেয়।
-- আব্দুল্লাহর হুশ ফিরে,  এ্যাই.. পিন কোড কেন বললাম? বিকাশের  টাকা চোরও তো হতে পারে? আমার ৫ হাজার টাকা না জানি ট্রান্সফার করে ফেলে....?
আব্দুল্লাহ দৌড়ে যায় বিকাশের দোকানে। ওই টাকা তোলার আগে তুলে ফেলবে।দোকানের দরজায় পৌঁছতেই মোবাইলে ভেসে ওঠে সেন্ড মানি ৫ হাজার টাকা।
--- আব্দুল্লাহ মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে বসে পড়ে,  হায়! এটা আমি কি করলাম? পিন কোড টা কেন বললাম? বিকাশের দোকানে কেন পরামর্শ করলাম না?
 
( টিকাঃ বিকাশ অফিস থেকে আপনাকে কখনও কল দিবে না। কেউ এমন কথা বললে বুঝবেন ভূয়া। সতর্ক থাকবেন, ভুলেও কাউকে বিকাশ পিন কোড বলবেন না।


উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/তা

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা