Kobita-kalombani-uttaranews

প্রদীপ্ত প্রত্যাশা অন্তর গহনে
আমিনুল কাদের মির্জা

পিলসুজে নিভে যায় দীপ
আঁধার নেমে আসে, চেনাঘর অচেনা হয়ে যায়
যখন তেলহীনতায় পুড়ে পুড়ে, সলতে নিঃশেষ হয়।
অন্তর পিদিমও যায় নিভে, চিত্তে ধরে ঘূন
যদি আশার আলো নির্বাপিত হয়
হয়তো ¯স্বপ্ন অলীক, হয়তোবা নয়
মন পবনের নাও বেয়ে
চলেছি অবিরাম দাঁড় ঠেলে ঠেলে
কোনকালে কোন নগরে বন্দরে
¯স্বপ্নের ঠিকানায় নিশ্চিত পৌঁছোবো বলে।
এক দেহে, এক প্রাণে অনুকুলে প্রতিকুলে ভেসে
এ সফরে চলেছি এক সাথে বহুকাল ধরে
প্রতীপ বিপ্রতীপ সময়ে দৃঢ় অদৃশ্য বন্ধনে
থাকুক চির জাগরুক প্রদীপ্ত প্রত্যাশা অন্তর গহনে।

পল্লী জননী
এম, এ তারেক আহমেদ

হে পল্লী জননী,
সদাই তুমি পর মোর মনে
ুমি বিহীন নগর জীবন হয়েছে আনমনে
তুমি করে গেছো দান অকৃপণহস্তে
আছে যা তোমার পল্লীর গভীরে,
তবু কেন মানব চিনে না তোমারে?
পল্লীর সেই কাক ডাকা ভোরে
দোয়েল-কোয়েল-শ্যামা, কোকিলের ডাক ধরে,
কাটিয়েছি বেলা তোমারই পরে
হে পল্লী জননী ,
তুমি করে গেছো মোরে ঋণী
তুমি হয়েছ দেওলিয়া মানবের তরে,
তবু কেন মানব চিনে না তোমারে ?
কুয়াশা ঢাকা ভোরে,
ঘাসের উপর শিশির বিন্দু পরে
খোঁজে পাইনি তা আজ নগর জীবনে।


আধমরা নদী
মোরাই রাশেদ

এই যে গভীর রাত
আধমরা নদী জ্বলে জলে ভিজা সাধ
রাত জাগা তারা করে যায় বাজিমাৎ
যায় একে একে নিদানে অসীম ফাঁদ
আধমরা নদী জোস্নার মত রাত
করে সব ধুলিসাৎ
হয়তো সেদিন খোঁজে নিবে ঘোলাসাধ
আছে ঢের কাজ কাঁদে জমহুরিয়াত ।
এদিন সেদিন তবু দিনে দিনে আসে
মহা উৎসব আসীম কষ্টনাশে
বৃষ্টি ঝরে তবু মেঘেগুলো উড়ে
ঢেকে যায় রোদ নামে যে আঁধার ঘুড়ে
বসুধার চারি পাশে
নিঅন্ধকার আলোহীন আলো আসে
মরা নদী যেন মৃত্যুর মত নাশে ।

এই গাঁ-কে আজ
মানসুর মুজাম্মিল

কোন পথে আমি
কার বাড়ি যাই
এই পথে যেতে যেতে কাকে যে হারাই?
যেতে যেতে যেতে
ঘোরপাক খেতে খেতে
কোথায় যে দাঁড়াই-
বাম দিকে
ডান দিকে?
কিছুটা পিছু হটে হটে
আবার পা বাড়াই ।
কতদূর যাবো আমি
নেই ঠিকানা
জ্ঞান দিয়ে হেঁটে যেতে
কে করেছে মানা ?
কিছুদূর হেঁটে গেলে
সালদা নদী
যার বুকে ভালবাসা বুক অবধি ।
একখানা তালগাছ
মাথা তুলে আছে
তার পাশে পাখিগুলো
উৎসবে নাচে ।

জাগো মানুষ
সুমাইয়া রহমান সুম্মী

দিনে দিনে মানুষগুলো
পাল্টে কেন রুপ?
মানবতার মৃত্যু দেখে
থাকছে কেন চুপ?
রাস্তাঘাটে দিনদুপুরে
হচ্ছে কি সব আজ
অপকর্ম করছে যারা
নেই কি তাদের লাজ।
মায়ের গায়ে বোনের গায়ে
দিচ্ছে যারা হাত
অমানুষের সাথে তাদের
নেই কোন তফাৎ।
কে ভাল আর কে যে খারাপ
যায়না বোঝা আজ
চেনা-জানা মানুষ ধরে
বহুরুপীর সাজ।

ভোরের কুয়াশায়
মিরাজ হোসেন

চলে এসো বন্ধু আমার পাড়া গাঁয়
মাটির টানে সুশীতল ভোরের কুয়াশায়
আঁকা বাঁকা মেঠো পথে হাঁটব খালি পায়
সুখ অনুভব করবে আমাদের গাঁয়।
শহরের ইট পাথরের মাঝে কি শান্তি পাও
চারি দেয়ালের ভিতর আকাশ ছোঁয়া দ্বায়
পাশের লোকটিও চিনেনা তোমায় ।
গাঁয়ের মানুষ কত সহজ কত সরল
অতিথি পরায়ন,হৃদয় কোমল
চারি দেয়ালে পাবে না খুঁজে
অচেনা অতিথিকে করে আপ্যায়ন ।
গ্রামের সরষে ক্ষেতে ভ্রমরার গুনগুনানী
সরষে ফুলের ঘ্রানে ভ্রমর হয় উদাসী
দূর্বা ঘাসে ঝলমল করে শিশির বিন্দু
ভ্রমরা আহরন করে ফুলের মধু।
চলে এসো বন্ধু আমার পাড়া গাঁয়
দ¶িণা বাতাসে সরষে ফুলের গন্ধ
লাগিবে নাসিকায়, উদাস করিবে তোমায়
সুখ প্রাচীরের ভিতরে নয় সবুজের মাঝে
এসো বন্ধু মাটির টানে ভোরের কুয়াশায়।

ওগো দয়াময়
ইউসুফ খান সাদী

ওগো দয়াময় করিতেছি ভয়
পোড়না নরক অনলে
হতে পারিনা সুঁজা পাপের বোঝা
পাপের রশি এইগলে।
ওগো অন্তরজামি কোথায় তুমি
বাঁচাও তোমার পরশে
আমি-তো যাচ্ছি জ্বলে পাপ অনলে
শোন কি তুমি আরশে?
আমি হাজার পাপে অগ্নিতাপে
ভ্রান্তমায়ার এই নীড়ে
আমি কেমন করে আসব ফিরে
মায়ার বাঁধন এড়িয়ে।
এই আমারে রেখেছে ধরে
অমানিশার আঁধারে
তুমি আমারে নাও জড়িয়ে
রহমতেরই চাদরে।


শীত আসছে ধরাতে
প্রিন্স বাবু

সাদা মেঘের শরত সাঁঝে
লুটায় দিন রাতের মাঝে
চাঁদের হাসি বান ডেকেছে
কাশ বনেতে হাট বসেছে
জোছনা মাখা নিঝুম রাতে
পাহাড় ঘুমায় মেঘের আঁতে
শস্য শ্যামল সবুজ ঘাসে
রাত ফুরিয়ে দিন আসে
শুকতারাটা একাই জাগে
শরত রাতের মধ্য ভাগে
নীদ হারা ঐ পুর্ন শশী
জাগলে উষা পড়বে খসি
শীতল শীতল জোছনা
শরতের আগমন ঘোষনা
শীত আসছে ধরাতে
হিমেল শীতল শরতে।

প্রেমের পদাবলী
ইভান অনিরুদ্ধ

অত সহজ নয় ফেরা
সর্ব¯^ বিলিয়ে দিয়েও যদি বলো
ফিরে আসতে তোমার কাছে, তবুও নয় ।
প্রবাহমান নদী সেও হয়তো ফিরতে পারে তার উৎসমূলে
বন্দুক থেকে বেরিয়ে যাওয়া গুলি-সেও,
কিন্তু আমি তো সেরকম নই ।
আমৃত্যু তুমি ভুল অপে¶া নিয়ে কাটাতে পারো জীবন
লাভ নেই- অহেতুক সময়ের অপচয়,
ভালোবাসার নিদারণ ¶য়!
নিজেকে আর অপেক্তষায় রেখো না।
সহজ নয় ফেরা
অত সহজ নয় আমার ফিরে আসা ।

প্রিয় বাংলাদেশ
ইউনুস খান
পাখিদের কোলাহলে মুখরিত বেশ
মাঠের ফসলে বুনে সোনালীর দেশ
চারিদিকে তাকিয়ে দেখি সবুজের পরিবেশ
ও আমার ¯স্বাধীনভূমি, প্রিয় বাংলাদেশ।
পাখিরা উড়ে উড়ে করে কত খেলা,
চারদিকে দেখি শুধু সবুজের মেলা
পূবে সোনালী রবি উঠে প্রভাব বেলা,
ও আমার ¯স্বাধীন ভূমি প্রিয় বাংলাদেশ ।
মাতা, পিতা ভাই বোন মিলে পরিবার
প্রতিবেশী মিলে থাকি সবাই সবার
মাঠে মাঠে সোনালী সবুজের দেশ
ও আমার  স্বাধীন ভূমি প্রিয় বাংলাদেশ ।
কত গাউস কুতুব দরবেশ পীর আউলিয়া
কত কৃষক মুজুরে বীর পুরুষ মিলিয়া
রক্তের বিনিময়ে কিনিছে এই দেশ
ও আমার ¯স্বাধীন ভূমি প্রিয় বাংলাদেশ ।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/টি

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা