eko park uttaranews

বেড়াতে ভালবাসি। মন ভাল থাকে। কিন্তু বুঝিনি যে, এভাবে মন খারাপও হতে পারে! পোস্তগোলা ব্রিজের পুবে অবস্থিত ইকো পার্ক। ভেবে রেখেছিলাম ঘুরতে যাব একসময়। সময় করে ওঠতে পারছিলাম না। তারচে' বড়কথা, তেমন কোন ভাবজমানো সঙ্গিও ছিল না কেউ? পার্কেটার্কে আবার আঁতেলগোছের লোকদের নিয়ে বেড়াতে মজা নেই আসলে। চকিতেই যেতে আগ্রহ হল। রোমান্টিক মানুষ, ভালবাসার বাতিঘর আমার প্রিয় ব্যক্তি বন্ধুবর জাকারিয়া মোস্তফা ভাইকে বলতেই সম্মতি দিলেন। কাল ক্ষেপণ না করে বেরিয়ে পড়লাম। দিনটা ছিল শুক্রবার। আমাদের মতো সাপ্তাহজুড়ে চারদেয়ালে বন্দি থাকা মানুষের জন্য অফডে। এদিনটা এলে চৌহদ্দি পেরুতে চাই খুব করে। যাকগে, দুজন দুজনার হাত ধরে পথের একপাশে হাঁটছি। গল্প করছি। হাসছি। আমরা একসাথ হলেই অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলি। সুখ দুঃখ ভাগ করি। কিন্তু মনের কথা বলতে গেলে ভবিষ্যৎ জীবনে দাম্পত্য, ভালবাসা, যাপিত জীবনের খুঁটিনাটি বিষয়ই বেস্ট টপিক থাকে আমাদের।

যাইহোক, পৌঁছে গেলাম একসময় কাঙ্ক্ষিত ইকোপার্কে। টিকিটঘর ঘর থেকে টিকিট সংগ্রহ করে প্রবেশ করলাম। রাইটগুলো দেখে কোনটাতেই চড়ার মন করল না। অফডে-তে পর্যটকদের সংখ্যা একটু বেশিই হয়। বেশিরভাগ দর্শকই ছিলেন জোড়াবন্দি। বিপরীত লিঙ্গের কেউ সাথে থাকলে ভ্রমণটা হয়ে ওঠে দারুণ উপভোগ্যের। আমরা ছিলাম একইলিঙ্গের দু'জন মানুষ। শূন্যতা অনুভব করছিলাম। বেশ কয়েকজন হুজুরকেও দেখেছি পরিবার নিয়ে পার্কে এসেছেন। বোরকাপরা অনেক মেয়েকেও দেখেছি। দেখেছি আঁতেল-আনস্মার্ট ছেলেদের হাত ধরে হাঁটতে রূপসী ললনাকেও। এত সুন্দর, রোমান্টিক মেয়েটা একে কিভাবে বেছে নেয় আমরা দুজন ভেবে পাই না। দুঃখজনক, এত ছোট পার্কেও বাদ দিচ্ছিল না লম্পটরা তাদের কুকীর্তি। গাছের আড়ালে চলছিল অনৈতিক কার্যকলাপ। আমার নজর কেড়েছিল একজোড়া কাপোল। তাদের দেখে সত্যি বলতে, আমার ভেতরটা এলমেল হয়ে গিয়য়েছিল। ভাবনায় ঝড় ওঠেছিল। কোনভাবেই মেলাতে পারছিলাম না যে, পর্দানশীন এতো সুন্দরী একটা মেয়ে ওই লোকটাকে কী দেখে গ্রহণ করল? ঘোর ছিল ভ্রমণ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পর পর্যন্ত। আরেক জোড়া দম্পতি দেখেছি। পুলকিত হয়েছি। স্ত্রীপুত্র দাঁড় করিয়ে রেখে নামায পড়ছিলেন ভদ্রলোক। বলাইবাহুল্য, ওই ভদ্রলোকটা হুজুর ছিলেন। সঙ্গী নিয়ে বের হয়েছেন অনেক মাঝবয়সী অনেকে। এরকম মাঝেমধ্যে বেরুনো উচিত। স্ত্রীরা ঘরে বসে বসে হাঁপিয়ে ওঠেন। ঘর-সংসার করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যান। একটু বেড়াতে তাদেরও মন চায়। সময় হলে এরকম অফডে-তে বেরুনো রুচিসম্মত। আমরা দুই বন্ধু সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাদের নিজনিজ ব্যক্তিগত প্রিয়তমা নিয়ে পার্কে বেড়াতে আসব এভাবে। ঘুরার ফাঁকেফাঁকে মুখরোচক কিছু খাবারও খাওয়া হচ্ছিল। নামকরা একটা হোটেলেও খানিককাল একসাথে নৈশভোজন হল। সন্ধ্যা নাগাদ ফিরে এলাম মাদরাসায়। আসার পথে নদীরপাড় দিয়ে হেঁটে আসতে বেশ ফুরফুরে লাগছিল। মুক্তবায়ু পান করতে করতে পৌঁছে গেলাম মিলব্যারাক।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/তা

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা