Scotland-Museum

স্কটল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘরে বাংলাদেশের একটি কর্মসুচি স্থান পেয়েছে। গত ৮ জুলাই ২০১৬ এই জাদুঘরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গ্যালারীতে গ্রামীণ টেলিকমের “পল্লী ফোন কর্মসূচি”-র একটি প্রদর্শনী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

২০১৬ সালে এডিনবরা নগরীতে অবস্থিত এই জাদুঘরে ১০টি নতুন গ্যালারি খোলা হয় যার মধ্যে একটি ছিলো বাংলাদেশের।

স্কটল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে “পল্লী ফোন কর্মসূচি” সম্পর্কে তাদের যাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য গ্রামীণ টেলিকমের সাথে যোগাযোগ করে। গ্রামীণ টেলিকম যাদুঘরকে এ বিষয়ক কিছু কেইস স্টাডি, নিউজলেটার, গাইড বই এবং এই কর্মসূচির অংশগ্রহণ করা এমন একজন টেলিফোন লেডি’র ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত নিজের ফোন ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি প্রেরণ করে।

গ্রামীণ টেলিকম ১৯৯৭ সালের ২৬ মার্চ তার আকর্ষণীয় পল্লী ফোন কর্মসূচিটি শুরু করে। উদ্দেশ্য ছিল অল্প খরচে মোবাইল ফোন সরবরাহের মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের মধ্যকার প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমিয়ে আনা। এই কর্মসূচিটি বিশেষভাবে শুধু গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রণয়ন করা হয়। স্কটল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘর এই কর্মসূচিকে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সে সময়ে, ১৯৯৭ সালে মোবাইল টেলিফোন তার উচ্চ মূল্য ও সীমিত প্রাপ্যতার কারণে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে একটি বিলাস দ্রব্য এবং গ্রামাঞ্চলে একটি রূপকথার কাহিনী বলে বিবেচিত হতো। গ্রামের দরিদ্র মানুষদের জন্য তাঁর ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির অভাবনীয় সাফল্যের পর প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে টেলিফোন সেবার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রতি গ্রামে কমপক্ষে একটি টেলিফোন স্থাপনের ধারণা নিয়ে এগিয়ে এলেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের মহিলা সদস্যদের জন্য তাঁদের উদ্যোক্তা দক্ষতা ব্যবহার করে দারিদ্র বিমোচনের একটি অসাধারণ উদ্ভাবনশীল উপায় হিসেবেও পল্লী ফোন কর্মসূচি চালু হয়। নির্বাচিত সদস্য, যিনি এলাকায় ‘টেলিফোন লেডি’ হিসেবে পরিচিত, এলাকাবাসীর জন্য বাণিজ্যিক পে’ ফোন হিসেবে এই টেলিফোন ব্যবহার করতে শুরু করেন।

মাত্র ২৪ জন গ্রাহক নিয়ে ১৯৯৭ সালে পল্লী ফোন কর্মসূচি তার যাত্রা শুরু করে। ২০১৬ সালের জুন মাসের শেষে দেশে এই কর্মসূচির গ্রাহকের সংখ্যা ১৭ লাখ ৭ হাজার ১৩৮ জন।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / স স

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা