ju-2018

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গণিত বিভাগের অধ্যাপক জেসমীন আখতারের বিরুদ্ধে ‘ব্যক্তিগত ক্ষোভ’ থেকে ৪৩ আবর্তনের এক শিক্ষার্থীকে ক্লাসে উপস্থিত হওয়া ও টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও কোনো নম্বর না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভালো পরীক্ষা দিলেও স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। শুধু তাই নয়, ওই ব্যাচের সব শিক্ষার্থীকেই উপস্থিতি ও অনুশীলন পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করছেন শিক্ষার্থীরা।

ক্লাস উপস্থিতি ও টিউটোরিয়ালে ৩০ নম্বরের মধ্যে ‘শূন্য’ পাওয়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হলেন মুক্তা বিশ্বাস। গত ১৪ নভেম্বর তার ব্যাচের (২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ) স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এরপর বিভাগীয় সভাপতি বরাবর উপস্থিতি ও টিউটোরিয়াল পরীক্ষার নম্বর পূনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন গণিত বিভাগের ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। পূনর্মূল্যায়ন এই আবেদনের একটি কপি সারাবাংলার হাতে রয়েছে।

ওই শিক্ষার্থীদের দাবি, স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের ফ্লুইড মেকানিকস (কোর্স নম্বর ৪০৯) কোর্সে শতভাগ উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কেউই উপস্থিতিতে (একটি কোর্সে ক্লাস উপস্থিতিতে ১০ নম্বর) পূর্ণ নম্বর পাননি। যদিও বাকি কোর্সগুলোতে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিতিতে পূর্ণ নম্বর পেয়েছেন। এছাড়া ভালো পরীক্ষা দিয়েও অন্যান্য কোর্সের তুলনায় এই কোর্সটিতে সব শিক্ষার্থী টিউটোরিয়ালে কম নম্বর পেয়েছেন



শিক্ষার্থীরা বলছেন, কোর্স শিক্ষক অধ্যাপক জেসমীন আখতার ‘ব্যক্তিগত ক্ষোভ’ থেকে সবার নম্বর কমিয়ে দিয়েছেন। এমনকি মুক্তা বিশ্বাসের ওপর ক্ষোভ থাকায় তিনি টিউটোরিয়াল ও ক্লাস উপস্থিতির মোট ৩০ নম্বরের মধ্যে ‘শূন্য’ দিয়েছেন। যে কারণে মুক্তা বিশ্বাস চূড়ান্ত পরীক্ষায় অন্যান্য কোর্সে কৃতকার্য হলেও ৪০৯ কোর্সটিতে অকৃতকার্য হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক জেসমীন আখতার বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা মিসটেক। আমি এরই মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর সংশোধনী পাঠিয়ে দিয়েছি।’

অন্যান্য কোর্সে উপস্থিতিতে পূর্ণ নম্বর পেলেও আপনার কোর্সে কোনো শিক্ষার্থীই পূর্ণ নম্বর পাননি কী কারণে— এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক জেসমীন বলেন, ‘সব ক্লাসে হয়তো উপস্থিত ছিল না। এজন্য পূর্ণ নম্বর পায়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমি বরাবরই শিক্ষার্থীদের বেশি নম্বর দিয়ে থাকি। আমার সহকর্মীরা মাঝে মাঝে বলে থাকেন, আপনি কেন এত নম্বর দেন। এবারই প্রথম আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনছি যে আমি নম্বর কম দিয়েছি



তবে কথার একপর্যায়ে মুক্তা বিশ্বাস প্রসঙ্গে অধ্যাপক জেসমীন বলেন, চতুর্থ বর্ষে তার কোর্সের একটি ক্লাসে মুক্তা বিশ্বাস অন্যের হয়ে উপস্থিতি দেন। মুক্তা বিশ্বাস তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় তিনি তা হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তবে ওই দিন বারবার জিজ্ঞাসা করলেও মুক্তা নিজের পরিচয় গোপন করেন এবং যার পরিবর্তে তিনি পরীক্ষা দিচ্ছেলেন, তার নামকেই নিজের নাম হিসেবে উপস্থাপন করেন। পরে ক্লাসের অন্য শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাইলে তারাও মুক্তার প্রকৃত পরিচয় এড়িয়ে মিথ্যা পরিচয় দেন শিক্ষকের কাছে।

অধ্যাপক জেসমীন বলেন, ‘আমি অন্যায় একেবারেই সহ্য করতে পারি না। এখন তো ছেলেমেয়েরা মাঝেমাঝেই অন্যের হয়ে উপস্থিতি দেয়। তবে আমি বলি, এটা করার দরকার নেই। আমি তোমাদের নম্বর বেশি দিয়ে দেবো।’

তিনি আরও বলেন, আমি আমার কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে টিউটোরিয়াল ও উপস্থিতির নম্বর প্রকাশ করি। কিন্তু সেসময় বা তার পরে সে আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি। পরে আমি ভুলে সেটা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকে পাঠিয়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে গণিত বিভাগ ৪৩ ব্যাচের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ সাব্বির আহমেদ এবং গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. শরিফ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণিত বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ফ্লুইড মেকানিকস কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষার কিছুক্ষণ আগে ওই কোর্সের টিউটোরিয়াল ও উপস্থিতির নম্বর প্রকাশ করা হয়। প্রত্যাশিত নম্বর না পাওয়ায় তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রে অধ্যাপক জেসমীন আখতারকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন। তবে সে সময় তিনি ‘ফলাফল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকে পাঠানো হয়ে গেছে, এখন আর কিছু করার নেই’ বলে মন্তব্য করেন বলে দাবি করেন ওই শিক্ষার্থী।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জাবি প্রতিনিধি

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা