non-gov

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকরা স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করতে আরো সময় দবি করেছেন। স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে বর্তমান সরকারের দু’মেয়াদে এ পর্যন্ত ছয়বার সময় দেয়া হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর সর্বশেষ দেয়া সময়ও শেষ হওয়ার পথে। সরকারের বেঁধে দেয়া সময় শেষ হবার আগ মুহূর্তে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের সংগঠন ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সময় বাড়ানোর দাবিসহ আট দফা দাবি করেছেন।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সঙ্গে সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করেন। বৈঠকে ৮ দফা দাবি সম্বলিত একটি লিখিত স্মারকলিপি সচিবের কাছে দিয়েছেন বলে সমিতির চেয়ারম্যান নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্রে আরো জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে ব্যাংক থেকে ঋণ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে নিবন্ধিত জমি বন্ধক রাখার অনুমতি দাবি করেছে। এছাড়া বছরে দুটির পরিবর্তে তিন বা ততোধিক সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ চায় তারা। তাদের দাবির মধ্যে আরো রয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সলর, ট্রেজারার নিয়োগ ও অনুমতি দানের প্রক্রিয়া সহজতর করা। বর্তমানে প্রতিটি পদের জন্য তিনজন করে নামের প্রস্তাব পাঠানোর বিধান রয়েছে। তা থেকে যোগ্য বিবেচিত একজনকে অনুমোদন দেয়া হয়ে থাকে মন্ত্রণালয় থেকে। ভিসি প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে নামেরই প্রস্তাব করা হবে, তারই অনুমোদন দাবি করা হয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমসহ নানা বিষয় নিয়ে তদন্ত করতে একটি সংসদীয় সাব-কমিটি গঠন করে। সাব-কমিটির কার্যক্রম নিয়েও আপত্তি তুলেছে সমিতি।

বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘ব্যাংক ঋণ’ না পেলে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করবে কী দিয়ে ? আমরা আটদফা সুপারিশ করেছি। সচিব মহোদয়, আমাদের সুপারিশগুলো ধৈর্য সহকারে শুনেছেন। কিছু কিছু সুপারিশের ব্যাপারে লিখিত প্রস্তাব পাঠাতেও বলেছেন।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এগারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সব শিক্ষাকার্যক্রম স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরে ব্যর্থ হলে আগামী ১ জানুয়ারী থেকে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিচালিত শিক্ষাকার্যক্রমে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখার আলটিমেটাম শেষ হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির নেতারা রোববার শিক্ষা সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎকরলেন।

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, ওই ১১ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় দু’যুগ আগে অনুমোদন-অনুমতি পেলেও এখন পর্যন্ত নিজস্ব ও স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তুলেনি। গত ১৬ আগস্ট ১১ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটিকে পৃথক পৃথক চিঠি দিয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে অনুমোদিত শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়।

গত ৭ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী-সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণাঙ্গ কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাল-হকিকত নিয়ে গঠিত যৌথ কমিটি গত ৩০ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়ের কাছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই গত ১৬ আগস্ট ১১ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে চিঠি দেয়া হয়।

সর্বশেষ আল্টিমেটাম দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে- স্টেট ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, শান্তা-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি, ইউল্যাব ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে অবশ্য ৮৪টিতে শিক্ষাকার্যক্রম চালু হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সাতবছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করার বিধান রয়েছে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা