Editorial

১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এই ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন কারাগারে আছেন। দুজন পলাতক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য কায়কোবাদসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ হয়েছে। যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া ১৯ আসামির মধ্যে ১৩ জনই পলাতক।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেদিনের হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। আইভি রহমান ৫৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ আগস্ট মারা যান। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ জনে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া দল আওয়ামী লীগের ওপর এটাই ছিল সবচেয়ে বড় আঘাত। আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তখন ছিলেন বিরোধী দলের নেতা। আওয়ামী লীগের অভিযোগ, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল সব আলামত। বিএনপি আমলে ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে। ২০০৭ সালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই গ্রেনেড হামলার বিচার শুরু হয়। নতুন করে তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে থাকে নতুন তথ্য। ২০০৮ সালের জুনে বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তাঁর ভাই তাজউদ্দিন, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৬১ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার অধিকতর তদন্ত শুরু করে। ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

রায়ের পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এক প্রতিক্রিয়ায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রায়ে আওয়ামী লীগ অখুশি না হলেও তারেক রহমানের সর্বোচ্চ সাজা না হওয়ায় সন্তুষ্ট নয়।

অন্যদিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল ও কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে এলে তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এই নৃশংসতম ঘটনার রায়ের জন্য ১৪ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো রায়ের পর কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে। আইনি সব কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে শেষ করে এই রায় কার্যকর করার জন্য এখন থেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। এই রায়ের পর এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে দেরিতে হলেও ন্যায়বিচার পাওয়া যায়, আইনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা যায় না।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা