sompadokio

পরিবেশদূষণের নানামুখী প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেক শঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নিকট ভবিষ্যতে কী অবস্থা হতে পারে সে সম্পর্কে অনেক সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এই পরিস্থিতি উন্নয়নের কার্যকর কোনো উদ্যোগ কি আমাদের আছে? এবার বিশ্বব্যাংকও তেমন একটি হিসাব দিয়েছে, যা আমাদের নীতিনির্ধারকরা বিবেচনায় নিতে পারেন। গত রবিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, শুধু বায়ুদূষণের কারণে দেশে প্রতিবছর ক্ষতি হয় জিডিপির ১ শতাংশ বা ২৫০ কোটি ডলার। টাকার অঙ্কে দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জানান, সামগ্রিকভাবে পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বছরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির ৪ শতাংশ বা ৮২ হাজার কোটি টাকার মতো। কিন্তু এই ক্ষতি মোকাবেলায় আমরা কী করছি? আর দূষণের সব ক্ষতি কি টাকার অঙ্কে হিসাব করা সম্ভব?

 দেশি ও বিদেশি অনেক সংস্থাই আগেও এমন অনেক হিসাব দিয়েছে। খাত ধরে ধরে ক্ষয়ক্ষতি ও দূষণের পরিমাণ দেখানো হয়েছে। বায়ুদূষণের জন্য প্রধানত দায়ী ইটভাটাগুলো। দূষণের ৫৬ শতাংশই আসে এই উৎস থেকে। ইটভাটাগুলো আধুনিকায়নের বা দূষণ কমানোর কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? কারখানাগুলো অবাধে নদী-জলাশয়ের পানি দূষণ করছে।

বহু কারখানায় বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা বা ইটিপি নেই। যেগুলোতে আছে, তারাও খরচ কমাতে ঠিকমতো ইটিপি ব্যবহার করে না, দূষিত তরল বর্জ্য নদীতে ছেড়ে দেয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঢাকাসহ বড় অনেক শহর পানিতে ডুবে যায়। পচা ও দুর্গন্ধময় আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ে। পানি নামার জন্য উপযুক্ত পয়োব্যবস্থা নেই। নদী-জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামার জায়গাও কমে গেছে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ নদী নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে বর্ষায় বন্যা-জলাবদ্ধতায় ফসলহানি এখন নিয়মিত ব্যাপার। জনজীবনেও এসবের প্রভাব পড়ছে। বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ ও অন্যান্য যান্ত্রিক দূষণের কারণে হৃদেরাগ, স্নায়বিক রোগ, শ্বাসনালির সংক্রমণ, হাঁপানি, অ্যাজমা ইত্যাদি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। পানিদূষণের কারণে চর্মরোগ, পেটের পীড়া, কিডনির রোগও বেড়ে গেছে। মানুষের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণেও বাংলাদেশ নানামুখী ক্ষতির শিকার হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে উপকূলীয় জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। লবণাক্ততা বাড়ছে। চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এর আগে এক গবেষণায় দেখা গেছে, সাগরের নোনা পানি ভূগর্ভস্থ স্তর দিয়ে দেশের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ছে। ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়ার মতো পানি ও পতঙ্গবাহী কিছু রোগ মহামারি আকারে দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এসব কারণে অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশের সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। কিন্তু সেসব ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় আমাদের উদ্যোগ কোথায়?

 প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমরা রোধ করতে পারব না; কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে উদ্যোগ অবশ্যই নিতে পারি। আর পরিবেশদূষণ, যা আমরা নিজেরাই করছি, তা কেন রোধ করতে পারব না? যদি দূষণের কারণেই বছরে লাখো কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাহলে দেশের উন্নয়ন গতি পাবে কী করে? আশা করি, নীতিনির্ধারকরা বিষয়গুলো ভাববেন ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা