editor

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের পরিবারকে চার কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাসের মালিক, চালক ও বীমা কম্পানিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক মিশুক মুনীরের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা মামলার শুনানি ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই রায় ঐতিহাসিক। এই প্রথম হাইকোর্ট সরাসরি শুনানি করে কোনো ক্ষতিপূরণ মামলার রায় দিলেন। তিন মাসের মধ্যে বাস মালিক, চালক ও বীমা কম্পানিকে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই রায়ে আদালতের বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ আছে, যা প্রণিধানযোগ্য। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণের দাবি সবারই থাকা উচিত। আমাদের দেশে মোটর ভেহিকলস অধ্যাদেশ-১৯৮৩ নামে একটি আইন রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী প্রত্যেক জেলা প্রশাসকের অধীনে একটি ট্রাইব্যুনাল থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এই আইন সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই জানে না। এই আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বা নিহতের পরিবার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে পারবে। বাংলাদেশে প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন তো আছেই, চালকদের অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহন চালানোর কারণেই বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সেই বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার দায় চালককেও নিতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে চালকও ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করবে। তা না হলে তারা সতর্ক হবে না। মানতে হবে, যেকোনো দুর্ঘটনা নিছকই দুর্ঘটনা নয়। এসব ঘটনায় অনেক মানুষের দায় ও দায়িত্ব আছে। আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে তাদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাস মালিক, চালক ও বীমা কম্পানি এখন সেই দায়বদ্ধতার বিষয়টি কতটুকু অনুধাবন করতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।

 এর আগেও দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পক্ষে ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ রায় পেয়েছে। ‘সংবাদ’-এর তৎকালীন বার্তা সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মন্টু একটি বহুজাতিক কম্পানির ডেলিভারি ভ্যানের চাপায় নিহত হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাওয়ার পর সর্বোচ্চ আদালতের রায় পরিবারের পক্ষে গেলেও সেই টাকা তাদের হাতে এখনো পৌঁছেনি। তারেক মাসুদ নিহত হওয়ার ঘটনায় আদালত থেকে যে রায় পাওয়া গেছে, তা ঐতিহাসিক। কিন্তু ক্ষতিপূরণের টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। বাস মালিক, বীমা কম্পানি ও বাস চালক কি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে!



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা