dewangonj-chini-kal

৬০ বছরের পূঞ্জীভূত ৩০৮ কোটি ৭২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে জিলবাংলা চিনিকলটি ৬১তম আখ মাড়াই শুরু হয়েছে।
১৩৫ কার্যদিবসে এক লক্ষ ১৭হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৯ হাজার ৩৬০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে ৮.০০ শতাংশ। শুক্রবার বিকাল ৩টায় চিনি কলের ডোঙায় আখ ফেলে ২০১৮-১৯ আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্ভোধন করেন প্রবীন আখ চাষী আলহাজ্ব দলিলুর রহমান ও কারাখানা প্রবীন শ্রমিক মুন্জরুল হক।
মিল সূত্রে জানা যায়,১৯৫৮সালে মিলটি পরিক্ষা মূলক উৎপাদন শুরু করে। মিলটি মাড়াই ক্ষমতা বছরে ১০হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু শুধু আখের অভাবে মিলটি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। ৬০টি মাড়াই মৌসুমের মধ্যে লাভের মুখ দেখেছে ১৬ আর লোকসান হয়েছে ৪৪ মাড়াই মৌসুমে।ক্রটি পূর্ণ শিল্প নীতি ও আখ কেনার সঙ্গে চিনি বিক্রয়ের সামঞ্জস্য না থাকায় মিলটিতে লোকসানের অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে।
এদিকে সিবিএ নেতারা সরকার ঘোষিত এ লাভ-ক্ষতির হিসাব মানতে রাজি নয়। সিবিএ সভাপতি বিলাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম জানান, মিলটি স্থাপনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২কোটি টাকা। অথচ জিলবাংলা চিনিকল স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত সরকারকে বিভিন্ন কর ও ভ্যাট বাবদ পরিশোধ করেছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।এছাড়াও মিলটি গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে ও শিক্ষা খাতে যথেষ্ঠ অবদান রাখছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটিকে লোকসানি হিসাবে দেখানো হচ্ছে।
মিল সূত্রে আরো জানা যায়,চিনি কলের ১০ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত অবস্থায় এখনো গুদামে পড়ে রয়েছে। ২০১৭-১৮ মাড়াই মৌসুমে ১০২ দিবসে ৮৩ হাজার ৩৫৩ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৫হাজার ৬০৮দশমিক ৫০মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়। কিন্তু ২০নভেম্বর পর্যন্ত ২হাজার মেট্রিক টন চিনি বিক্রি করা হয়েছে। আর চিনি অবিক্রিত রয়েছে ৩হাজার ৬০৮দশমিক ৫০মেট্রিক টন, যায় মূল্য ১০কোটি টাকা।
চিনি কলটির নিজস্ব উৎপাদিত চিনির পাইকারি বিক্রয় মূল্য কমিয়ে সর্বশেষ কেজি প্রতি ৫০টাকা পুনঃ নির্ধারণ করলেও এ চিনির কোন ক্রেতা মিলছেনা। দেশের বেসরকারি কোম্পানি গুলোর চিনির দাম কম হওয়ায় বিক্রি করে লাভ বেশি হওয়ায় ব্যবসায়িরা চিনি কলের চিনি তুলতে আগ্রহী হচ্ছেন না। চিনি ঠিক মতো বিক্রি না হওয়ার যথা সময়ে শ্রমিক,কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন বাতা পরিশোধ করতে হিম শিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতি ৪/৫ মাস পর পর ৪মাসের বেতন বকেয়া রেখে এক মাসের বেতন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এরকম অবস্থা চলছে কয়েক বছর ধরে ।এছাড়া চিনি বিক্রি না হওয়ায় শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করে চিনি কলটিকে চালিয়ে রাখতে হচ্ছে। ফলে শ্রমিকরা সময় মতো তাদের বেতন ভাতা ঠিক সময়ে পাচ্ছে না। এ বিপুল পরিমান চিনি দীর্ঘ দিন গুদামে পরে থাকায় গলতে শুরু করলে আরো ঘাটতি আশংকা রয়েছে।
জানা যায়,আনদানি তীর,ফ্রেম,ঈগলসহ বিদেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চিনি পাইকারি মূল্য ৪৮টাকা দরে বেচা কেনা চলছে।বিদেশেী আমদানি করা এ চিনি সংশ্লিষ্ট আমদানি কারকরা পাইকারি ব্যাবসায়িদের বিপনি কেন্দ্রে বাকিতে পৌঁছে দিচ্ছে। বিদেশী আমদানি কারকরা ওই চিনি তুলনা মূলক ভাবে কেজি প্রতি ২টাকা কম ।এ ছাড়া বাকি মূল্যপ্রাপ্তি এবং বিক্রেতাদের স্ব স্ব বিপনি কেন্দ্রে পৌছে দেওয়ার সুবিধাসহ ইত্যাদি কারনে বিদেশী চিনিতে বাজার ছয়লাভ রয়েছে।
জিলবাংলা চিনি কলের উৎপাদিত চিনির গুণগতমান তুলনামূলক ভাবে ভালো হওয়ার পরেও বেসরকারি এ রিফাইনিং মিল গুলো মুক্ত বাজার অর্থ নীতির সুযোগে সরকারের নির্ধাারিত দরের চেয়ে কম দামে বাজারে চিনি বিক্রি করছে।
এ ফলে বাজারে রাষ্ট্রায়ত্ব চিনি কল গুলোর উৎপাদিত চিনির ক্রেতা নেই। চিনি শিল্পের সদর দপ্তর খোলা বাজারে চিনি বিক্রির অনুমতি দিলেও ক্রেতা নেই। সম্প্রতি সরকার কর্তৃক প্রতি কেজি চিনি মিল রেট পর্যায় ক্রমে ১৫টাকা কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও জিলবাংলা চিনি কলের চিনি অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে।
জিলবাংলা চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম নুরুল হুদা জানান,আজ শুক্রবার বিকালে আখ মাড়াই শুরু হয়েছে। আগের মাড়াই মৌসুমের চিনি বিক্রি না হওয়ায় টাকা-পয়সার সংকট চলছে।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / মশিউর রহমান টুটুল (প্রতিনিধি)

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা