babul

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও-পাগলা) আসনে মাঠে প্রচার প্রচারণা শুরু  করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আসন থেকে এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকায় পোস্টার, ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষে নিজেদের পাল্লা ভারী করতে চালাচ্ছেন নানা কর্মকান্ড। আসনে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল তার পক্ষে শোভাকাঙ্খিরা ইতোমধ্যেই  নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ শুরু করছেন। এর মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছেন তিনি।

ময়মনসিংহ জেলার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারি মানুষটির নাম এক বাক্যে বলে দেয়া যায়, সেই প্রিয় নাম এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। যার ধমনী শিরা উপশিরায় মুজিব আদর্শের স্রোত ধারা। জন নন্দিত মানুষটি অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে লড়াই সংগ্রামের পর আজকের এই অবস্থানে এসে বটবৃক্ষ থেকে মহিরুহে পরিণত হয়েছেন।

জন্ম গফরগাঁও উপজেলার বর্তমান পাগলা থানধীন নিগুয়ারি ইউনিয়নের সাদূয়া গ্রামের এক সম্ভ্রন্ত মুসলিম পরিবারে। প্রগতিশীল এই রাজনীতিবিদকে ময়মনসিংহের সকলেই জানেন একজন নিরহঙ্কারি, বিণয়ী, প্রতিশ্রুতিশীল মানুষ হিসেবে। রাজপথে, মিছিলে, আর অণলবর্ষী বক্তার তকমা যার ললাটে তিনি আজ আপামর জনতার প্রিয় মুখ  মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল।

ছাত্র রাজনীতির পাঠ নিয়েছেন ১৯৭২ সালে ময়মনসিংহ মৃত্যুঞ্জয় স্কুলের সপ্তম শেণেীর ছাত্র অবস্থায়। এরপর শহর ছাত্রলীগ হয়ে দশম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় সকলের মনযোগের কেন্দ্র হয়ে উঠা কিশোর ছাত্রটি নির্বাচিত হয় জেলা ছাত্রলীগের সদস্য পদে। শিক্ষা নগরী ময়মনসিংহের অন্যতম বিদ্যাপীঠ আনন্দমোহন কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হয়ে নিজেকে নিয়ে যান ছাত্র রাজনীতির অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বভার পালন করেছেন সফলতার সাথে। তারপর হলেন ইতিহাস। সময়ের সাথে সাথে আরো পরিণত ও পরিপক্ক হয়ে উঠলেন।

১৯৭৫’এ জাতির জনকের শোকাবহ মৃত্যু হিম শীতল বরফ করে দেয় চিন্তা চেতনার স্তরকে। বহমান স্রোতধারায় মানুষের জীবন গাঁথা। পাথর সময় পেরিয়ে নিজেকে আরো মেলে ধরলেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ময়মনসিংহের রাজপথ উত্তাল করে রাখলেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ময়মনসিংহে স্বৈরশাহীর আতঙ্কের নাম ছিল মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। চোখের সামনে পেটুয়া পুলিশ বাহিনীর তপ্ত বুলেট প্রাণ কেড়ে নেয় রাজপথের সহযোদ্ধা শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীরের। ময়মনসিংহে ছাত্র-জনতাকে নিয়ে আস্পাত কঠিন শপথ নিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। দুই শহীদের রক্তের প্রতিশোধ আর না নিয়ে ঘরে ফিরে যাবেন না। একটানা রাজপথ, রেলপথ অবরোধ করে টানা সংগ্রাম শেষে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয় উৎসর্গ করে ঘরে ফিরলেন সময়ের সাহসী ছাত্র নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল।

জীবনের দশটি বসন্তের কোনো না কোনো সময় কাটিয়েছেন কারগারের অন্ধকার প্রকৌষ্ঠে। জেল জুলুম হুলিয়া আর নির্যাতন মাথায় নিয়ে মুজিব আদর্শের ঝান্ডা তোলে ধরেছেন এই মানুষটি। পুলিশের লাঠি, গুলি, টিয়ার গ্যাস উপেক্ষা করে রাজপথ প্রকম্পিত করে সমুজ্জল রেখেছেন নিজেকে। রাজনীতির পথ চলায় সংগঠনের দায়িত্ব লাভ করেন আপন যোগ্যতায়। তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ যে কোন সময়ের চেয়ে সংগঠিত ও শক্তিশালী। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রিয়ভাজন এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আজকের রাজনীতির ময়দানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দুর্দিন দুঃসময়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের তৃঞ্চার জল এই বরেণ্য রাজনীতিক নিজ এলাকায় গণ মানুষের রিদ স্পন্দনে মিশে রয়েছেন। গফরগাঁও উপজেলার উত্তর প্রান্ত দিয়ে বয়ে চলা ব্রহ্মপুত্র নদ দক্ষিণ প্রান্তে শীতলক্ষা নদীতে গিয়ে মোহনায় মিলিত হয়েছে। নদীর জলের ধারোর মতো গফরগাঁও উপজেলার উত্তর দক্ষিণের মহা মিলনের নায়ক হয়ে বেঁচে রইবেন তাদের হ্নদয় মাজারে।

নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন নিজ এলাকার মানুষের সাথে। সর্বোপরি সাধারণ মানুষের আশা ভরসার স্থল হয়ে উঠেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। সন্ত্রাস দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভয় প্রদীপ জ্বেলে আলোর পথ দেখাবেন তিনি, এমনটাই মনে করেন তার জন্মভূমির প্রায় ৬ লাখ মানুষ। তার নেতৃত্বের সদ গুনাবলীগুলো মানুষকে মন্ত্র মুগ্ধের মতো আকৃষ্ট করেছে। দৃঢ়চেতা এই মানুষটি সকলের স্বজন, অতি আপন হয়ে উঠেছেন নিজ ভূমে। নিয়মিত এলাকায় এসে সাধারণের সাথে মিশছেন, ঘুরছেন, পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুখ-দু:খ ভাগাভাগি করে এগিয়ে চলেছেন মৃত্যুঞ্জয়ীর মতো। দুচোখে সোনালী স্বপ্ন নিয়ে মানুষের সুখ সমৃদ্ধির কথা ভাবছেন নিরন্তর। গফরগাঁওয়ের মানুষ মনে করেন এই স্বপ্নবাজ মানুষটির হাত ধরেই আসবে গফরগাঁওয়ের যত মঙ্গল কল্যাণ, উন্নতি অপার সমৃদ্ধি।

কারণ হিসেবে এলাকার সাধারন মানুষ মনে করেন বর্তমান সাংসদ বাবেল গোলন্দাজের রয়েছে সন্ত্রাসী লালন-পালন, মাদক, অবৈধ অস্র ব্যবসা, বিএনপি জামাত প্রীতি, দলীয় নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন, বাড়ী ভাংচুর, মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর,  দুর্নীতিসহ বিস্তর অভিযোগ । জনগন তাকে কখনোই কাছে পায় না। তিনি সব সময় জনগনের ধরাছোয়ার বাহিরে থাকেন। বেশির ভাগ মানুষ তাকে পোষ্টারেই দেখেছেন সরাসরি কখনো দেখেনি বলে জানা যায়। তার আশে পাশের লোকজন ক বছরে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েগেছেন বলে সাধারন জনসাধারনের কাছ থেকে শোনা যায়।

গফরগাঁও উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ২টি থানা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-১০ আসন। গফরগাঁওয়ের নির্বাচনী রাজনীতিতে স্বাধীনতার পর ২ বার এমপি হন আওয়ামী লীগের আবুল হাশেম। এরশাদ আমলে ২ বার এমপি হন জাতীয় পার্টির এনামুল হক জজ মিয়া, ১৯৭৯ ও ১৯৯৬-এর ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির ফজলুর রহমান সুলতান এমপি হন।

অন্যদিকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১-এর নির্বাচনে হ্যাটট্রিক এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগ থেকে আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ। তার মৃত্যুর পর ২০০৮ সালে ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন এবং ২০১৪ সালে ফাহিম গোলন্দাজ বাবেল এমপি হন। সব মিলিয়ে বেশির ভাগ সময়ই গফরগাঁও থেকে বারবার নৌকা বিজয়ী হয়েছে। গফরগাঁও উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলের ৮ ইউনিয়ন নিয়ে পাগলা থানা হয়েছে। গফরগাঁও পৌরসভাসহ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৭ হাজার ৬৩৮। পুরুষ ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৬ ও মহিলা ১ লাখ ৬১ হাজার ১ ভোট।

দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও-পাগলা) উপজেলাকে সকলের সহযোগিতা ও সকলকে সাথে নিয়ে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়তে চান তিঁনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকেই চাইবেন তাকে মনোনয়ন দেবেন। নৌকার প্রতিক প্রার্থী যিনিই হোক না কেন, তিনি তার হয়েই কাজ করবেন।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা