allama ahmad sofi & prime minister at historical sohrawardi garden.jpg

গতকাল আলেম-ওলামায়ে কেরামের শোকরানা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকাল পৌনে ১১টায় তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে উপস্থিত হন। এ সময় সমাবেশের সভাপতি হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী প্রধানমন্ত্রীকে ¯স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে আগতদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। পরে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন।
৪ নভেম্বর, ২০১৮ রোববার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই শোকরানা সমাবেশ শুরু হয়।
দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর সমমান মর্যাদা দেয়ায় সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পরিচালনাধীন আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এই সমাবেশের আয়োজন করেন।
এতে সভাপতিত্ব করছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শোকরানা সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলার মাদ্রাসা থেকে গাড়ি নিয়ে দলে দলে শি¶ক-শি¶ার্থীরা আসেন। সমাবেশস্থল আলেম-ওলামাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়াও পার্কিং জোন ছাপিয়ে সড়কে গিয়ে মিশেছে জন¯্রােত। শোকরানা সমাবেশে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় কওমি শি¶ার্থীদের শোকরানা মাহফিলে প্রধান অতিথিরি বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা জানি স্যোশাল মিডিয়াতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। কাজেই এই অপপ্রচারে কেউ বিশ্বাস করবেন না।”
অপপ্রচার বন্ধে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য ইতোমধ্যে আমরা সাইবার ক্রাইম আইন তৈরি করেছি। কেউ যদি এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার করে, সাথে সাথে সেই আইন দ্বারা তাদের বিচার করা হবে, গ্রেপ্তার করা হবে।”
ধর্মীয় বিষয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিলে কঠোর পদ¶েপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ধর্ম ইসলাম ধর্ম এবং নবী করিম (সা.) সম্পর্কে কেউ কোনো (অবমাননাকর) কথা বললে, আইন দ্বারাই তার বিচার হবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেব না। আইনের মাধ্যমে তাদের বিচার করে উচিত শি¶া দিয়ে দেব, যাতে তারা কোনোভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালাতে না পারে।”
হাতে গোণা কয়েকটি লোক ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে ইসলাম ধর্মের ‘বদনাম দেয়’ মন্তব্য করে সরকার প্রধান বলেন, “আমি যখনই কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যাই, কেউ যদি বলে ইসলামিক টেররিস্ট, আমি সাথে সাথে প্রতিবাদ জানাই। আমি বলি, এটা বলতে পারবেন না। কারণ সবাই টেররিজমে বিশ্বাস করে না। বা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না।
“যারা সন্ত্রাসী তাদের কোনো ধর্ম নাই। তাদের কোনো দেশ নেই, তাদের কোনো সমাজ নাই। তারা হচ্ছে সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী। যারা সত্যিকার ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে, তারা কখনো সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী হতে পারে না।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের শাস্তি বিঘিœত হোক তা আমরা চাই না। দেশে শান্তি থাকলেই উন্নতি হবে। উন্নতি থাকলে সবাই লাভবান হবে।”
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন প্রধান অতিথি। এসময় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার পর তাঁর হাতে শুকরিয়ার স্মারক তুলে দেন আহমদ শফী।
আল্লামা আহমদ শফি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অবদান ইতিহাসে ‘সোনালি অ¶রে’ লেখা থাকবে।
সনদের ওই ¯স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেন ওই সংস্থার সদস্য মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনি ‘কওমি জননী’। আপনি না থাকলে সাহাবা ও আলেম-ওলামাবিরোধী জামায়াত-মওদুদীবাদীরা এটা হতে দিতো না।”
এসময় কওমি মাদ্রাসার আলেম ওলামায়েকেরামগণের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, ¯স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/টি

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা