uttara awamileague

রোববার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আমির কমপ্লেক্সের সামনে আগামী জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে দলের সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির শেষ দিনে লিফলেট বিতরণ পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।


আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান।


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের মানুষ বিএনপি জামায়াতের আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস, নাশকতা ও সহিংসতাকে পছন্দ করে না। তারা নির্বাচন বানচাল ও সরকার পতনের আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস ও নাশকতা করেছে এবং পেট্রোল বোমা মেরে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। তাই জনগণ কখনো বিএনপিকে বিশ্বাস করবে না। বিএনপি দেশের একটি গুজব সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দল। তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবীতে আন্দোলনের সময় ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চলানো হয়েছিল বলে গুজব ছড়িয়েছিল।


তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলেও তারা গুজব ছড়িয়েছিল। কিন্তু বিএনপির নেতারা যখন জাতিসংঘে যান, তখন জাতিসংঘ মহাসচিব এক বিশিষ্ট ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে ঘানায় অবস্থান করছিলেন। জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণপত্র নিয়ে যারা দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে তাদের কাছে দেশ, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন কখনো নিরাপদ থাকতে পারে না।


বিএনপি নির্বাচন বানচালের নামে আবার সন্ত্রাস ও নাশকতা করতে চাইলে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিহত করতে পারবেন কিনা প্রশ্ন রেখে কাদের বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের যে কোন ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা জনগনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করার জন্য আপনাদের প্রস্তত থাকতে হবে।’


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ক্ষমতা পরিবর্তনে নির্বাচনের বিকল্প না থাকায় বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। জনগন বিএনপিকে বিশ্বাস করবে না। বিএনপি দেশের একটি গুজব সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দল।


তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতার পরিবর্তন চায়। কিন্তু ক্ষমতার পরিবর্তন হতে হলে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। ক্ষমতার পরিবর্তন চাইলে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে।’


আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আমলনামা রয়েছে। যারা জনগণের কাছে গ্রহনযোগ্য তারাই মনোনয়ন পাবেন। ‘তবে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে যিনি বিদ্রোহ করবেন তাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো ক্ষমা করবেন না। দলে আর কখনো তার জায়গা হবে না।’

সমাবেশ শেষে ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে আশে-পাশের বিভিন্ন বিপনী বিতানে সরকারের উন্নয়ন ও অর্জন এবং বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাস ও নাশকতা নিয়ে তৈরি লিফলেট বিতরণ করেন।


আওয়ামী লীগের সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচীর আজ ছিল শেষ দিন। গত ১ অক্টোবর সোমবার রাজধানীর গুলশানের ২নং গোলচক্কর কাঁচাবাজারের সামনের সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে গণসংযোগ কর্মসূচী শুরু করা হয়। আজ উত্তরার আজমপুরের এ কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচী শেষ হয়। এই ৭ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ২৫টি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির খবর কী? আছে? অক্টোবর কবে হবে? আগস্ট মাসে বলে একমাসের কথা। সেপ্টেম্বর মাসে বলে এক মাসের কথা। সেপ্টেম্বর গেল, এখন বলে এক মাসের মধ্যে আন্দোলন হবে। দেশের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে, বিশ্বাস করে মানুষ? বহুরূপী ব্যারিস্টারের কথা মানুষ কী বিশ্বাস করে?’


তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির এখন মূল ক্যাপিটাল হচ্ছে গুজব সন্ত্রাস। সাইবার অ্যাটাক বন্ধ করতে হবে স্লোগান দিলে হবে না। এই যে গুজব, আওয়ামী লীগ অফিসের নামে। এক মহিলাকে কালো কাপড় পরিয়ে মহিলা চিৎকার করে বলছে, ভিডিও পোস্টিংয়ে আমাকে আওয়ামী লীগ অফিসে রেপ করা হচ্ছে, আমাকে বাঁচান। এই সকল অপকর্ম কে করেছে? ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে চার মহিলা নাকি আটক। পরে আন্দোলনকারী ছেলেরা গিয়ে দেখলো হদিস নেই। মিথ্যা কথা প্রচার হচ্ছে, এই অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে।’


ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখের আগে যেকোনো দিন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারে। সেটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। আপনারা প্রস্তুত হোন, অক্টোবর মাসে আমরা মনোনয়ন পর্ব শুরু করে দিয়েছি। অক্টোবর মাসে কোনো অন্তর্র্বতীকালীন, নির্বাচনকালীন সরকার হবে না। সরকার যেটা আছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই সরকারই থাকবে। তবে সরকার তখন রুটিন ওয়ার্ক করবে। সরকারের দায়িত্বে এরিয়া বদলে যাবে। মেজর দায়িত্ব থেকে সাধারণ দায়িত্ব, রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। হয়তো সাইজটা একটু ছোট হবে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে হতে পারে।’


আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খবর পেয়েছেন? আন্দোলন ১০ বছরে হয় নাই, ১০ মাসে হবে? ২০টা ঈদ চলে গেছে। ঈদ এলে বলে রোজার ঈদের পর, কোরবানির ঈদের পর। দেখতে দেখতে ২০টা ঈদ চলে গেল। আরেকটা ঈদ তো নাই, কাজেই ২০১৯ সালের প্রথম রোজার ঈদের পরে বিএনপি আন্দোলনের পরিকল্পনা করতে পারে। তার আগে আর ঈদ নেই, আন্দোলনও হবে না। ঈদ সামনে না এলে তো তারা তারিখ দিতে পারে না। দেখতে দেখতে ১০ বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর? দেখতে দেখতে ১০ বছর, মানুষ বাঁচে কত বছর?’


দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, ‘যারা দলীয় মনোনয়নের বিরোধিতা করবেন, এবার বঙ্গবন্ধু কন্যা কাউকে ক্ষমা করবেন না। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, শোডাউন করে যারা মনোনয়ন দাবি আদায় করবেন, নিজের পছন্দমতো প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান দিয়ে দাবি আদায় করবেন-সেই ধারণা যারা করছেন, শোডাউনে কারো নমিনেশন হবে না। শোডাউনের নামে যারা বিশৃঙ্খলা করবে, তাদের নম্বর কাটা যাবে। কয়েকটা সংস্থা এখানে মনিটরে আছে, কারা কি করছে সব দেখছি। প্রার্থীদেরকে বলবো, সমর্থকদের থামান। না হলে কিন্তু আপনার নম্বর কাটা যাবে।’


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মীরা গত সাত দিন ২৫টি সমাবেশ করেছি এই নগরীতে। হাজার হাজার জনতার ঢল, কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা হয় নাই। এটা একটা ভদ্র এলাকা, আমি ভেবেছিলাম উত্তরায় সুশৃঙ্খল একটা সভা হবে। আমি আবারও বলছি শেষ পযন্ত কর্মীদের প্রমাণ করতে হবে যে আমরা একটা সুশৃঙ্খল দল। এই ব্যানার, এই পোস্টার, এই সব বিলবোর্ড দেখে মনোনয়ন হবে না। মনোনয়ন হবে জনমতের ভিত্তিতে। শেখ হাসিনার কাছে সব প্রার্থীর আমলনামা জমা আছে।’


আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সামনে আরও ২০/২৫ দিন সময় আছে। নম্বর যাদের ভালো আছে, ক্যাডারের জন্য নম্বর কিন্তু কমবে। যেই নেতা ক্যাডারের কথায় চলে ওই নেতার আমাদের দরকার নাই। মশারির মধ্যে মশারি চলবে না। ঘরের মধ্যে ঘর করলে চলবে না। ঠিকঠাক মতো চলেন, চাঁদাবাজদের, দখলদারদের প্রশ্রয় দিবেন না। চাঁদাবাজের জায়গা আওয়ামী লীগে নেই।’


‘আমি জনগণকে বলি, এখানে যারা অপকর্ম করে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির অফিসে টেলিফোন করে নালিশ করবেন, আমরা বিচার করবো। রাজনীতি করি মানুষের জন্য, সেই নেতা যে মানুষকে ভালোবাসে। সেই নেতা যাকে মানুষ ভালোবাসে। এটা বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি, এটা শেখ হাসিনার রাজনীতি। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নাই। তাফালিং করার পরিণতি ভালো নয়, তাফালিং ছাড়ো। ক্ষমতার দাপট দেখাবে না। ক্ষমতার অহংকার মানুষ পছন্দ করে না।’


সময় আরও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক অঅব্দুস সোবহান গোলাপ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: হাবিব হাসান, সহসভাপতি আলহাজ মো: নাজিম উদ্দিন, সহসভাপতি বীরমুক্তিযোদ্বা মফিজ উদ্দিন বেপারী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, দক্ষিণখান আদর্শ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্বা এস,এম,তোফাজ্জল হোসেন, যুব মহিলালীগের সভানেত্রী নাজমা আক্তার, মহিলা নেত্রী ফজিলাতুনন্নেছা ইন্দ্রিরা, লিলিমা আক্তার লিলি,উত্তরা পূর্ব থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্বা মো: কুতুব উদ্দিন আহমেদ, দক্ষিণখান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট মো: আবু হানিফ, তুরাগ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এমডি হালিম, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন রবিন, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ সিদ্দিকী কাক্কা, উত্তরা ১ নং ওয়ার্ড কমিশনার ও আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ মো: আফসার উদ্দিন খান, উত্তরখান থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ মো: কামাল উদ্দিন, তুরাগ থানা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মো: নাজিম উদ্দিন, মো: নুরুল ইসলাম মোল্লা সুরুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমানগনি ট্রফি,ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মামুন সরকার, মহানগর যুবলীগ নেতা ডি,এম শামীম, তুরাগ থানা যুবলীগের আহবায়ক বাবু নিত্য চন্দ্র ঘোষ, যুগ্ম আহবায়ক নাসির উদ্দিন নাসিম, বৃহত্তর উত্তরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো: সাইদুল ইসলাম সোহেল, যুবলীগের সহসম্পাদক আবুল কালাম রিপন, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রুমা আজাদ, মহিলা নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস, সুলতানা পপি, তুরাগ থানা যুবলীগ নেতা মাসুদ রানা জালাল, হারুন অর রশীদ, তুরাগের হরিরামপুর ইউনিয়ন এর সাবেক ৫ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগের সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / এস,এম,মনির হোসেন জীবন

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা